'ছেলের পক্ষ নিচ্ছি না, মেয়েটির উপর হওয়া অত্যাচারের বিচার চাই!', প্রহ্লাদের স্মৃতি বুকে আগলে কান্নায় মা
স্কুলজীবনে এনসিসি প্রশিক্ষণও নিয়েছিল সে। কিন্তু নাবালিকা খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিসের গুলিতে মৃত্যু হয় তার। ছেলের মৃত্যুর পর এনসিসির পোশাক ও সার্টিফিকেট বুকে আগলে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা রেখা দাস।
মনোজ মন্ডল: ছেলের স্বপ্ন ছিল খাকি উর্দি পরে পুলিস হওয়ার। দেশের আইন রক্ষা করার ইচ্ছা ছিল প্রবল। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুলজীবনে এনসিসি প্রশিক্ষণও নিয়েছিল প্রহ্লাদ দাস। অথচ শেষ পর্যন্ত পুলিসের গুলিতেই মৃত্যু হল সেই ছেলের। গাইঘাটার এনকাউন্টারের ঘটনায় প্রহ্লাদের মৃত্যুর পর এখন ছেলের এনসিসির পোশাক ও সার্টিফিকেট বুকে আগলে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা রেখা দাস। একসময় যে পোশাক ছেলের স্বপ্নের কথা মনে করিয়ে দিত, আজ সেটাই তাঁর কাছে ছেলের স্মৃতি।
গাইঘাটায় নাবালিকা খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রহ্লাদকে। তার বিরুদ্ধে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য রাতে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিস। পুলিসের দাবি, শৌচকর্মের কথা বলে গাড়ি থামানোর পর প্রহ্লাদ পুলিসের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা গুলি চালায় পুলিস। তাতেই মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের। যদিও পুলিসের এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মৃতের পরিবার।
আরও পড়ুন, দিল্লি গিয়েই কাটাতে হবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জট, উন্নয়নে গতি আনতে সচিবদের কড়া নির্দেশ
প্রহ্লাদের মা রেখা দাসের বক্তব্য, ছেলে অন্যায় করে থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত। নাবালিকার উপর অত্যাচার ও খুনের অভিযোগের বিচারও তিনি চান। তবে পুলিসের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর দাবি মানতে পারছেন না তিনি। তাঁর প্রশ্ন, এত পুলিসকর্মীর উপস্থিতিতে কীভাবে ছেলে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিল? ছোটবেলায় প্লাস্টিকের বন্দুক হাতে নিতেও ভয় পেত প্রহ্লাদ, দাবি মায়ের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কলেজে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল প্রহ্লাদ। পাশাপাশি এনসিসি প্রশিক্ষণও নিয়েছিল সে। প্রশিক্ষণে ভালো ফলের জন্য তার সার্টিফিকেটও রয়েছে বাড়িতে। সংসারে আর্থিক সংকট দেখা দিলে বাবার সেলুনের কাজে হাত লাগিয়েছিল প্রহ্লাদ। অসুস্থ মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সংসারের দায়িত্বও সামলাত সে। কয়েক মাস আগে নতুন করে দোকান খুলেছিলেন তার বাবা রামপ্রসাদ দাস।
মায়ের দাবি, ঘটনার দিন প্রহ্লাদ মদ্যপান করেছিল বলে নিজেই তাঁকে জানিয়েছিল। থানায় ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রহ্লাদ তাঁকে বলেছিল, সে কী করে ফেলেছে, তা নিজেও বুঝতে পারছে না। তবে ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, তিনি ছেলের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন না; তিনি চান প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং দোষীরা শাস্তি পাক। ভবিষ্যতে যেন আর কোনও পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। একদিকে নাবালিকা খুনের অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিসের গুলিতে প্রহ্লাদের মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন, সব মিলিয়ে শোকের ছায়া পরিবারে।
আরও পড়ুন, দুর্ঘটনার পর আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন টোটো চালক, তারপরই উধাও...!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)