একসময় সামলেছে প্রশাসনিক দায়িত্ব, এবার ধর্ষণের অভিযোগে পুলিসের জালে তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান
TMC Leader Arrest: ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন প্রধান শংকর লায়া। গত সেপ্টেম্বর মাসে অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই সে পলাতক ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে ওড়িশার চাঁদিপুর থেকে তাকে পাকড়াও করে সবং থানার পুলিস।
ই গোপী: একসময় ছিল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। সামলেছে এলাকার প্রশাসনিক দায়িত্ব। সেই তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানই এবার ধর্ষণের অভিযোগে পুলিসের জালে! পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে এই গ্রেফতারির ঘটনা ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ চালানোর পর শেষ পর্যন্ত ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত শংকর লায়াকে। সোমবার গভীর রাতে ওড়িশার চাঁদিপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে সবং থানার পুলিসের একটি দল।
ধৃত শংকর লায়া সবং ব্লকের ৩ নম্বর দাঁররা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। তার বাড়ি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কলসবাড় গ্রামে। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর পঞ্চায়েত প্রধানের দায়িত্বে ছিল সে। স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে এক মহিলা প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান শংকর লায়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে সবং থানার পুলিস। কিন্তু অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তের খোঁজ মিলছিল না বলে পুলিস সূত্রের দাবি। তদন্তকারীরা তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। বিভিন্ন সূত্র ধরে খোঁজখবর চালানোর পর শেষ পর্যন্ত ওড়িশার চাঁদিপুর থানা এলাকায় তাঁর অবস্থানের সন্ধান মেলে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসপাতালেই বিচারাধীন বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু! গ্রেফতারির দুদিনেই রহস্য পরিণতি
অভিযুক্তের সন্ধান পাওয়ার পরই তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেয় সবং থানার পুলিস। পুলিস সূত্রে খবর, সোমবার গভীর রাত প্রায় ১২টা নাগাদ চাঁদিপুর থানা এলাকায় অভিযান চালায় সবং থানার একটি দল। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় শংকর লায়াকে। নির্যাতিতার অভিযোগের পর দীর্ঘদিন ধরে যাকে খুঁজছিল পুলিস, শেষ পর্যন্ত ভিন রাজ্য থেকে তাঁর গ্রেফতারি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার ধৃত প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে তোলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে চার দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিস।
অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা বলে জানা গিয়েছে। তবে পুলিস হেফাজতের আবেদনের বিষয়ে আদালত কী নির্দেশ দিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাক্তন প্রধানের গ্রেফতারিতে সবংয়ের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল। একসময় যে ব্যক্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের আসনে বসে এলাকার প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেই ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ! বিষয়টি সামনে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: চার বছরের শিশুর প্রাণ কাড়ল ভুল চিকিৎসা! ভুয়ো ডাক্তারের পর এবার পুলিসের জালে অ্যানাস্থেটিস্ট
তবে অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কিংবা ধৃত প্রাক্তন প্রধানের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। এখন প্রশ্ন একাধিক। অভিযোগের পর এত দিন কোথায় ছিলেন প্রাক্তন প্রধান? তদন্তে আর কী তথ্য উঠে আসবে? ভিন্রাজ্য থেকে গ্রেফতারির পর সবংয়ের এই ঘটনায় তদন্তকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশের দিকেই নজর স্থানীয় মহলের।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)