রাজ্য সরকারি কর্মীরা এবার থেকে পাবেন অগ্রিম বেতন: ৫০% মাইনে আগে নিতে পারবেন-- নবান্নের নতুন নিয়মে কার কত লাভ? কবে থেকে চালু?
West Bengal Govt Employee advance salary scheme: রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য নবান্ন চালু করল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম’। বেতনের ৫০% সুদহীন স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুবিধা মিলবে। জানুন আবেদন ও নিয়মের বিস্তারিত।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হঠাৎ কোনও চিকিৎসার খরচ, সন্তানের উচ্চশিক্ষার ফি কিংবা পরিবারের অপ্রত্যাশিত আপৎকালীন আর্থিক সংকট-- মাস শেষ হওয়ার আগেই টানাটানি অনেক সময়েই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি কর্মচারীদের এই ধরনের অপ্রত্যাশিত খরচের বোঝা লাঘব করতে এক ঐতিহাসিক ও মানবিক পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। নবান্নের অর্থ দফতর (Finance Department) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম’ (West Bengal Salary Advance Scheme)।
বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকেই কার্যকর হওয়া এই প্রকল্পে কর্মীদের বেতনের টাকা অগ্রিম হিসেবে পাওয়ার দরজা খুলে গেল। আসুন, সহজ-সরল ভাষায় এই নতুন প্রকল্পের প্রধান সুবিধা ও শর্তগুলো বুঝে নেওয়া যাক।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?
অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের সমস্ত নিয়মিত বা স্থায়ী কর্মী এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের যোগ্য:
- গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি (Group A, B, C & D): সকল স্তরের নিয়মিত রাজ্য সরকারি কর্মী।
- ট্রেজারি (Treasury) বা পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস (Pay and Accounts Office)-এর মাধ্যমে আইএফএমএস (WBIFMS) ও এইচআরএমএস (HRMS) পোর্টাল মারফত যাঁদের বেতন হয়, তাঁরাই আবেদন করতে পারবেন।
অগ্রিমের দুই ধরনের বিকল্প-- স্বল্পমেয়াদি বনাম দীর্ঘমেয়াদি
রাজ্য সরকারের এই কাঠামোয় কর্মীদের সুবিধার জন্য দুটি ভিন্ন ক্যাটাগরি তৈরি করা হয়েছে:
১. স্বল্পমেয়াদি অগ্রিম (Short-Term Advance):
- পরিমাণ: সংশ্লিষ্ট মাসে কর্মীর হাতে পাওয়া অনুমোদিত নেট বেতনের (Net Salary) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম পাওয়া যাবে।
- পরিশোধের মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে অথবা পরবর্তী মাসের বেতনের সঙ্গে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় বা ফেরত দিতে হবে।
- সুদের হার: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করলে কোনো প্রকার সুদ লাগবে না (Zero Interest / Zero Cost)। এমনকি কোনও প্রসেসিং ফি বা প্ল্যাটফর্ম ফি-ও দিতে হবে না।
২. দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম (Multi-Month Advance):
- পরিমাণ: বড় ধরনের পারিবারিক বা চিকিৎসা খরচের ক্ষেত্রে কর্মীর মাসিক টেক-হোম বেতনের সর্বোচ্চ ৩০ গুণ পর্যন্ত অগ্রিম লোন পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে চূড়ান্ত ঋণের অঙ্ক নির্ধারণ করবে অংশীদার ব্যাঙ্ক বা আর্থিক সংস্থা (Credit Assessment)।
পরিশোধের মেয়াদ: ২ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৬০ মাস (৫ বছর)
- সুদ ও চার্জ: দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিমের ক্ষেত্রে আরবিআই নির্ধারিত নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রযোজ্য হবে।
কিস্তি কাটার নিয়ম ও সুরক্ষাকবচ
সরকারি কর্মীদের যাতে অত্যধিক ঋণের ফাঁদে পড়তে না হয়, তার জন্য নবান্ন একাধিক আর্থিক সুরক্ষাকবচ রেখেছে:
- বেতনের ৫০% সিলিং: দীর্ঘমেয়াদি বা স্বল্পমেয়াদি যাই হোক না কেন, মাসের মোট ইএমআই বা কিস্তির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট মাসের নেট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
একসঙ্গে একটাই অগ্রিম: কোনও কর্মীর একটি স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি অগ্রিম চালু থাকলে, তা সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে দ্বিতীয় কোনও অগ্রিম নেওয়া যাবে না।
অটো-ডিডাকশন (Auto Deduction)
কর্মীর ডিজিটাল সম্মতির (Digital Consent) নিয়ে সরাসরি WBIFMS সিস্টেমের মাধ্যমে বেতন থেকে কিস্তির টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন থাকায় অনুমোদনের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই টাকা সরাসরি কর্মীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। ফলে মহাজনি ঋণ বা উচ্চ সুদের ব্যক্তিগত ঋণের দ্বারস্থ না হয়ে কর্মীরা এখন সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সরকারের এই ব্যবস্থাকে আপৎকালীন সহায় হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)