দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জনের মধ্যে দিয়েই শারদোৎসবে সমাপ্তির বিষাদছায়া! আবার একটি বছরের দীর্ঘ অপেক্ষায় বাঙালি
Durga Puja 2026: মায়ের মুখে আলো ঠিকরে পড়ছে! সেই আলোতে কি তাঁরও চোখ একটু চিকচিক করছে না? তাঁরও কি চোখে দল নয়? সন্তান মাকে বিদায় দিতে পারছে না বলে, সে ব্যথিত! আর মা স্বয়ং?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পরের বার আর উমাকে পাঠাব না! মা মেনকার ব্যথিতপ্রাণের প্রতিজ্ঞা। স্বামী গিরিরাজ হিমালয়কে বলছেন তিনি, মেয়েকে আর শ্বশুরঘরে পাঠাব না। রেখে দেব নিজের কাছে। উমাকে কি বিদায় দেওয়া যায়? বিদায় দেওয়াও যায় না, আবার তাকে চোখের আড়াল করাও যায় না! তাই তো মেনকা বলছেন, যাও যাও গিরি, আনিতে গৌরী! গেরী কোরো না, যাও, মেয়েকে গিয়ে নিয়ে এসো। আহা! ভয়ংকরা রণং দেহি মা দুর্গা বাংলার মাটিতে যেন ঘরের মেয়ে! কিন্তু উমাকে তো বিদায় দিতেই হয়। সে কি তার শ্বশুরঘরে যাবে না? যাবে না তার স্বামীর কাছে? আজ, দশমীতে সেই তিথি। মাকে, মেয়েকে বিদায় দেওয়ার ক্ষণ। চারদিনের মহাপুজোর অন্তে আসা আজকের দিনটি তাই বাঙালিকে বিষাদে আচ্ছন্ন করে। সন্তান তো সে, কী করে মাকে প্রাণে ধরে বিদায় দিতে পারে সে? তাই তো সে আজ ব্যথিত!
আলোর দ্যুতি, শোকের আবহ
সেই বিষাদেরই ছবি দিকে দিকে। আজ, বুধবার মোটামুটি দুপুর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল বিসর্জন। প্রথমে বাড়ির ঠাকুরের ভাসান। তারপর তুলনায় ছোট ছোট বারোয়ারি বা ছোট আয়োজনের ছোট পুজোর প্রতিমাবিসর্জন। তারপর দিন মিলিয়ে ভাসান শুরু করে বড় পুজোগুলো। বাংলা জু়ড়ে এক ছবি। আজও তার অন্যথা হয়নি। কলকাতার বড় বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে গমগম করে বিসর্জন হচ্ছে। বাজা কদমতলা ঘাট থেকে নিমতলা ঘাট-- আলোয়, বাজনায়, দ্যুতিতে, রিচ্যুয়ালে জমজমাট, কিন্তু তলায়-তলায় শোকে সমাচ্ছন্ন।
আরও পড়ুন: ইছামতীর দুই পারে একই ছবি, উমার বিসর্জনে এবারও মিলল না দুই বাংলা
আরও পড়ুন: বিদায়লগ্নেই আবাহন! বড় গোস্বামী বাড়ির কাত্যায়নীর বিসর্জনের সঙ্গেই সূচনা
বেলুড় মঠ এবং...
আজ বেলুড় মঠেও প্রতিমা ভাসান দেওয়া হয়েছে যথারীতি সমস্ত নিয়ম আচার মেনে। শ্রীঠাকুরের সন্ধ্যারতির পরে মাতৃপ্রতিমার শোভাযাত্রা। মহারাজদের ভাববিহ্বল নাচ-গান বাড়তি পাওনা। কলকাতা ও হাওড়ার বহু পুজোর ভাসান-অনুষ্ঠান আজ। লোকজন ভিড়ে ভিড়াক্কার সংশ্লিষ্ট ঘাটগুলি। বহু মানুষ প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা দেখতে পছন্দ করেন। তাঁরা যথারীতি রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে দেখছেন সেসব।
ইছামতীর তীরে
বছরের পর বছর ধরে উত্তর ২৪ পরগনার টাকির অন্যতম আকর্ষণ ইছামতীতে ঠাকুরের ভাসান। আগে বিজয় দশমীর দিন ইছামতী নদীতে প্রতিমা ভাসান উপলক্ষে দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত। ইছামতীর এক পারে ভারতের টাকি আর এক পারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা। এই মিলনকে কেন্দ্র করে এক সময় নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল নামত। বাহিরে থেকে হাজার হাজার মানুষ আসত এই বিসর্জন দেখতে। কিন্তু কয়েক বছর আগে এই বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত শিথিল হওয়ার কারণে এবং বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশের কারণে দুই বাংলার এই বিজয়-মিলন বন্ধ হয়ে যায়। এর উপর বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার করণেও এ বছর দুই বাংলার ভাসান-মিলন বন্ধ। প্রসঙ্গত, টাকির জমিদার বাড়িতে দশমীর পুজা শেষ হতেই সিঁদুর খেলায় মাতলেন মহিলারা। বসিরহাট টাকির পূবের বাড়িতে দশমী পূজা শেষ হতেই প্রথা অনুযায়ী মাকে বরণ করার পরে বাড়ির মেয়েরা নিজেদের মধ্যে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠে। এই সিঁদুর খেলা প্রায় তিনশো বছর ধরে চলে আসছে। শুধু বাড়ির মেয়েরাই নয় প্রতিবেশী পাড়ার মেয়ে বউরাও যোগ দেয় তাদের সঙ্গে সিঁদুর খেলায়। সিঁদুর খেলার পর নাচ গানে মেতে ওঠে মহিলারা। টাকির অন্য বনেদি বাড়ির পুজো গুলোতে ও সিঁদুর খেলা হয়।
২০২৭ সালের দুর্গাপুজো
এখনও পুজো পুরোপুরি মেটেনি। আসুন, এই সময়েই জেনে নেওয়া যাক, পরের বছরে দুর্গাপুজোর সূচি। তাতে হতো আজকের দুঃখ কিছুটা মিটবে। এ বছর পুজোয় ছিল জোড়া সপ্তমী। আগামী বছর কি আছে এমন কোনও চমক? আসুন, জেনে নেওয়া যাক। পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট বলছে, আগামী বছর, ২০২৭ সালের দুর্গাপুজোতেও আছে দারুণ চমক। কী করকম? জানা গিয়েছে, আগামী বছর দু’দিন অষ্টমী থাকতে পারে। মানে, পরের বছরেও পুজোয় মিলতে পারে বাড়তি একটি দিন। ফলে, আগামী বছরের দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ ঘিরে এখন থেকেই তৈরি হচ্ছে কৌতূহল। আসলে এটা খুব স্বাভাবিকই। প্রত্যেকবারই দশমীতেই বাঙালি জেনে নিতে চায় পরের বছরে মায়ের আগমনের তিথিনক্ষত্র! পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে মহালয়া ২৯ সেপ্টেম্বর। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু দুর্গাপুজো। ষষ্ঠী পড়েছে ৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার। ৬ অক্টোবর বুধবার সপ্তমী। ৭ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার অষ্টমী। পুজোর নির্ঘণ্টে ৮ অক্টোবর, শুক্রবারও অষ্টমী। এই দ্বিতীয় অষ্টমীতেই সন্ধিপুজোর পর্ব থাকছে। ফলে ৭ ও ৮ অক্টোবর-- দু'দিনই আপাতত অষ্টমী। যা নিয়ে উৎসবপ্রেমী বাঙালির বড় অংশ এখনই আনন্দে নেচে উঠছে। ৯ অক্টোবর, শনিবার নবমী। পরের দিন ১০ অক্টোবর রবিবার দশমী। সপ্তাহান্তে সিঁদুরখেলা এবং বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে শারদীয়ার সমাপন। তবে দুর্গাপুজোর উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই ১৪ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার পড়ছে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো।
সম্পূর্ণ সূচি
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত, বেণীমাধব শীল এবং গুপ্ত প্রেসের মতো বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথি গণনা ও নির্ঘণ্টে পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে, অষ্টমী, সন্ধিপুজো এবং নবমী তিথি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকার নির্দেশই চূড়ান্ত গণ্য হবে। যে যেটি মেনে পুজো করে তার পক্ষে সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
মহালয়া ২৯ সেপ্টেম্বর বুধবার
মহাষষ্ঠী ৫ অক্টোবর মঙ্গলবার
মহাসপ্তমী ৬ অক্টোবর বুধবার
মহাষ্টমী ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার
মহাষ্টমী ৮ অক্টোবর শুক্রবার
মহানবমী ৯ অক্টোবর শনিবার
বিজয়া দশমী ১০ অক্টোবর রবিবার
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ১৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)