অনুপকুমার দাস: প্রচারের আড়ালে থেকেও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কৃষ্ণনগরের নলুয়াপাড়া মিত্র বাড়ির দুর্গা পুজো। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি, নীল দুর্গা বাড়ি, তিন ইঞ্চি দুর্গা বাড়ির ভিড়ে অনেকটাই আড়ালে থেকে যায় শহরের বনেদি বাড়ির পুজোগুলি। তেমনই একটি ঐতিহ্যময় পুজো হল নলুয়াপাড়া মিত্র বাড়ির দুর্গা পুজো।
মায়ের কাছে মানসিক
পরিবারের মতে, তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষ ভারত বাংলাদেশ পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পরে পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। তারপর তখন তাঁরা কোথায় যাবেন, কী খাবেন-- সেই সব চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। ওদিকে পাড়ার মন্দিরে দুর্গাপুজো হচ্ছে। তখন মনের কষ্টে তাঁরা মানত করেন-- তাঁদের পরিবার ভারতে স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারলে আগামীদিনে বাড়িতে তাঁরা দুর্গা পুজোর আয়োজন করবেন-- এই ছিল প্রার্থনা ও ইচ্ছা।
ক্রমে তা পূরণও হয়। একসময় ছেলেমেয়ে বড় হয়, রোজগার শুরু করে, সুসময় আসে। পরিবারসূত্রে জানা যায়, ওপার বাংলা থেকে আসার পরে নলুয়াপাড়ায় বসতি স্থাপন করে মিত্র পরিবার। আর সেখানেই শুরু করে মানসিকের এই পুজো। আজও একই রীতি মেনে যে পুজো যথারীতি হয়ে আসছে।
একযোগে অঞ্জলি, ভোগ, সন্ধ্যারতি
এ বাড়িতে একচালা সাবেকি প্রতিমা। সনাতন ডাকের সাজে দেবী সজ্জিতা। প্রতিমার চালচিত্র এখনও হাতে আঁকা হয়। বলি প্রথা বহু বছর আগেই বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে নবমীতে চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, পুজোর চারদিনই বাড়ির সকল সদস্য একত্রিত হন। কর্মসূত্রে বাইরে থাকা আত্মীয়রা এই সময় বাড়িতে ফিরে আসেন। সকলে মিলে এক সঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া, ভোগ রান্না এবং সন্ধ্যারতি দর্শন-- এটাই এই বাড়ির পুজোর আসল আনন্দ। দশমীতে সিঁদুর খেলা ও পান্তা ভাত, কচুর শাক দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর রীতিও আজও অটুট।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)