অনুপকুমার দাস: কৃষ্ণনগরে নীল দুর্গা পুজো। ভাবতে অবাক লাগলেও নদিয়ার কৃষ্ণনগরে চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে অপরাজিতা রং অর্থাৎ, নীল রঙের দুর্গা পূজিতা হয়ে আসছেন। যদিও এ-পুজোর শুরু ওপার বাংলায় ৷ তাহলে এপার বাংলায় খোদ নদীয়ায় বাঙালির সংস্কৃতির পীঠস্থান কৃষ্ণনগরে কীভাবে শুরু হল এই পুজো?
অন্ধকারই নীলের উৎস
আছে তার ইতিহাস। প্রতিমার গায়ের রং কেন নীল, তার নেপথ্যেও রয়েছে এক অপূর্ব ইতিহাস। শোনা যায়, বহু বছর আগে বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় বামরাইল গ্রামে চট্টোপাধ্যায়দের পূর্বপুরুষদের হাতে শুরু হয়েছিল এই দুর্গাপুজো। সেই সময় কোনও বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না।
এহেন অবস্থায় রং করার সময় আলো না থাকায় প্রতিমার গায়ে ভুলবশত নীল রং দিয়ে ফেলেন মৃৎশিল্পী ৷ এরপর তিনি গভীর চিন্তায় পড়ে যান দেবীর গায়ের রং নীল হয়ে যাওয়ায়। এরপর ওই নীল রং মুছতে গেলে শিল্পী এবং বাড়ির সদস্যদের মা স্বপ্নাদেশ দেন ৷ সেই আদেশে দেবী জানান, তাঁকে যেন নীল অপরাজিতা বর্ণেই পুজো করা হয়। সেই থেকেই নীল দুর্গা পূজিত হয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: স্বপ্নাদেশে শুরু ৩০০ বছরেরও পুরনো পুজো;
৩০০ বছরের মুখে
অনেকদিনই এ-পুজো চলে এসেছে এপার বাংলার কৃষ্ণনগরে। আগে এই পুজোতে বলি প্রথা থাকলেও ২০০৬ সাল থেকে হাইকোর্টের নির্দেশে তা বন্ধ হয়ে যায়। জৌলুস কম কিছুই নেই আজও। পুজোর চারদিনই দেবীর ভোগে থাকে নানা রকমের পদ। সঙ্গে প্রতিদিনইই থাকে মাছ। আজও নবমীতে কলার বড়া দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে এখানে। এছাড়াও তেতো কোনও পদ রান্না করে দিতে হয়। তা সে তেতো ডাল হোক বা শুক্তো। দশমীতে পান্তাভাত, কচুর শাক, ডালের বড়া ও গন্ধরাজ লেবু শুকনো লঙ্কা ভাজা দিয়ে মাকে বিদায় জানানো হয়। বর্তমান পরিবারে নতুন বউরা পুজো সামাল দেয় বাড়ির বয়স্ক মায়েদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে। এ বছর এ-পুজোর ২৯৬ তম বর্ষ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)