অর্ণবাংশু নিয়োগী: তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিদ্রোহী নেতাদের NCPI তে যোগদানের পর থেকেই বিগত ৫ মাস ধরে তুমুল বিতর্ক। উত্তর কলকাতায় গত শুক্রবার বিতর্কিত পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছিল। তবে সেই বিতর্ক এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে এনসিপিআই (NCPI) নেতৃত্বের সাফ জবাব--ওই পোস্টার দলের কোনও অফিসিয়াল প্রচার নয় (unofficial campaign), সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা। উত্তর কলকাতায় এখনও পর্যন্ত দলের আনুষ্ঠানিক কোনও সাংগঠনিক ইউনিট (organizational unit) গড়ে ওঠেনি। ফলে সেই পোস্টারকে দলের অবস্থান হিসেবে দেখার অবকাশ নেই NCPI এর।
প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ার আগেই, চরম অস্বস্তির মুখে পড়েছে এনসিপিআই (NCPI)। উত্তর কলকাতার বেলেঘাটায় শুক্রবার দলের ব্যানার ও হোর্ডিংয়ে থাকা সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষের ছবির মুখে কালি লেপে দেওয়ার ঘটনায় (face-blackening controversy) তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রথমে সুদীপের ছবিতে কালি দেওয়া হলেও, পরে সায়নীর ছবিতেও নতুন করে কালি লাগানো হয়। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চরমে ওঠে।
তবে এই বিতর্কের মাঝেই এনসিপিআই নেতৃত্বের দাবি, ওই হোর্ডিং আদৌ তাদের দলের নয়। এমনকি 'এনসিপিআই উত্তর কলকাতা' নামে কোনও সাংগঠনিক ইউনিট বা শাখা দলের তরফ থেকে এখনও গঠিতই হয়নি। ফলে বিতর্ক তৈরি করতেই অজ্ঞাত পরিচয় কেউ এই ব্যানার ঝুলিয়ে তাতে কালি মাখাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কার হাত রয়েছে, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
কিন্তু পোস্টার বিতর্ক ছাপিয়ে এই মুহূর্তে আসল আলো পড়ছে কলকাতা পুরসভা (KMC Election) এবং রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।
এনডিএ জোটে দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিকের দাবি
জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (National Democratic Alliance বা NDA) অন্যতম শরিক হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দলটি। তাদের দাবি, রাজ্যে বিজেপি-র পরেই তারা এনডিএ জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি। আসন্ন কলকাতা পুরভোটে লড়তে দল পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এককভাবে নয়, জোটের শর্ত ও মর্যাদা (coalition ethics) বজায় রেখেই লড়াইয়ের ময়দানে নামবে তারা। আসন সমঝোতা (seat sharing) নিয়ে এখনও চূড়ান্ত আলোচনা বাকি থাকলেও দলের মনোভাব স্পষ্ট-- বৃহত্তর স্বার্থেই আসন বণ্টনের অঙ্ক কষা হবে।
দাগী নেতাদের ‘নো-এন্ট্রি’, দরজা খুললেই বিস্ফোরণ?
সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, বিজেপির টিকিট নিশ্চিত করতে অনেকে এনসিপিআই-এর হাত ধরছেন। এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি নেতৃত্ব, তবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কড়া শর্ত। দলের বক্তব্য:
অপরাধমূলক বা বিতর্কিত রেকর্ডযুক্ত (tainted background) ব্যক্তিদের দলে কোনও জায়গা নেই।
বহু নেতা-কর্মী যোগাযোগ রাখছেন ঠিকই, কিন্তু দল বাছবিচার করেই পা ফেলছে।
নেতৃত্বের বিস্ফোরক মন্তব্য-- 'দলের দরজা পুরোপুরি খুলে দিলে বহু বিরোধী নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাবে।'
তাছাড়া সংসদীয় শক্তির (parliamentary support) দিক থেকেও দলের জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধ এবং নেতৃত্বের পাশেই রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
কুণাল ঘোষের ধর্মনিরপেক্ষ জোটের ডাকে ‘না’
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের প্রস্তাবিত ধর্মনিরপেক্ষ জোটের (secular front) আহ্বান পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে এনসিপিআই। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃণমূলের কোনও জোটে শামিল হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দল সম্পূর্ণভাবে এনডিএ জোটের প্রতি দায়বদ্ধ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো গ্রুপ (fake social media group) তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তুলেছে দল। রাজনৈতিক মহলের মতে, পুরভোটের প্রাক্কালে এনসিপিআই-এর এই আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট অবস্থান কলকাতার ভোটে বিরোধী ভোটব্যাংকের মেরুকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)