জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উৎসবের মরসুমে সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের মুখে চওড়া হাসি। কিন্তু এই রাজ্যে নয়। হিমাচল প্রদেশ সরকার। রাজ্যের বিপুল আর্থিক চাপের মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু (CM Sukhvinder Singh Sukhu) রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance - DA) এক লাফে ৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, উৎসবের বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের (Class IV Employees) জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা করে বকেয়া বা এরিয়ার (Arrear Payment) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক নজরে ডিএ বৃদ্ধির রূপরেখা ও হিসাব
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এই ৫ শতাংশ বৃদ্ধি একবারে সম্পূর্ণ নতুন নয়; এতে বকেয়ার টাকাও রয়েছে:
চলতি বছরের ডিএ: ৪ শতাংশ (Current Year DA)।
গত বছরের বকেয়া ডিএ: ১ শতাংশ (Pending DA Arrear)।
মোট বৃদ্ধি: ৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হচ্ছে।
উপভোক্তা সংখ্যা: রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার (২.৭৫ লক্ষ) কর্মরত কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন।
টাকা ঢোকার সময়: আগামী ১ নভেম্বর থেকেই এই বর্ধিত ভাতা ও এরিয়ারের অর্থ কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা (Direct Bank Credit) হতে শুরু করবে।
ক্লাস-৪ কর্মীদের জন্য বাড়তি পাওনা
নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য সুখু সরকার অতিরিক্ত সংবেদনশীল পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা মহার্ঘ ভাতার স্বাভাবিক বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশোধিত বেতন কাঠামোর বকেয়া বাবদ (Revision Arrears) এককালীন ১০,০০০ টাকা অতিরিক্ত পাবেন। উৎসবের আবহে এই বাড়তি আর্থিক সহায়তা কর্মীদের পরিবারে বড় স্বস্তি এনে দেবে।
কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
গত কয়েক মাস ধরেই হিমাচল প্রদেশের আর্থিক সংকট এবং ঋণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিতর্ক চলছিল। বিরোধীদের দাবি ছিল, রাজ্যের ঋণের বোঝা ১.২০ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন:
১. প্রকৃত ঋণ: রাজ্যের বর্তমান ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৯,০০০ কোটি টাকা (Debt Burden Around ₹99,000 Crore)।
২. অনুদান বন্ধের ধাক্কা: কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব ঘাটতি অনুদান বা আরডিজি (Revenue Deficit Grant - RDG) বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রাজ্য আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। তা সত্ত্বেও শূন্য সুদের ঋণ (Interest-free Loans) নিয়ে রাজ্য পরিকাঠামো ও কর্মচারীদের প্রয়োজন সামাল দিচ্ছে।
৩. ব্যয় সংকোচনের বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি বিজ্ঞাপনী খরচ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই (Expenditure Cuts) করে রাজকোষে আর্থিক শৃঙ্খলা (Financial Discipline) ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে হিমাচল প্রদেশ স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হবে বলেও তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
সরকারি কর্মীদের কেন এই সিদ্ধান্ত স্বস্তি দিচ্ছে?
মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন (Inflation)-এর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। সেই আবহে ৫ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি বাজারে কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা (Purchasing Power) বৃদ্ধি করবে। দিওয়ালির ঠিক মুখেই এই সিদ্ধান্তের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ায় পাহাড়ি রাজ্যের সরকারি মহলে খুশির হাওয়া।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)