SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

১৮৩০ থেকে ২০২৬, বর্ধমান থেকে দিনাজপুর, জমিদার থেকে প্রজা, ভগ্ন মণ্ডপ থেকে নয়া মঞ্চ; প্রবাহের পুজো, পুজোর প্রবাহ

Durga Puja 2026 Dakshin Dinajpur: ১৯৫৪ সালে গ্রামবাসীরা পূজার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০১০ সালে জমিদার বাড়ি থেকে মন্ডপ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় রাস্তার পাশে। এখনও সেখানেই পূজা হয়। কত ইতিহাস কত স্মৃতি বহন করে চলেছে এই পুজো। গ্রামবাসীরা এখনো পর্যন্ত এই জমিদার বাড়িকে ঘিরেই তাদের এ-পুজোর পরিচয় দিয়ে থাকেন।

Written By Soumitra Sen
Published: Oct 14, 2026, 08:03 PM IST | Updated: Oct 14, 2026, 08:09 PM IST
Join

শ্রীকান্ত ঠাকুর: সালটা ছিল ইংরেজির ১৮৩০। বর্ধমানের সিঙ্গি গ্রাম থেকে তারাচাঁদ বন্দোপাধ্যায় দিনাজপুরে চলে আসেন ব্যবসার উদ্দেশ্যে। দিনাজপুরের রাজ পরিবারের সঙ্গে তারাচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সখ্য গড়ে ওঠে। অল্পদিনেই তারাচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাছের করে নেন দিনাজপুরের রাজা। তার পরই তাঁকে তপন অঞ্চলে জমিদারি দায়িত্ব দেন তিনি। জমিদারি পাওয়ার পরে আজমতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চলের মনোহলি গ্রামে তাঁর প্রাসাদপ্রমাণ বাড়ি তৈরি করেন তারাচাঁদ।

আরও পড়ুন: আলো না থাকায় প্রতিমার গায়ে ভুলবশত নীল রং দিয়ে

বর্ধমান থেকে দিনাজপুর

সেখান থেকেই তিনি তাঁর ব্যবসা এবং জমিদারি চালিয়েছেন দীর্ঘ বছর। কিন্তু স্বাধীনতার আগেই ধীরে ধীরে জমিদারি লুপ্ত হতে থাকে। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে জমিদার বংশের আর কেউই থাকতে চাননি। যোগাযোগ-সহ কোনও সুযোগ-সুবিধাই না-থাকার কারণে। তখনও পর্যন্ত জমিদারিটা টিকে ছিল। জমিদারি থাকলেও জমিদার বংশের অধিকাংশ সদস্যই চলে যান কলকাতা বা তার আশপাশে।

জমিদারের পুজো প্রজার হাতে

কিন্তু জমিদারি প্রথা অনুযায়ী গ্রামে তাঁরা প্রবর্তন করেছিলেন দুর্গাপুজো। সেই দুর্গামণ্ডপ, রাজবাড়ী আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে সেগুলো এখন অব্যবহৃত এবং ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১০০ বছর আগে জমিদার বংশের উদ্যোগে পারিবারিক ভাবে পুজোর আয়োজন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এরপর দীর্ঘদিন গ্রামবাসীরা গ্রামের একমাত্র পুজোকে বাঁচিয়ে রাখতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। জমিদার বংশের কেউ উদ্যোগ না নিলেও গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে সেই মণ্ডপেই এই দুর্গাপুজোর আয়োজন করতেন। সেই পুজোয় অবশ্য জমিদার বংশের পুজোর মতো জৌলুস ছিল না। না থাকলেও সমস্ত নিয়ম-নীতি মেনেই পুজো করতেন গ্রামবাসীরা।

ভগ্ন মণ্ডপ থেকে নয়া মঞ্চ

পরে জমিদার বাড়ির ভগ্ন দশা শুরু হয়, মণ্ডপ ভাঙতে শুরু করে। ফলে গ্রামবাসীরা সেই মণ্ডপে আর পুজো করেন না। জমিদার বাড়ি থেকে একটু দূরে নতুন মণ্ডপ বানিয়ে এখন সেখানেই দুর্গাপুজো করেন তাঁরা। জমিদার রাজবংশের একমাত্র উত্তরাধিকারী রণবীর বন্দ্যোপাধ্যায় এখন এই বাড়িতেই থাকেন। ১৯৫৪ সালে গ্রামবাসীরা পূজার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০১০ সালে জমিদার বাড়ি থেকে মন্ডপ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় রাস্তার পাশে। এখনও সেখানেই পূজা হয়। কত ইতিহাস কত স্মৃতি বহন করে চলেছে এই পুজো। গ্রামবাসীরা এখনো পর্যন্ত এই জমিদার বাড়িকে ঘিরেই তাদের এ-পুজোর পরিচয় দিয়ে থাকেন।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
 

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

পেশায় দীর্ঘদিন। প্রিন্ট মিডিয়ায় শুরু। ওপিনিয়ন পেজ এবং ফিচারই সবচেয়ে পছন্দের। পাশাপাশি ভ্রমণসাহিত্য, সংগীত ও ছবির মতো চারুকলার জগৎও। অধুনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অ্যাস্ট্রো, লাইফস্টাইল, পপুলার সায়েন্স ও ইতিহাস-অ্যানথ্রোপলজিক্যাল বিষয়পত্তরও। আদ্যন্ত কবিতামুগ্ধ. তবু বিভিন্ন ও বিচিত্র বিষয়ের লেখালেখিতে আগ্রহী। সংবাদের অসীম দুনিয়ায় উঁকি দিতে-দিতে যিনি তাই কখনও-সখনও বিশ্বাস করে ফেলেন-- 'সংবাদ মূলত কাব্য'!

ZEENEWS TRENDING STORIES