জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চোরবাগানের মণ্ডপে হুড়োহুড়িতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান বৈদ্যবাটীর শ্রীপর্ণা পোদ্দার। কলকাতায় পুজো দেখতে যাওয়াই যে কাল হবে তা ভাবতেই পারেনি শ্রীপর্ণার পরিবার। প্রতিশ্রুতি মত আজ শ্রীপর্ণার বৈদ্যাবাটির বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার দুপুর তিনটে নাগাদ হুগলীর বৈদ্যবাটীতে যান মুখ্যমন্ত্রী। দেখা করেন শ্রীপর্ণার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। মৃত শ্রীপর্ণার ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। তারপর কথা বলেন শ্রীপর্ণার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে। তাঁদের সান্তনা দেন। শ্রীপর্ণার বাবা-মাকে মুখ্যমন্ত্রী ২৫ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়ে বলেন, অর্থ দিয়ে তো কিছু হয় না! তার পরেও সরকারের কিছু কর্তব্য থাকে। ফলে অনিচ্ছা সত্বেও দিতে হয়। আর অনিচ্ছা সত্বেও নিতে হয়। এটা অ্য়াকাউন্টে রাখবেন। পিএম ২ লাখ টাকা দিয়েছেন।
শ্রীপর্ণার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উনি এই পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন। রাজারহাটে ক্যান্সার হাসপাতালে কাজ করতেন। এই পরিবারের কথা ভাবলে কষ্ট হয়। কারণ ওই পরিবারের ভবিষ্যত প্রজন্ম বলে আর কেউ থাকল না। বাবা-মায়ের একজনের ৬৪ এবং অন্যজনের ৬০ বছর বয়স। এখন স্থানীয় বিধায়ক ও এই জেলার ২ মন্ত্রী সবাই মিলে এই পরিবারের উপরে লক্ষ্য রাখবে। স্থানীয় বিধায়ককে বলেছি, ওঁর মাও নার্স ছিলেন। মিউনিসিপ্যালিটিতে যেসব হেলথ সেন্টার রয়েছে সেখানে কাজের ব্যবস্থা করে দিতে। কাজ করলে মনও ভালো থাকবে। সেবাও দিতে পারবেন। একটা অনারিয়াম পাবেন। আর ডিএমকে বলেছি, দুজনের বার্ধক্যভাতার ব্যবস্থা করে দিতে। ওঁর বাবার নামে ২৫ লাখ টাকার চেক তুলে দিলাম। প্রধানমন্ত্রীও ২ লাখ টাকা দিয়েছেন। ওটা ডিএম সাহেব ওদের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গোটা পারিবারটা খুবই শকড। বলছেন, একমাত্র লোক চলে গেল। আমাদের দেখবে কে? সবার বয়স হয়েছে। বয়স হলে অসুস্থতা আগে, নির্ভরতা চলে আসে। এখন সবাই খেয়াল রাখছি। একবছর দুবছর পর আমরা সবাই ভুলে যাব।
বিরোধীদের কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা খবরের চ্যনেলে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়েছেন। তারা পরিবারের কাছে আসেনি। তারা আহতদের দেখতে মেডিক্যাল কলেজেও যায়নি। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। কোনও প্রাক্তন বিচারপতিকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত হবে। পুলিস আপাতত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। এগারো কোটি মানুষ পুজোর সঙ্গে জড়িত। এনিয়ে একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা কলকাতা পুলিসের ভূমিকাও খতিয়ে দেখবে। সেই জন্য তদন্ত টিমে কলকাতা পুলিসকে রাখা হয়নি। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই তা প্রকাশ করব। কোথাও একটি ভুলের জন্য এতগুলো প্রাণ চলে গেল। খুবই বেদনাদায়ক। বাংলাদেশ থেকে কিছু ফেক ন্যারেটিভ ছড়ানো হয়েছে। সেসব য়ারা লাইক, শেয়ার করেছে তাদেরও নন বেলেবল ধারায় কেস দেওয়া হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)