অরূপ লাহা: বর্ধমানের মাধবডিহির বীরপুর গ্রামে টগর বেজ-সন্দীপ বেজের বাড়িতে মুখ্য়মন্ত্রী। পরিবারের হাতে তুলে দিলেন আর্থিক সাহায্যের চেক। সঞ্জয় বেজের হাতে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। চোরবাগান বিপর্যয়ে স্বজনহারাদের সঙ্গে সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম। প্রতিবেশীরাও শোকস্তব্ধ। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে চোরবাগানে। একজন এখনও হাসপাতালে, আহত, চিকিৎসা চলছে। ঘটনার পর থেকেই গোটা পরিবার, গোটা গ্রাম ভেঙে পড়েছে। সারা গ্রাম জুড়ে যেন শ্মশানের নিস্তব্ধতা।
কৃষিকাজ-ই পরিবারের মূল আর্থিক ভিত্তি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, পরিবারের একজন চাকরি পাবেন। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কারও নাম সুপারিশ করা হয়নি। সম্ভবত টগর বেজের মেয়ে আগমনী-ই পেতে চলেছেন চাকরি। শোক কাটিয়ে ওঠার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিন শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "জীবন ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু তার পরের দায়িত্বটা তো পালন করতে হবে। এটা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। অন্যজন করেনি বলে আমি করব না, এটা হতে পারে না। সেই দায়িত্ব পালনেই আমি এসেছি। আমাদের দায়িত্ব বোঝানোর দরকার নেই। মুখ্যসচিব গতকাল প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছেন। বিচারপতির নেতৃত্বে সিট গঠন করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে।" এই ঘটনার জেরে কি আগামীদিনে থিমের পুজো বন্ধ হতে চলেছে? উত্তরে মুখ্য়মন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রী দফতরে লিখিত আকারে আবেদন পাঠাতে। পরবর্তীতে আলোচনার ভিত্তিতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মৃত টগর বেজের স্বামী সঞ্জয় বেজ জানান, তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্য-সহ মোট ন’জনের একটি দল কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুজোর আনন্দের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ বিপর্যয়। স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কার্যত দিশাহারা সঞ্জয়বাবু। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সঞ্জয় বেজ বলেন, পুজোয় ঠাকুর দেখতে গিয়ে আমার স্ত্রী-পুত্রকে হারাতে হল। আর এই পুজোর মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা দিলেন। এটা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। উনি সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সঞ্জয়বাবু জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর হাতে ২৫ লক্ষ টাকা করে মোট ৫০ লক্ষ টাকার দুটি চেক তুলে দিয়েছেন। পাশাপাশি চাকরির প্রতিশ্রুতিও দিয়ে গিয়েছেন। কলকাতার চোরবাগান মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন হুগলির আরামবাগের বালিয়া গ্রামের পিয়ালি প্রামাণিক ও তাঁর ননদ টগর বেজ এবং টগরের ছেলে সন্দীপ বেজ। দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখতে বর্ধমানের মাধবডিহির বীরপুর গ্রাম থেকে কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা। পরিকল্পনা ছিল রবিবার বাড়ি ফেরার। কিন্তু সেই ফেরা আর হয়নি। তার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে একই পরিবারের তিন সদস্যকে। দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন টগর বেজের মেয়ে আগমনী বেজ। প্রথম বর্ষের কলেজছাত্রী আগমনী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)