কথা ছিল রবিবার বাড়ি ফেরার, চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু বউমা, ননদ ও ননদের ছেলের
Chorbagan stampede: কলকাতার চোরবাগান পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আরামবাগের বালিয়া গ্রামের পিয়ালি প্রামাণিক, তাঁর ননদ টগর বেজ এবং টগরের ছেলে সন্দীপ বেজের। দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখতে কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা। পরিকল্পনা ছিল রবিবার বাড়ি ফেরার। কিন্তু তার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের তিন সদস্য।
পার্থ চৌধুরী: কলকাতার চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আরামবাগের মলয়পুর-১ পঞ্চায়েতের বালিয়া গ্রামের গৃহবধূ পিয়ালি প্রামাণিক (২৩)। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পিয়ালির ননদ টগর বেজ, ননদের ছেলে সন্দীপ বেজের। পিয়ালির শ্বশুরবাড়ি বালিয়ায় শোকের ছায়া নেমেছে। স্বামী সনাতন প্রামাণিক কলকাতার সিঁথির মোড়ে সোনার দোকানে কাজ করেন।
বৃহস্পতিবার পিয়ালি তাঁর ৬ বছরের ছেলেকে নিয়ে বালি এলাকায় ননদের ভাড়া বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে স্বামী সনাতন, ছেলে সান প্রামাণিক, ননদ টগর বেজ মিলে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন। তারপরই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় সনাতনের স্ত্রী পিয়ালি প্রামাণিকের। পাশাপাশি সনাতনের দিদি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বাসিন্দা টগর বেজ ও ভাগনা সন্দীপ বেজেরও মৃত্যু হয়। একসঙ্গে মেয়ে, নাতি ও বউমার মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন সনাতনের বৃদ্ধ বাবা-মা নবকুমার প্রামাণিক ও আশা পরামানিক। প্রতিবেশি থেকে আত্মীয়রাও পিয়ালির শ্বশুরবাড়িতে ভিড় করেছেন।
আরও পড়ুন, আর কেউ রাখি পরাবার রইল না! কলকাতার পুজো প্রথমবার দেখতে আসা আকৃতি কুমারীর মৃত্যুতে শোকে পাথর তার ভাই
এই দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন টগর বেজের মেয়ে আগমনী বেজ। তিনি প্রথম বর্ষের কলেজছাত্রী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজো উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকেই কলকাতায় ঠাকুর দেখছিলেন তাঁরা। টগর বেজের বাপের বাড়ি হুগলির বালিয়াf গ্রামে। সেখানকার আত্মীয়দের সঙ্গে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু উৎসবের আনন্দ যে এভাবে বিষাদে পরিণত হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ।
কথা ছিল, রবিবার বাড়ি ফিরবেন তাঁরা। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হল না। তার আগেই রাতে বীরপুর গ্রামে পৌঁছায় দুর্ঘটনার দুঃসংবাদ। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা গ্রামে। কার্যত শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা।
ঘটনার খবর পেয়ে মাধবডিহি থানার পুলিসকর্মীরা খোঁজখবর নিতে গ্রামে যান। দুর্ঘটনায় আহত আগমনী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে বীরপুর গ্রামজুড়ে। পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে কলকাতায় গিয়েছিলেন তাঁরা। পরিকল্পনা ছিল রবিবার বাড়ি ফিরে আপনজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার। কিন্তু তার আগেই চোরাবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তিনটি প্রাণ। যে বাড়িতে ফেরার অপেক্ষা ছিল, সেই বাড়িতেই এখন শোকের ছায়া।
আরও পড়ুন, ঠাকুর দেখা ছিল নেশা, একাই বেরিয়ে চোরবাগানে মৃত্যু! বিকাশের দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভাই
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)