জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অতীতের সব রেকর্ড ভাঙল নন্দীগ্রাম! রেকর্ড ১,২২,৮০০ ভোটের মার্জিনে নন্দীগ্রামে জয়ী বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। গ্রামে-নগরে 'পদ্ম'শ্রী! রেজিনগরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও রেকর্ড জয় বিজেপির। 'ভোট করাতে জানি', এমন মার্জিনে বিজেপি জিতবে যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, নন্দীগ্রামে হাসিরানির মনোনয়নের দিনই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোট দিয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসিরানি রথও বলেছিলেন 'জেতাটা তো শুধু সময়ের অপেক্ষা'। স্বাভাবিকভাবেই 'অধিকারী গড়' বলে পরিচিত নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। শুধু অপেক্ষা ছিল কত মার্জিনে জয়, সেই হিসেবের।
নন্দীগ্রামের ট্যালি শিট
এদিন গণনার শুরু থেকেই নন্দীগ্রামে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। সময় যত গড়িয়েছে ব্যবধান তত বেড়েছে। গণনার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, "নন্দীগ্রামে ১ লাখ ভোটে জিতছে বিজেপি প্রার্থী।" গণনার কয়েক রাউন্ড বাকি থাকতে, ১১ রাউন্ডের পরই ১ লাখ লিডের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় বিজেপি। ১১ রাউন্ডের পর দেখা যায়, বিজেপি ৯০,২০৩ ভোটে এগিয়ে আছে। এরপর ১৩ রাউন্ড যেতেই জয়ে শিলমোহর পড়ে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধানের থেকে ১,০৫,৮৪৯ ভোটে এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। চূড়ান্ত ১৭ রাউন্ডের শেষে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ পেয়েছেন ১,৬৪,৪২৭ ভোট (৭৫.৯৪%)। ওদিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেসের মিলন প্রধান পেয়েছেন মাত্র ৪১,৬৭৪ ভোট (১৯.২৫%)। তৃতীয় স্থানে সিপিএমের শান্তি গোপাল গিরি পেয়েছেন ৫,৭৭৯ ভোট (২.৬৭%)।
নিহত চন্দ্রনাথ রথের মাকেই প্রার্থী
প্রসঙ্গত, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর তৃণমূলের 'দলবদলু' প্রার্থী পবিত্র করকে ৯ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে ভবানীপুর আসনেও জয়ী হন শুভেন্দু। শেষে ভবানীপুর আসনটি রেখে, নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। তবে নন্দীগ্রাম ছাড়ছেও, নন্দীগ্রামবাসী যে 'অভিভাবকহীন' হবে না, সেই আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে, ৪ মে ভোটের ফলাফলে বাংলায় পালাবদলের দুদিনের মাথাতেই ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিতে আততায়ীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে সেই চন্দ্রনাথ রথের মা-কেই, সন্তানহারা হাসিরানি রথকেই প্রার্থী করে বিজেপি। হাসিরানি রথ নিজেও বহুদিনের বিজেপি কর্মী। তাঁর উপরই ভরসা রাখে বিজেপি। নিজে সঙ্গে করে হাসিরানি রথকে মনোনয়ন দিতে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনেও টানটান নাটক!
বলাই বাহুল্য যে, হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। 'জোড়াফুল' প্রতীক হারাতেই নন্দীগ্রামে মমতা-তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর প্রতীক-প্রার্থী হারিয়ে 'নিঃস্ব' মমতা খড়কুটোর মতো কংগ্রেসের 'হাত' ধরতে চান। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু এক পুরনো মামলায় পুলিস গ্রেফতার করে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। সেই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শেষমেশ নন্দীগ্রামে শেষ হাসি হাসল বিজেপি-ই। তবে জয়ের মাঝেও বিষাদের সুর 'সন্তানহারা মা' হাসিরানি রথের গলায়। বলেন, "সকাল থেকেই ছেলের জন্য মনটা খারাপ করছে।"
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)