একাদশীতে শ্মশান কালীর বিসর্জন, শতাব্দীপ্রাচীন প্রথা মেনে শেকল-দড়ি বেঁধে নামানো হয় মাকে
একাদশীতে বিসর্জন হল দুবরাজপুরের শতাব্দীপ্রাচীন শ্মশান মা কালীর। শেকল ও দড়ি বেঁধে বেদি থেকে মূর্তি নামিয়ে বিসর্জন দেন দাস পরিবারের সদস্যরা। ভিড় জমান হাজার হাজার ভক্ত।
প্রসেনজিত্ মালাকার: দুবরাজপুরের শ্মশান কালীকে শেকল ও দড়ি বেঁধে বেদি থেকে নামিয়ে বিসর্জন করতে নিয়ে যান দাস পরিবারের সদস্যরা। প্রথা মেনে দুর্গাপুজোর দশমীর পরের দিন অর্থাৎ একাদশীর দিন দুবরাজপুরের শতাব্দী প্রাচীন শ্মশান মা কালীর বিসর্জন হল। প্রতিবছর শ্মশানকালীর বিসর্জন দেখতে দুবরাজপুর শহর ছাড়াও আশেপাশের গ্ৰাম থেকে হাজারে হাজারে মানুষের ভিড় করেন।
কথিত আছে শতাব্দী প্রাচীন ধরেই দাস পাড়ার মানুষই এই বিসর্জন করে আসছেন। একসময় ঝাঁটা দেখিয়ে, গালিগালাজ করে মন্দির থেকে মাকে বের করা হত। কিন্তু বর্তমানে সভ্যসমাজে এই রীতি উঠে গিয়েছে। তবে এখনো শ্মশানে মাকে শেকল ও দড়ি বেঁধে বেঁদি থেকে নামানো হয় এবং বিসর্জন করা হয়। পরম্পরা অনুযায়ী দাসপাড়ার লোকেই বিসর্জন করেন। শ্মশানে কালী বিসর্জনকে ঘিরে দাস পরিবারের লোকেদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসেন।
আরও পড়ুন, দুর্গাপুজোর পরেই লক্ষ্মীপুজোর তোড়জোড়, পুজোর সামগ্রী কিনতে বাজারে ক্রেতারা
মায়ের মূর্তি গড়া থেকে শুরু করে সারাবছর পুজো ও দেখাশোনার দায়িত্ব থাকেন বৈষ্ণবদের হাতে আর বিসর্জনে হয় দাস পরিবারের হাত দিয়ে, এটাই পরম্পরা অনুসারে চলে আসছে। বিশালাকার মায়ের মূর্তি শ্নাশানে কালী মন্দিরের পিছনে থাকা রুজের পুকুরে বিসর্জন করা হয়। আর এই বিসর্জন দেখতে কয়েক হাজার ভক্ত ভিড় জমান।
দাস পরিবারের সদস্য গুরুপদ দাস জানান, এক সময় মাকে বেদি থেকে নামাতে গালিগালাজ করা হত এবং ঝাঁটাও দেখানো হত কিন্তু বর্তমান সভ্য সমাজে তা এখন আর হয় না। তবে এখনও মাকে শেকল ও দড়ি বেঁধে বেদি থেকে নামানো হয়। এই বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দাসপাড়ার প্রত্যেকের বাড়িতেই আত্মীয়স্বজন আসেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুন, লক্ষ্মীপুজোর পরেই রাজ্যে ভয়ংকর সাইক্লোনের আশঙ্কা? নতুন নিম্নচাপে ভাসবে বাংলা?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)