জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চতুর্থীর দুপুর থেকেই বদলে গেল হাওয়া। ঠাণ্ডা বাতাস আর ঝড় আসার আগের পরিবেশ রাজ্যে। কোথাও দুলছে প্যাণ্ডেল, কোথাও ঠাকুর এখনও সাজছে-- কারণ কালই যে মা দুর্গার বোধন। শুভ ষষ্ঠী। আর রাজ্যবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন পুজোর মধ্যে কেমন থাকবে আবহাওয়া? কারণ উৎসবের মরসুমে দেশজুড়ে আবহাওয়ার বড় খামখেয়ালিপনার ইঙ্গিত মৌসম ভবন (IMD - India Meteorological Department) সূত্রে। একাধিক ঘূর্ণাবর্ত এবং সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবহাওয়ার দ্রুত অবনতি হতে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের অন্তত ২০ রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি (Heavy Rainfall and Thunderstorms) এবং সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার (Gusty Winds up to 60 kmph) জোড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব কি ঝড়-বৃষ্টির দাপটে ভাসতে চলেছে?
হঠাৎ এই দুর্যোগের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এবং উৎসবের আনন্দ আর কেনাকাটায় বড়সড় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কোন কোন রাজ্যে দুর্যোগের মেঘ?
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মধ্য ভারতের একাধিক অংশ এই দুর্যোগের মুখে পড়তে চলেছে:
দক্ষিণ ভারত: তামিলনাড়ু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, উপকূলীয় কর্ণাটক এবং পুদুচেরিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির হলুদ ও কমলা সতর্কতা (Yellow and Orange Alert) জারি করা হয়েছে।
পূর্ব ও মধ্য ভারত: ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং মধ্যপ্রদেশের একাংশে বজ্রপাত সহ টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চল: অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ সহ সংলগ্ন পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে ভারী বৃষ্টির কারণে ধস (Landslides) এবং নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া নিয়ে কী বলছে মৌসম ভবন?
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অক্ষ (Trough Line) এবং বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের কারণে স্থলভাগে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে। এর ফলেই মেঘপুঞ্জ তৈরি হয়ে ক্ষণিকের মধ্যে তীব্র কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি, এমনকি কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া (Squally Winds) বয়ে যেতে পারে। এর ফলে দুর্বল নির্মাণ, বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং ভেঙে পড়া এবং গাছ উপড়ে বিদ্যুৎ ও যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য গাইডলাইন
সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে উপকূলবর্তী অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের (Fishermen Advisory) আগামী কয়েক দিন গভীর সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে।
বজ্রপাতের (Lightning Strikes) ঝুঁকি থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে খোলা মাঠ, বড় গাছের তলায় বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছে না দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ সময়ে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার এবং জলমগ্ন নিচু এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)