বাসুদেব চট্টোপাধ্যায়: উত্সবের মরশুমেও মানুষের পাশে। ষষ্ঠীতে রক্তের সংকট মেটাতে উদ্যোগ নিলেন আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। আসানসোলের রবীন্দ্রনগর উন্নয়ন সমিতির পুজো মণ্ডপে আয়োজন করলেন রক্তদান শিবিরের। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত যেমন নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়, তেমনি দুর্ঘটনা ও অস্ত্রোপচারের জন্য়ও রক্তের চাহিদা থাকে। পুজোর মরশুমে রক্তদান শিবির চালু রাখার আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক।
রাজ্য়জুড়ে রক্ত সংকট
গত কয়েক মাস ধরেই রাজ্যের ব্লাড ব্য়াংকগুলিতে রক্তের ঘাটতি। কারণ, বিধানসভা ভোট। তারপরেই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি, উত্সবের মরশুম। ফলে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা অনেকটা কমেছে। এখন চাহিদার অনুপাতে যদি রক্তের জোগান না থাকে, সেক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হতে রোগীদের। গতকাল, শুক্রবার ষষ্ঠীর সকালে নিজের ক্লাব রবীন্দ্রনগর উন্নয়ন সমিতির পুজো মণ্ডপে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেন আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়।
শহরের প্রতিটি পুজো কমিটিকেই রক্তদান শিবির আয়োজন করার অনুরোধ করেছেন বিধায়ক। তিনি বলেন, 'প্রতিটি পুজো কমিটি যদি অন্তত একটি করে রক্তদান শিবিরের উদ্যোগ নেয়, তা হলে রক্তের ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব'।
দুর্গাপুরের চট্টোপাধ্যায় বাড়ির পুজোয় রক্তদান
এদিকে পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে ষষ্ঠীর সকালে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয় দুর্গাপুরের চট্টোপাধ্যায় বাড়ির উঠোনে। দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা গোপীনাথপুর গ্রামে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের পুজো কয়েকশো বছরের পুরানো। এই পরিবারের আদি পুরুষ গোপীনাথ চট্টোপাধ্যায়ের নামেই গ্রামের নাম গোপীনাথপুর।
সেই জমিদারি আমল থেকেই একই নিয়ম, একই নিষ্ঠায় পুজো হয়ে আসছে। এখন যাঁরা পুজো করেন, তাঁরা এই পরিবারের চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের সদস্যরা। থিমের চমক ও চাকচিক্য নয়, চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সাবেকি একচালা প্রতিমার পুজো হয়। সঙ্গে শোলার সাজ। চট্টোপাধ্যায় পরিবারের এই সাবেকি পুজোতেও থাকে মানবিকতার ছোঁয়া। প্রতিবছর ষষ্ঠীর সকালে হয় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। সংগৃহীত রক্ত তুলে দেওয়া হল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)