৬০ মাসে ঋণ শোধের সুযোগ, মিলতে পারে বেতনের ৩০ গুণ! কী এই স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম?
জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ঋণ দেওয়ার জন্য West Bengal Salary Advance Scheme চালু করেছে রাজ্য সরকার। কী এই ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হঠাৎ চিকিৎসার খরচ, সন্তানের পড়াশোনা বা পরিবারের জরুরি কাজে টাকা দরকার পড়লে, কিন্তু মাসের বেতন আসতে দেরি হলে, এখন রাজ্য সরকারি কর্মীরা নতুন আর্থিক সুবিধা পাবেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম’ চালু করেছে। এতে কর্মীরা তাদের বেতনের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিতে পারবেন। অর্থ দফতর ৩ নভেম্বর এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তথ্যটি আজকাল ও মিলেনিয়াম পোস্টের।
স্যালারি অ্যাডভান্স স্কিম কী?
এটি রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতনের ওপর ভিত্তি করে ঋণ নেওয়ার একটি ব্যবস্থা। কর্মীরা জরুরি প্রয়োজনে যাতে বেশি সুদে বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে টাকা ধার না করেন, সে জন্য এই প্রকল্প চালু হয়েছে। এখানে RBI-নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থা ঋণ দেবে। পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল হবে এবং কর্মীর সম্মতি নিয়েই বেতন থেকে কিস্তি কাটা হবে।
কোন কোন ধরনের ঋণ পাওয়া যাবে?
এই প্রকল্পে দুই ধরনের ঋণ দেওয়া হয়। ১. জরুরি খরচ হলে কর্মীরা মাসিক বেতনের অর্ধেক পর্যন্ত অগ্রিম নিতে পারেন। এই টাকা ৬০ দিনের মধ্যে বা পরের বেতন চক্রে ফেরত দিতে হবে। সময়মতো ফেরত দিলে সুদ লাগবে না। ২. বড় অঙ্কের খরচের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়। এখানে মাসিক বেতনের ৩০ গুণ পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যায়। ২ মাস থেকে ৬০ মাসের মধ্যে কিস্তিতে টাকা ফেরত দিতে হয়। এই ঋণে সুদ ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়। বার্ষিক সুদ ও খরচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ হার রাখা হয়েছে বলে আজকাল জানিয়েছে।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
এই প্রকল্প শুধু নিয়মিত রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য। গ্রুপ এ, বি, সি ও ডি এবং সমতুল্য শ্রেণির কর্মীরা এতে থাকবেন। এই ব্যবস্থা WBIFMS ও HRMS-এর সঙ্গে যুক্ত হবে। ঋণ মঞ্জুরির সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক সংস্থা তাদের নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়ন ও অনুমোদন দেখবে।
কীভাবে ঋণ শোধ করবেন?
ঋণের কিস্তি সরাসরি কর্মীর বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে, মাসিক কিস্তির পরিমাণ অন্য ঋণ বা কর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে নিট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। একজন কর্মী একবারে একটি অগ্রিম নিতে পারবেন। আগের ঋণ পুরোপুরি শোধ না হলে নতুন ঋণ নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের আগে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ শোধ করলে ফোরক্লোজার চার্জ লাগবে না।
কবে আবেদন শুরু হবে?
অর্থ দফতর ৩ নভেম্বর প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ৪ নভেম্বর ব্যাঙ্ক ও আর্থিক সংস্থাগুলির কাছে আগ্রহপত্র চাওয়া হয় এই পরিষেবা চালুর জন্য। আবেদন জমার শেষ তারিখ ২৬ নভেম্বর; ২৭ নভেম্বর আবেদন খোলা হবে। কর্মীরা কবে থেকে সরাসরি এই সুবিধা পাবেন, তা পরিষেবা দেওয়া সংস্থা চূড়ান্ত হওয়া এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)