জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: লা-লিগায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রায়ো বায়েকানো বনাম অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ম্যাচ! পরিস্থিতি এমনই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল যে, শেষ পর্যন্ত রায়ো বায়েকানোর চলতি লিগের প্রথম হোম ম্যাচ ভেস্তেই গেল! গত শনিবার রায়ো বায়েকানোর ঘরের মাঠ মাদ্রিদের এস্তাদিও দে বায়েকাসে খেলা চলাকালীন, রায়োর সমর্থকরা মাঠে শয়ে শয়ে কাগজের বিমান ও রাবারের বল ছুড়ে মারেন। চরম বিশৃঙ্খলায় প্রথমে ১৫ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। ফের সমর্থকরা পুনরায় বিক্ষোভ দেখাতে করলে রেফারি ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। খেলার স্কোর ছিল ০-০। ম্যাচ শুরুর ১৩ মিনিটে তুমুল বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। রায়োর সমর্থকরা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রাউল মার্টিন প্রেসার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন এবং মাঠে বিমান ও বল ছু়ড়তে শুরু করেন। মাঠ থেকে সেই সব বস্তু সরিয়ে ফেলার সময়ে খেলা বন্ধ রাখা হয় এবং স্টেডিয়ামের তরফে দর্শকদের শান্ত থাকার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু খেলা ফের শুরুর পরও বিক্ষোভ চলতে থাকায় রেফারি ম্যাচ বাতিল করা ছাড়া আর কোনও উপায় খুঁজে পাননি। ক্লাবের ম্য়ানেজমেন্ট ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের (যার মধ্যে ‘লেজিওনেয়ার্স ডিজিজ’-এর সম্ভাব্য ঝুঁকিও অন্তর্ভুক্ত ছিল) কারণে একটি অডিটের পর রায়োর বায়েকাসে স্টেডিয়াম সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সমর্থকরা ক্লাবের নানা সমস্যার জন্য ক্রমশ প্রেসিডেন্ট প্রেসাকেই দায়ী করে আসছেন আর গত শনিবার তাঁদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রায়োর ফ্যানরা কেন প্রতিবাদ জানালেন?
রায়োর সুযোগ-সুবিধার চরম দুরাবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। অতীতেও ফুটবলাররা পিচ ও অনুশীলনের জায়গা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পাশাপাশি অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা এবং গরম গলের অভাবের মতো বিষয়গুলিও ইন্ধন জুগিয়েছে এই ক্ষোভে। এছাড়া টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তিও সমর্থকদের পোহাতে হয়েছে—উল্লেখ্য যে, স্পেনের শীর্ষ লিগের ক্লাবগুলির মধ্যে রায়োই সম্ভবত একমাত্র ক্লাব যাদের কোনও অনলাইন টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট নেই। এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ক্লাবের ম্যাচ-সংক্রান্ত আয়োজনের উপরও। নিজেদের স্টেডিয়ামে ফেরার প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় রায়ো তাদের প্রথম তিন হোম ম্যাচ লেগানেসে আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছিল। এদিকে, সমর্থকরা যখন ক্লাবের উন্নতির দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন, তখন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্লাবটিকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে নিশানা করার অভিযোগ তুলেছেন।
এরপর কী হবে?
ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় অ্যাথলেটিক বিলবাও জানিয়েছে যে, তারা সেইসব সমর্থকের সঙ্গে যোগাযোগ করবে যারা খেলাটি দেখতে গিয়েছিলেন, যাতে টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। এখন পুরো ফোকাসই থাকবে এই ম্যাচটি পুনরায় আয়োজন করা সম্ভব কি না তা দেখার। পাশাপাশি এই ঘটনা রায়োর চলমান সমস্যাগুলির বিষয়ে কঠোর পর্যালোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে। রায়োর জন্য এক স্মরণীয় মরসুমের পরেই এই বিতর্ক সৃষ্টি হল। এর আগে তারা উয়েফা কনফারেন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছেছিল, যদিও সেখানে ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল। যদিও ঘরোয়া লিগে তাদের পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। লা লিগায় প্রথম ৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দু'টিতে জয় পেয়ে মাদ্রিদের এই দল বর্তমানে ১৩ নম্বরে। শনিবারের ঘটনা রায়োর জন্য ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা এই মরসুমে আরও এক কঠিন অধ্যায় যোগ করল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)