ঐতিহ্যের IFA শিল্ড ধরে রাখল মোহনবাগান, ৩৫৫ দিন পরেও ছুঁতে পারল না ইস্টবেঙ্গল!
IFA Shield 2026 : ইস্টবেঙ্গলকে ডার্বিতে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড ধরে রাখল মোহনবাগান| ৩৫৫ দিন আগে শিল্ড ফাইনালের মুখোমুখি হয়েছিল ইস্ট-মোহন| সেবার টাইব্রেকারে বাজিমাত করেছিল মোহনবাগান| এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জিতে চাম্পিয়ন সবুজ-মেরুন|
শুভপম সাহা: ভরা বিকেলে কলকাতায় হঠাৎই ঝড়-বৃষ্টি। মুহুর্মুহু জীমূতমন্দ্র আর ঝড়ের প্রবল দাপট! গরম নিমেষে গায়েব! তবে জেবি ব্লক, সেক্টর তিন, কলকাতা ৭০০১০৬-র আশেপাশের রেডিয়াসে গরম তো কমলই না, উল্টে বাড়ল| কারণ ভারতের সঙ্গে ব্যাক-টু-ব্যাক ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচের ঠিক পরপরই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বাঙালির চিরাচরিত আবেগের মহারণ| ১২৬তম আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান| লক্ষ্মীবারের সন্ধ্যায় খেতাবের লড়াই| মোহনবাগান ১-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে খেতাব ধরে রাখল| ব্যাক-টু-ব্যাক শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হল গঙ্গাপারের শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব| এই নিয়ে ২৩ বার শিল্ড জিতল মোহনবাগান| কলকাতা লিগের পর মরসুমের দ্বিতীয় ট্রফি ঢুকল ক্লাবের ক্যাবিনেটে|
আরও পড়ুন: 'অমর হয়ে থাকবে'... রনির আলিঙ্গনেই অস্তাচলে লিয়ো! 'ভগবান'রা ভক্তিগীতিতে, ভক্তরা খেউড়েই
প্রথমার্ধ যেমন ছিল
খেলার প্রথম দশ মিনিটেই হাবাসের শিষ্যরা কিন্তু তাঁদের পরিকল্পনা জলের মতো বুঝিয়ে দিয়েছিলেন| দু'টি উইং ধরে আক্রমণের ঝড় তুলছিলেন এডমন্ড-বিপিনরা| অন্যদিকে পানোসের মাঝমাঠ আর রক্ষণের বোঝাপড়ার অভাবেই ইস্টবেঙ্গল বারবার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছিল| মোহনবাগানকে কিছুটা ছন্দহীন দেখাচ্ছিল| বলের দখল ধরে রাখতেও রীতিমতো সমস্যায় পড়ছিল সবুজ-মেরুন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গেই মোহনবাগান খেলা ধরে নেয়| ২৩ মিনিটে মেহতাব দারুণ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন| টেকচাম দুর্দান্ত ক্রস বাড়িয়ে ছিলেন একদম ফাঁকায় থাকা মেহতাবকে| তবে তিনি হেডটি ঠিক মতো জায়গায় রাখতে পারলেন না| ৩৬ ও ৩৭ মিনিটে লাচেনপাকে পরীক্ষায় ফেলেছিল বাগান| ছাংতের বাঁ-পায়ের দূরপাল্লার জোরাল শট ধেয়ে আসার মুহূর্তের মধ্যেই সাহালের বক্সের মধ্যে দারুণ শট নিয়েছিলেন| তবে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরা মেরিনার্সকে কাঙ্খিত গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হল ৪৪ মিনিট| এডমন্ডের ভুল পাসই গোলের সূত্রধর! তাঁর থেকেই বল পেয়ে যান সামির জেলকোভিচ। তিনি সাহালের দিকে বল বাড়িয়ে জায়গা তৈরি করতে বক্সে ঢুকে পড়েন। সাহাল ঠান্ডা মাথায় ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের মাথার উপর দিয়ে চিপ তোলেন জেলকোভিচের উদ্দেশে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মিডফিল্ডার লাচেনপার পাশ দিয়ে নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন বিরতির আগেই|
দ্বিতীয়ার্ধ যেমন ছিল
বিরতির পরেই উত্তেজনা ছড়াল মাঠে| দেজান দ্রাজিচ ও সন্দীপ মান্ডির মাথায় মাথায় সংঘর্ষের পর দু’জনই মাটিতে পড়ে যান। এরপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, দুই দলের ফুটবলাররাই বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর মাঝমাঠে সামান্য ধাক্কাধাক্কিও শুরু হয়, তবে কড়া হাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি। চ্যালেঞ্জের জন্য মান্ডি দেখেন হলুদ কার্ড। দ্রাজিচ মাথায় ফেট্টি বেঁধেই নামেন| এরপর খেলা বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে| এরপর দুই কোচই দলে একাধিক বদল আনেন| তবে বারবার খেলার ছন্দ কাটে| খানিক চোরাগোপ্তা আর ধাক্কাধাক্কি ম্যাচের গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছিল| এর মাঝেই দুই দল গোলের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের আরও সাত মিনিট পেয়েও
ইস্টবেঙ্গল প্রথম একাদশ: ফুরবা লাচেনপা, হার্দিক ভাট, লালচুংনুংগা, এডমন্ড লালরিনডিকা, ড্যানি রামিরেজ, দিয়েগো জিভুলিচ, জিকসন সিং, জয় গুপ্তা, বিপিন সিং, সন্দীপ মান্ডি, মহম্মদ রাশিদ
মোহনবাগানের প্রথম একাদশ: বিশাল কাইথ, রাহুল ভেকে, মেহতাব সিং, সামির জেলজকোভিচ, লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে, সাহাল আব্দুল সামাদ, লি হ্যারি আরউইন, আলবার্তো রদ্রিগেজ মার্টিন, দীপক টাংরি, টেকচাম অভিষেক সিং, দেজান দ্রাজিচ