BIG BREAKING: অর্জুনজয়ী অধিনায়কের মাথায় বাজ! বাড়িতে ভয়াবহ চুরিতে খোয়া গেল অলিম্পিক্স সোনা! সঙ্গে এশিয়াড রুপো ও ব্রোঞ্জ
অর্জুনজয়ী অধিনায়কের মাথায় বাজ ভেঙে পড়ল! বাড়িতে ভয়াবহ চুরি হয়ে গেল। অলিম্পিক্স সোনার পদকের সঙ্গেই এশিয়াড রুপো ও ব্রোঞ্জ পদকও খোয়া গেল!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অলিম্পিক্সে ভারতের গর্ব করার মতো ইতিহাস হকিতে। ভারতের পুরুষ দল সবচেয়ে সফল। মোট আটবার এসেছে সোনা। ১৯২৮ (আমস্টারডাম), ১৯৩২ (লস অ্যাঞ্জেলেস), ১৯৩৬ (বার্লিন), ১৯৪৮ (লন্ডন), ১৯৫২ (হেলসিঙ্কি), ১৯৫৬ (মেলবোর্ন), ১৯৬৪ (টোকিও) ও ১৯৮০ (মস্কো) সালে ভারত শ্রেষ্ঠত্বের পদক ছিনিয়ে নিয়েছে 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' থেকে। মস্কোর সোনাজয়ী ভারতীয় দলে ছিলেন দেশের প্রাক্তন হকি অধিনায়ক এম এম সোমায়া। তাঁর বেঙ্গালুরুর বাড়িতে হয়ে গিয়েছি দুঃসাহসিক চুরি। মস্কো অলিম্পিক্সে জেতা সোনার পদকই শুধু খোয়া যায়নি। সোমায়ার বাড়ি থেকে চুরি হয়ে গিয়েছে ১৯৮২ সালে দিল্লিতে হওয়া এশিয়ান গেমসের রুপো, ১৯৮৬ সালে সিওলে হওয়া এশিয়াড ব্রোঞ্জ পদক ও এছাড়াও আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আরেকটি ব্রোঞ্জপদক। এখানেই শেষ নয়, একাধিক মূল্যবান জিনিসও চুরি হয়েছে।
আরও কী কী চুরি হয়েছে
সোমায়ার পুলিসের কাছে দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন যে, সোনার গয়না, রুপোর বাসনপত্র এবং নগদ ৩০০০০ টাকা চুরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি হওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা। খোয়া যাওয়া মূল্যবান জিনিসের মধ্যে রয়েছে দশ গ্রামের সোনার বালা, আট গ্রামের একটি সোনার মুদ্রা, ১৪৪ গ্রাম ওজনের রুপোর দু'টি কাপ, ছয়টি রুপোর চামচ এবং ৮০ গ্রাম ওজনের একটি রুপোর পাত্র। গত ২৮ অক্টোবর রাত প্রায় ২টা ৩৪ মিনিটে এই চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে বিষয়টি জানাজানি হয়, যখন এক প্রতিবেশী সোমায়ার বাড়ির সামনের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাঁকে সতর্ক করেন। প্রতিবেশীর বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, দু'জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি জোর করে বাড়ির ভিতরে ঢুকেছে। সন্দেহভাজনদের একজনের পরনে ছিল নীল রঙের শার্ট এবং অন্যজনের পরনে ছিল লাল রঙের শার্ট।
আরও পড়ুন: বিদায় CR7! আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা রোনাল্ডোর! 'বাজা তোরা, রাজা যায়'...
কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি
৬৭ বছর বয়সী এই প্রাক্তন খেলোয়াড় কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারকে চিঠি লিখে পদকগুলো উদ্ধারের জন্য চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে সোমায়া পদকগুলির জাতীয় গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন এবং সেগুলি উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি চিঠিতে লেখেন, 'একটি অলিম্পিক্স সোনার পদক কেবল একজন ক্রীড়াবিদের ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীকই নয়, বরং এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্রীড়া মঞ্চে দেশের জন্য অর্জিত এক সম্মান। চুরি হওয়া পদকগুলির মধ্যে একটি হপুরুষ হকি ইভেন্টে ভারতের সর্বশেষ অলিম্পিক্স স্বর্ণপদক; তাই এটি কেবল আমার ব্যক্তিগত জীবনের জন্যই নয়, বরং পুরো দেশ এবং ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমার কাছে এটি বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং দেশের প্রতি সেবার এক অনন্য ও অপূরণীয় প্রতীক।' ইন্দিরা নগর পুলিস ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ৩৩১(৪) ও ৩০৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (পূর্ব বিভাগ) বিক্রম আমতে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে এবং চুরি হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের জন্য দু'টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
ট্রফিতে ঠাসা সোমায়ার কেরিয়ার
আশির দশকে সোমায়া ছিলেন ভারতীয় হকি দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক্সে তিনি প্রথমবারের মতো অলিম্পিক্স আসরে অংশ নেন। সেই আসরেই ভারত পুরুষ হকি ইভেন্টে তাদের অষ্টম স্বর্ণপদক জিতেছিল। রাইট-হাফ পজিশনে খেলা সোমায়া পরে ১৯৮৪ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ১৯৮৮ সালের সিওল অলিম্পিক্সেও ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। সিওল অলিম্পিক্সে তিনি জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ি জীবনে দু'টি বিশ্বকাপ, দু'টি এশিয়ান গেমস, দু'টি এশিয়া কাপ এবং তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি টুর্নামেন্টও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারতীয় হকিতে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৫ সালে অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হন
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)