জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১৮ অক্টোবর ফতোর্দায় ইস্টবেঙ্গল ৪-০ গোলে চার্চিল ব্রাদার্সকে চুরমার করে আইএসএল ২০২৬-২৭ মরসুমের সূচনা করেছিল। পাঁচ দিন পর লাল-হলুদ খেলল লিগের দ্বিতীয় ম্য়াচ। আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাসের শিষ্য়রা ঠিক যেখানে শেষ করেছিল, সেখান থেকেই যেন শুরু করল শুক্রবার ২৩ অক্টোবর। এদিন পুণের বালেওয়াড়ির শ্রী শিব ছত্রপতি স্পোর্টস কমপ্লেক্স দেখল ইস্টবেঙ্গলের 'ফ্রাইডে ব্লকবাস্টার'। ইন্টারকাশীকে ৫-১ গোলে হারাল মশালবাহিনী। জোড়া গোল একে লোবার। গোয়া টু পুণে, অপ্রতিরোধ্য ইস্টবেঙ্গল। শহর বদলাল, তবে ইস্টবেঙ্গল বদলাল না। পরপর দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট তুলে এখন লিগ শীর্ষে গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল।
অশ্বমেধের ঘোড়া ইস্টবেঙ্গল
প্রথম দুই ম্য়াচে যথাক্রমে চার ও পাঁচ গোল। ৯ গোল করে লিগে দারুণ শুরু ইস্টবেঙ্গলের। এদিন নিজের কোচিং করানো পুরনো দলকে হাবাস মুখ তুলতেই দেননি। বিরতির আগে চার গোল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে ফেলে লাল-হলুদ। দ্বিতীয়ার্ধে আসে মাত্র এক গোল। তবে রশিদ, রামিরেজ, বিপিনরা সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে ইস্টবেঙ্গল আরও গোল করতে পারত। তবে এদিন হাবাসের পাওনা লোবার আগুনে ফর্ম। শুধু নিজে জোড়া গোলই করলেন না। গোল করালেনও। দুই মরসুম মিলিয়ে আইএসএলের টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থাকল ইস্টবেঙ্গল। যা নিঃসন্দেহে দারুণ রেকর্ড বলাই যায়।
কেমন হল এদিনের ম্যাচ
দলে পাঁচ বদল করেও হাবাস এদিন ১০০-তে ১০০ পেলেন। আপফ্রন্ট পুরোপুরি বদলে প্রথম একাদশে লোবাকে নিয়ে তাঁকে রাখলেন একেবারে সামনে। লোবার পিছনে বিপিন, রামিরেজ এবং বিষ্ণুর ত্রিফলা। শুরু থেকেই অলআউট ঝাঁপানোর ফল হাতেনাতে পায় ইস্টবেঙ্গল। খেলা শুরুর দু'মিনিটে জোড়া সুযোগ হাতছাড়া করা লালহলুদ ৮ মিনিটে ফ্লাডগেট খুলে ফেলে। কাশীর রক্ষণে বিরাট ভুলের সুযোগ নিয়ে র্যামিরেজ স্কোরশিটে নাম লিখিয়ে ফেলেন। রশিদে থেকে লোবা হয়ে বল পেয়ে যান তিনি। এরপর বিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের আলতো ছোঁয়ায় ইন্টার কাশীর গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে অনায়াসে বল ভাসিয়ে দিলেন।দ্বিতীয় গোল চলে আসে ১৬ মিনিটে। লোবার পাস থেকে বিষ্ণু পাস পেয়ে আচমকাই গতি বাড়িয়ে বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েন। তবে বিষ্ণু তেমন জোরালো শটই নেননি। তাঁর গড়ানো শটই গোলকিপার অ্যালবিনোর হাতের ফাঁক দিয়ে গলে গেল। ম্যাচের ২২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল তৃতীয় গোলের দেখা পায়। ইন্টার কাশীর ডিফেন্ডার রামিরেজকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টি পায় ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ২২ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনও ভুলই করেননি লোবা। খেলার ২৮ মিনিট অবশেষে কাশী গোলের দেখা পায় চিকারার সৌজন্যে। তবে ওই এক গোলে কিসসু যায় আসেনি ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচের ৩৫ মিনিটেই ইস্টবেঙ্গল ৪-১ করে ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলে। বিপিনের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন লোবা। পেয়ে যান নিজের দ্বিতীয় গোল। দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল একই রকম আগ্রাসন নিয়েই খেলে। ম্যাচের ৮১ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের পাঁচ নম্বর গোলটি আসে। ইকোনমিডিসের পাস থেকে গোল করেন লোবার পরিবর্তে নামা লুকাস জিলিনস্কিকে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)