দশমীতে রাবণের সঙ্গে হবে ৩০ ফুটের আরশোলা-দহন: দেশকে জঞ্জালমুক্ত করতে রামলীলা ময়দানে বেনজির আয়োজন? বিতর্কের ঝড়
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দশেরার (Dussehra) পুণ্যলগ্নে অসত্যের ওপর সত্যের এবং মন্দের ওপর ভালোর জয়ের প্রতীক হিসেবে রাবণ, কুম্ভকর্ণ এবং মেঘনাদের কুশপুতুল দহন করা বহু শতাব্দীর পরম্পরা। তবে দিল্লির পিটামপুরার শ্রী কেশব রামলীলা কমিটি (Shree Keshav Ram Leela Committee) এবার সেই চেনা ছবিতে আনল এক বেনজির মোড়। দশমীর সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী পৌরাণিক চরিত্রদের পাশাপাশি সেখানে আগুনে ভস্মীভূত হতে চলেছে ৩০ ফুট উচ্চতার একটি দানবীয় আরশোলার কুশপুতুল (giant cockroach effigy)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজধানী জুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দশেরার (Dussehra) পুণ্যলগ্নে অসত্যের ওপর সত্যের এবং মন্দের ওপর ভালোর জয়ের প্রতীক হিসেবে রাবণ, কুম্ভকর্ণ এবং মেঘনাদের কুশপুতুল দহন করা বহু শতাব্দীর পরম্পরা। তবে দিল্লির পিটামপুরার শ্রী কেশব রামলীলা কমিটি (Shree Keshav Ram Leela Committee) এবার সেই চেনা ছবিতে আনল এক বেনজির মোড়। দশমীর সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী পৌরাণিক চরিত্রদের পাশাপাশি সেখানে আগুনে ভস্মীভূত হতে চলেছে ৩০ ফুট উচ্চতার একটি দানবীয় আরশোলার কুশপুতুল (giant cockroach effigy)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজধানী জুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পৌরাণিক আখ্যানে আরশোলা:
আয়োজকদের যুক্তি কী? উৎসবে হঠাৎ কেন এই কীট-পতঙ্গের প্রবেশ?
আয়োজক কমিটির সভাপতি তথা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অশোক গোয়েলের (BJP MLA Ashok Goel) দাবি, এই উদ্যোগের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রামলীলার মঞ্চে এই আরশোলাকে রাবণের অসুর সেনার (asura in Ravan's army) অন্যতম রূপ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। আয়োজকদের বক্তব্য, আরশোলা হল অপরিচ্ছন্নতা, রোগজীবাণু এবং সামাজিক উত্পাতের প্রতীক। রাম যেমন সমাজে অধর্ম ও অন্ধকারের প্রতীক রাবণকে নিধন করেছিলেন, তেমনই আধুনিক নাগরিক জীবনে জঞ্জাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশও এক ধরনের 'অসুর'। তাই 'স্বচ্ছ ভারত' (Swachh Bharat) এবং 'স্বচ্ছ দিল্লি' (Swachh Delhi) অভিযানের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরতেই এই প্রতীকী আরশোলা দহন।
বিতর্কের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আয়োজকরা একে নিখাদ পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা সচেতনতা (cleanliness awareness) বলে দাবি করলেও, রাজধানীর রাজনৈতিক মহল কিন্তু বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে দেখছে। সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা সিজেপি (Cockroach Janta Party - CJP), নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নানা দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতিবাদ ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
সমালোচকদের একাংশের মতে, রামলীলার মতো প্রকাশ্য ও জনবহুল মঞ্চে আরশোলা পোড়ানোর সিদ্ধান্ত আদতে ওই আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরোক্ষ কটাক্ষ করার এক সচেতন প্রচেষ্টা। যদিও আয়োজক কমিটি এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে একে কেবলই নাগরিক স্বাস্থ্য সচেতনতার কর্মসূচি বলে সাফাই দিয়েছে।
সমাজমাধ্যমের নজর ও গুগল ট্রেন্ডে কেন শীর্ষে এই আরশোলা-দহন?
দশেরা উদযাপনে এমন ব্যঙ্গাত্মক এবং সমসাময়িক প্রতীকের ব্যবহার সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে সৃজনশীল বার্তা হিসেবে সাধুবাদ জানালেও, অন্য অংশ ধর্মীয় উৎসবের ঐতিহ্যের সঙ্গে সমসাময়িক সামাজিক-রাজনৈতিক আবহ মেশানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সব মিলিয়ে, পিটামপুরার এই রামলীলা এবার কেবল পৌরাণিক আখ্যান নয়, নাগরিক সচেতনতা এবং সূক্ষ্ম রাজনৈতিক তরজার যুগলবন্দি হয়ে উঠেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)