রাজনৈতিক ভূমিকম্প: রামলীলায় সভার পরেই ইন্ডিয়া জোটে ধাক্কা, ১২ বিধায়কই যোগ দিলেন বিজেপিতে, পড়ে রইলেন তিনি একা
Meghalaya UDP crisis: মেঘালয়ের রাজনীতিতে বড়সড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প। রাতারাতি UDP-র ১২ জনের মধ্যে ১১ জন বিধায়ক যোগ দিলেন BJP ও NPP-তে। ইস্তফা দিলেন মেটবা লিংডো।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ের রাজনীতিতে বিরাট রাজনৈতিক বদল। রাতারাতি কার্যত নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে রাজ্যের প্রধান আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টি (UDP)। ৬০ সদস্যের বিধানসভায় দলটির ১২ জন বিধায়কের মধ্যে ১১ জনই দলত্যাগ করে যোগ দিয়েছেন বিজেপি (BJP) এবং শাসকদল ন্যাশনাল পিপলস পার্টিতে (NPP)। দলে আকস্মিক ভাঙনের পর সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ে মেঘালয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ইউডিপি সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন স্পিকার মেটবা লিংডো (Metbah Lyngdoh)।
বিধানসভার সংখ্যাতত্ত্বে কার শক্তি কতটা বাড়ল?
এই ঐতিহাসিক দলবদলের পর মেঘালয় বিধানসভার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে:
বিজেপির বড় লাফ: ইউডিপি থেকে একলপ্তে আটজন বিধায়ক পদ্ম শিবিরে শামিল হওয়ায় বিধানসভায় বিজেপির আসনসংখ্যা ২ থেকে সরাসরি বেড়ে দাঁড়াল ১০-এ।
ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে এনপিপি: অন্যদিকে, তিনজন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার দল এনপিপিতে মিশে যাওয়ায় শাসকদলের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬-এ। ফলে সরকার পরিচালনায় জোটের ওপর তাদের একক নির্ভরতা কার্যত শেষ।
কোণঠাসা ইউডিপি: ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১২টি আসনে জিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসা ইউডিপির শক্তি এখন নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বিধায়ক হিসেবে একাই টিকে রইলেন সভাপতি মেটবা লিংডো।
বিজেপিতে যোগ দেওয়া আট বিধায়ক হলেন-- লাহকমেন রিমবুই, কিরমেন শ্যিল্লা, পিয়াস মারউইন, মায়রালবর্ন সিয়েম, ম্যাথিউ বিয়ন্ডস্টার কুরবাহ, ওলান সিং সুইন, বালাজিয়েদ কুপর সিনরেম এবং সিনশার কুপর রয় লিংডো থাবাহ। অন্যদিকে এনপিপিতে গিয়েছেন পল লিংডো, রেনিকটন লিংডো টংখার ও নুজোরকি সুংগোহ।
দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতে সংবিধানের ঢালবিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ হওয়া আটকাতে সুকৌশলে ভারতীয় সংবিধানের দশম তফশিলকে (Tenth Schedule of the Constitution) কাজে লাগানো হয়েছে।
সংবিধানের দশম তফশিলের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (Paragraph 4) অনুযায়ী, কোনও আইনসভার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (Two-Thirds Majority) সদস্য দল ছেড়ে অন্য দলে মিশে গেলে তাঁদের বিধায়ক পদ বাতিল হয় না। স্পিকার দফতর জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যার নিয়ম পূরণ করেই এই সংযুক্তি (Merger) ঘটেছে, তাই স্পিকার এই সংযুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন।
কেন এই আকস্মিক ভাঙন? কীসের অসন্তোষ?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিদ্রোহ রাতারাতি ঘটেনি; দলের ভেতরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই।
মন্ত্রিসভার টানাপোড়েন: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মন্ত্রিসভার রদবদলের সময় পল লিংডো ও কিরমেন শ্যিল্লার জায়গায় মেটবা লিংডো ও লাহকমেন রিমবুইকে মন্ত্রী করা নিয়ে অসন্তোষ তীব্র হয়েছিল।
সংগঠনের রাশ নিয়ে বিরোধ: তৃণমূল স্তরে সংগঠন পরিচালনা ও দলের নীতি নির্ধারণে শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বিধায়কদের বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। খাসি-জয়ন্তিয়া পার্বত্য অঞ্চলের শক্তিশালী আঞ্চলিক দলটির এই পরিণতি আগামী দিনে মেঘালয়ের রাজনীতিতে আঞ্চলিক দল বনাম জাতীয় দলের ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন নিয়ে এল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)