ষষ্ঠীতে রণক্ষেত্র দিল্লি: অভিজিৎ দীপকের পর আইসা সভাপতি নেহা বোরাও আটক, নেপথ্যে কী কারণ? জল্পনা তুঙ্গে
AISA President Neha Borah detained by Delhi Police: ষষ্ঠীতে রণক্ষেত্র দিল্লি: অভিজিৎ দীপকের পর আইসা সভাপতি নেহা বোরাও আটক, নেপথ্য কারণ?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে শুক্রবার কনট প্লেসের (Connaught Place) সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ (Lehra Do Tiranga) মিছিলের ডাক দিয়েছিল 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা সিজেপি (CJP)। তবে এই কর্মসূচি শুরুর আগেই কড়া ব্যবস্থা নিল দিল্লি পুলিস (Delhi Police)। বিক্ষোভস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করতেই সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর একে একে ছাত্র সংগঠন আইসা (AISA)-র সভাপতি নেহা বোরাও (Neha Bora) পুলিসের হাতে আটক হন। এই মুহূর্তে রণক্ষেত্র চেহারা নিয়েছে রাজধানীর রাজপথ। তাহলে কি অবশেষে অবসান হতে চলছে জেনজি বিদ্রোহের? এমনিতেই CJP দলের দুই প্রধান মুখ আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস আইন অমান্য করায় ৫দিনের জেল হেফাজতে। তাণদের ঠিকানা এখন তিহার। বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা ককরোচ ও তরুণ ছাত্রছাত্রীদলের সব দ্রোহ কি পুলিসের হাতে আটক হয়ে আটকে গেল অচিরেই? যন্তরমন্তর থেকে শুরু হওয়া দেশ জুড়ে বিক্ষোভের আকার নেওয়া ককরোচদের বিপ্লব এবার অন্ধকারে? দুর্গাষষ্ঠীতে এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।
প্রতিবাদের নেপথ্য প্রেক্ষাপট কী?
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতে (SIR) কারচুপির অভিযোগে সরব হয়ে এই তেরঙ্গা মার্চের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আশুতোষ ও সৌরভের সেই গ্রেফতারির এবং পুলিসি পদক্ষেপের প্রতিবাদেই মূলত আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকের দাবি ছিল, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কোনও অপরাধ নয় এবং সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে দমন করছে।
প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যস্ত এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন। কনট প্লেস ও তার সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS Section 163) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এনডিএমসি (NDMC)-এর তরফ থেকে এই তেরঙ্গা যাত্রার কোনও আইনি অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি সম্ভাব্য ঝামেলা এড়াতে মধ্য দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিস কর্মী এবং আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিসি নোটিস ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভিজিৎ দীপকে যখন মিছিলের উদ্দেশে রওনা হন, তখন পথেই তাঁকে আটকায় পুলিস। একই সঙ্গে মান্ডি হাউস চত্বর থেকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন আইসা-র প্রধান নেহা বোরাকেও আটক করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ধরপাকড় ও পুলিসি ক্র্যাকডাউনের জেরে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনী বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তেরঙ্গা ওড়ানোর দাবিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথ ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)