বিক্ষোভের নতুন ঠিকানা রামলীলা ময়দান: একদিনের বুকিং ফি-ই ১.২১ লাখ! চলতি বছরে ফাঁকা মাত্র ৩ দিন
Ramlila Maidan: চলতি বছরে রামলীলা ময়দানের কেবল ২৯, ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বরের তারিখগুলিই খালি রয়েছে। পুরনিগমের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ময়দানের একটি ছোট অংশ নিখরচায় বিক্ষোভের জন্য বরাদ্দ রয়েছে, যেখানে মাত্র ১৫০ জনের মতো মানুষ জমায়েত হতে পারেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নয়াদিল্লিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদের প্রধান কেন্দ্র ছিল যন্তর মন্তর। তবে দিল্লি পুলিশ সোমবারই যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে তালিকাচ্যুত করে তিনটি নতুন জায়গা নির্ধারণ করেছে—রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড। এর মধ্যে দেশের ঐতিহাসিক ও অন্যতম বৃহৎ সমাবেশস্থল রামলীলা ময়দানকে বিক্ষোভের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়ায় নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রামলীলা ময়দানের বুকিং ফি
দিল্লি পুলিশের সূত্র অনুসারে, চলতি বছরে রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য বুকিংয়ের সুযোগ প্রায় শেষ। পুরো বছরে কেবল ২৯, ৩০ এবং ৩১ ডিসেম্বরের তারিখগুলিই খালি রয়েছে। দিল্লি পুরনিগমের (MCD) উদ্যানপালন বিভাগের মাধ্যমে এই ময়দান বুক করতে হয়। ময়দান় বুক করার জন্য প্রতিদিন ৫০,০০০ টাকা ভাড়া এবং ৫৫,০০০ টাকা সিকিউরি ডিপোজিট জমা দিতে হয়। এর সঙ্গে ট্যাক্স যুক্ত হয়ে একদিনের বুকিং খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১.২১ লাখ টাকা। এছাড়া দিল্লি পুলিশের NOC পাওয়াও বাধ্যতামূলক।
পুরনিগমের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ময়দানের একটি ছোট অংশ নিখরচায় বিক্ষোভের জন্য বরাদ্দ রয়েছে, যেখানে মাত্র ১৫০ জনের মতো মানুষ জমায়েত হতে পারেন। তবে সম্পূর্ণ ১২ একরের মাঠে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ যোগ দিতে পারে। বলাই বাহুল্য যে, সাধারণ সামাজিক বা নাগরিক সংগঠনগুলির জন্য যন্তর মন্তরের মতো স্থানে বিনামূল্যে প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা। পাশাাপাশিস এত বিপুল অর্থ খরচ করে মাঠ বুক করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে বলেও মত প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
বিরোধীদের ক্ষোভ
রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেন, এটি সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর এক ধরণের আঘাত। রামলীলা ময়দানে ইতিমধ্যেই রামলীলা ও অন্যান্য উৎসবের একাধিক অনুষ্ঠান পূর্বনির্ধারিত থাকে। উৎসবের মরসুমে সেখানে কীভাবে বিরোধীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া আসফ আলি রোড ও আশেপাশের হাসপাতাল এলাকাগুলিতে এমনিতেই যানজট থাকে, ফলে বিশাল জনসভার সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করাও বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে গেলে ১৯৩০ সালের পর জলাশয় ভরাট করে তৈরি রামলীলা ময়দান ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনের এক নীরব সাক্ষী। ১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সত্যাগ্রহ, ১৯৫৬-৫৭ সালে জওহরলাল নেহেরুর সভা, ১৯৭৫ সালে জয়প্রকাশ নারায়ণ ও অটল বিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক Rally থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান—সবই এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি ২০১১ সালে আন্না হাজারে প্রথমে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করলেও পরে লোকপাল আন্দোলনের তীব্রতা ও জনসমাগড় বাড়লে পর আন্দোলন রামলীলা ময়দানে স্থানান্তরিত করতে হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)