জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভুলতে পারবে না কোনও ভারতীয়। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকা ভেসে গিয়েছিল রক্তে। নিরীহ পর্যটকদের উপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা চলেছিল সেদিন। ২৬ জনের প্রাণ চলে গিয়েছিল। পাকিস্তানের সালাফি জিহাদবাদী সশস্ত্র ও জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গেই জম্মু-কাশ্মীরের সক্রিয় সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টও হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। মা-বোনদের সিঁদুর মোছার জবাব দিতে ভারত দেরি করেনি। ভারতীয় বায়ুসেনা চালিয়েছিল অপারেশন সিঁদুর। পাকিস্তান ও পাক নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল। জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার ৯টি প্রধান সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ও পরিকাঠামো সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেদিন থেকেই লস্কর-ই-তৈবা প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে। আর এবার তারা বিরাট বদলা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামুদ্রিক হামলার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) এক বৈঠকের মধ্যেই হাফিজ মহম্মদ সইদের নেতৃত্বাধীন এই সংগঠন পাকিস্তানের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বলেই খবর এসেছে। তবে ইসলামাবাদ এই বিষয়ে নির্বিকার।
দাওয়া মেরিন উইং, সদা-এ-হুরিয়া
মিডিয়ার রিপোর্ট যদি বিশ্বাস করতে হয়, তবে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের করাচি বন্দরের কাছাকাছি কোনও এক স্থানে সামুদ্রিক পরিবেশে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ইসলামাবাদের ধৃষ্টতা কতটা, তা এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে, এই স্থানটি মুম্বইয়ে অবস্থিত ভারতীয় নৌবাহিনীর রাডার আওতাভুক্ত এলাকার খুব কাছেই। লস্কর-ই-তৈবা দাওয়া মেরিন উইং বা সদায়ে হুরিয়াত নামে এক আলাদা শাখা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি সেই একই শাখা যা আগে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মাংলা বাঁধে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল এবং গত বছর অপারেশন সিদুঁরের সময়ে ভারত সেখানে বোমা হামলা চালিয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, করাচিতে প্রশিক্ষণরত সন্ত্রাসীরা পর্যটক সেজে সেখানে ঘুরছে এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ভান করছে। লস্কর-ই-তৈবার প্রক্সি সংগঠন পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগের সদস্যরা এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রতিবেদনের ইঙ্গিত হাফিজ সইদের নেতৃত্বাধীন এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সামুদ্রিক পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছে। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই হামলার পর থেকে আরও দুঃসাহসী হয়ে ওঠা এই সন্ত্রাসী সংগঠন এখন আরও ভয়ংকর ও জঘন্য কোনও পরিকল্পনাই করছে। পাকিস্তান আগের মতোই এই সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করছে ও মদত দিচ্ছে।
লস্কর-ই-তৈবার সামুদ্রিক হামলা
মনে করা হয়, ২০০৮ সালে করাচি থেকে নৌপথে মুম্বইয়ে পৌঁছে লস্কর-ই-তৈয়বা যে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, সেই সময় থেকেই তারা পাকিস্তানের একটি বন্দর শহরে একটি ছোট দল বজায় রেখেছে। এই সন্ত্রাসী সংগঠন এখন নিজেদের শক্তি সুসংহত করছে এবং নতুন দক্ষতা ও কৌশল আয়ত্ত করছে, যাতে তারা পাকিস্তানের সহায়তায় আরও বড় কোনও হামলার চেষ্টা চালাতে পারে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাশ্মীর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স তারা উপত্যকার ছ'টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে যে, লস্করের এক শাখা স্থানীয় যুবকদের উগ্রবাদী করে তুলছিল এবং তাদের নিজেদের দলে নিয়োগ করছিল। বুদগাম, শ্রীনগর, বিজবেহারা, অনন্তনাগ এবং পুলওয়ামা থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর নথিপত্র, সরঞ্জাম ও ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
২৬/১১ মুম্বাই হামলা
২০০৮ সালের ২৬ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত লস্কর-ই-তৈবা মুম্বইতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। এই সময় ১২ জন ইসলামি সন্ত্রাসবাদী মুম্বইতে এসে পৌঁছায়। তারা পাকিস্তানের করাচি থেকে একটি কার্গো জাহাজে যাত্রা শুরু করে, আরব সাগরে আসার পথে এক ভারতীয় মাছ ধরার ট্রলার ছিনতাই করে এবং পরবর্তীতে ছোট নৌকায় (ইনফ্ল্যাটেবল বোট) করে দক্ষিণ মুম্বইয়ের উপকূলে অবতরণ করে। তারা ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস, ট্রাইডেন্ট হোটেল, তাজমহল প্যালেস হোটেল, লিওপোল্ড ক্যাফে, কামা হাসপাতাল, নরিমান হাউস, মেট্রো বিগ সিনেমাস, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পিছনের একটি গলি এবং দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার সদর দফতরের সামনে নির্বিচারে গুলি চালায়। আজমল কাসাব ছাড়া বাকি সবাই এই হামলায় মারা গিয়েছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
Add Zee N