দিল্লির বিগ ব্রেক: জবাব তৈরি করতে না পেরে ফের স্পিকারের কাছে সময় দরবার NCPI সাংসদের
NCPI: আজকের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা বলেছিলেন এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীরা আশ্বাসও দিয়েছিলেন যে জবাব তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তা হয়নি।
রাজীব চক্রবর্তী ও প্রবীর চক্রবর্তী: জবাব প্রস্তুত নেই, স্পিকারের কাছে আবার সময় চাইতে চলেছেন এনসিপিআই সাংসদরা। আজ, ৮ অক্টোবর নির্ধারিত সময় শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে জবাব তৈরি করতে পারেননি তৃণমূল ত্যাগী ২০ সাংসদের আইনজীবীরা। তাই কথা দিয়েও আজ স্পিকারের নোটিশের জবাব দিতে পারছে না এনসিপিআই। আজ আবার নতুন করে দু' সপ্তাহ সময় চাওয়া হবে।
জবাব রেডি নেই!
স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে চিঠি এবং ইমেল পাঠানো হবে আজ সন্ধ্যার মধ্যে। বুধবার সকালে স্পিকারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তিনি আজকের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা বলেছিলেন। প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের এক মাস সময় দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে স্পিকারের কাছেও সময় চাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু আইনজীবীরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, আজ, অর্থাৎ জবাব দেওয়ার শেষ তারিখে কুড়ি সাংসদদের জবাব তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে তা হয়নি। এ প্রসঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আজ আমাদের শেষ দিন। কথা বলব সবার সঙ্গে। চিঠি তৈরি করা হয়েছে। আজকে মেইল করতে হবে। ২ সপ্তাহ টাইম চাইছি। সুপ্রিম কোর্টে আমাদের সময় আছে ২৭ তারিখ পর্যন্ত। আজ বিকেল ৫ টার মধ্যে মেইল করে দেব।"
প্রথমবার কলকাতায় বৈঠক
একদিকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা। অন্যদিকে স্পিকারের কাছে বারবার সময় চাওয়া, কোন দলে আছি উত্তর দেওয়ার জন্য, এই অবস্থায় এনসিপিআই-এর কুড়িজন সংসদ আজকে বৈঠকে বসছেন। এই প্রথমবার কলকাতায় বৈঠকে বসতে চলেছেন এনসিপিআই সাংসদরা। সেই বৈঠকেই পরবর্তী কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
২ সপ্তাহ সময় দেন স্পিকার
প্রসঙ্গত, গত ২৫ সেপ্টেম্বর NCPI সাংসদদের জবাব দেওয়ার জন্য আরও ২ সপ্তাহ সময় দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ৮ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয় এনসিপিআই সাংসদদের। ২২ সেপ্টেম্বর জবাব দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে আরও ৪ সপ্তাহ সময় চান ২০ এনসিপিআই সাংসদ। স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে ৪ সপ্তাহ অর্থাৎ আরও এক মাস সময় চান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়রা। তবে ৪ নয়, ২ সপ্তাহ সময় দেন স্পিকার। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ।
সদস্যপদ খারিজের দাবি
কেন তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না, সেই বিষয়েই NCPI সাংসদদের কাছে জবাব তলব করেছে স্পিকারের দফতর। সদস্যপদ খারিজের দাবিতে বিবাদ শুরু হয় গত জুন মাসে। মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বাংলায় পালাবদলের পর। বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরই 'তৃণমূলে' ভাঙন দেখা দেয়। সেই সময় দিল্লিতে'তৃণমূল কংগ্রেস' ছাড়ার ঘোষণা করে এনসিপিআই-তে যোগ দেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন সাংসদ। তাঁদের লোকসভা নেতা হন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
সুপ্রিম কোর্টেও মামলা
এরপরই প্রথমে লোকসভার স্পিকারের কাছে দলত্যাগী সাংসদদের সদস্য পদ খারিজের আবেদন জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন এই অভিযোগে পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। যারপরই সুপ্রিম কোর্ট ওই ২০ জন সংসদকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর জন্য নোটিস পাঠায়। সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের পাশাপাশি অবস্থান ব্যাখ্যা করে ২০ NCPI সাংসদকে নোটিস পাঠান লোকসভার স্পিকারও। যে নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য তিন দফায় প্রথমে ৭ দিন, তিন সপ্তাহ ও দু'সপ্তাহ করে আরও সময় চেয়ে নেন এনসিপিআই সাংসদরা। জবাব রেডি হয়নি বলে এবার আবার আরও ২ সপ্তাহ সময় চাইতে চলেছেন NCPI সাংসদরা।
আরও পড়ুন, ২৫ বছর পূর্ণ করে নতুন পাঁচ লক্ষ্য মোদীর, ২০৪৭-এর মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার ডাক