জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সলমন খান, রোহিত শেট্টি, বাবা সিদ্দিকি, এই ৩ জনের জীবনে একটা মিল রয়েছে। সেটি হল এদের তিন জনের উপরেই হামলা হয়েছে। অভিযোগ ওই হমলা চালিয়েছে বিষ্ণোই গ্যাং। এবার নবতম সংযোজন টাইগার শ্রফ। তাহলে কি এবার বলিউডে ফিরছে ডি কোম্পানির মতো সংবদ্ধ বিষ্ণোই গ্যাং? করিম লালা, বরদারাজন মুদালিয়ার, ছোটা রাজন, অরুণ গাউলির মতো গ্যাংস্টারদের কি এবার ফের দেখা মিলবে বাণিজ্য নগরিতে? এবার বলিউড কাঁপছে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দাপটে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। সেখানে গ্যাংস্টার অলোক পণ্ডিত সলমান খানকে হুমকি দিচ্ছে ও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছে। টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দায় স্বীকার করে সে বলেছে, কথা শোন সলমান, যদি তুমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের কাছে ক্ষমা না চাস তাহলে তোমার বাড়িতে একটা কুকুরও রাখব না। তোমার পুরো ফ্যামিলিকে শেষ করে দেব। ভেবো না খুব নিশ্চিন্ত থাকতে পারবে।
আরও একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হচ্ছে। সেখানে হরমন সান্ধু নামে এক ব্যক্তি টাইগার শ্রফের ওপর হামলা করেছে বলে দাবি করছে। শুধু তাই নয় সে বলছে, বলিউডের যে আমাদের কথা মানবে না অথবা সলমানের সঙ্গে কাজ করবে সে হবে পরের টার্গেট।
কীভাবে একের পর এক হামলা
বিষ্ণোই গ্যাং প্রধান লরেন্স বিষ্ণোই ঘনিষ্ঠ সম্পথ নেহরা ২০১৮ সালে সলমান খানের উপরে হামলা করে। পরে লরেন্স বিষ্ণোই সলমানকে হুমকি দেয় যে খুব শীঘ্রই যোধপুরে তাকে হত্যা করা হবে।
সলমানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ২০২৩ সালে অভিনেতা-সংগীতশিল্পী গিপ্পি গ্রেওয়ালের বাড়িতে হামলা করে বিষ্ণোই গ্যাং।
২০২২ সালে পঞ্জাবের মানসায় খুন হন পঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসে ওয়ালা। ওই খুনের ঘটনার পেছনেও বিষ্ণোই ঘনিষ্ঠ গোল্ডি ব্রার।
২০২৩ সালের মার্চে এনআইএ একটি চার্জশিট পেশ করে। সোখানে বলা হয়, বিষ্ণোইয়ের সিন্ডিকেটের সঙ্গে খালিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। খালিস্তানিদের কাছ থেকে তারা অস্ত্র-টাকাপয়সা পায়।
২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কানাড়ায় খালিস্তানি টাইগার ফোর্সের সদস্য সুখদূল সিং গিলকে হত্যার দায় স্বীকার করে লরেন্স বিষ্ণোই।
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকী ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর খুন হন। তার একমাত্র অপরাধ তার সঙ্গে সলমান খানের যোগাযোগ ছিল। এর পেছনেও বিষ্ণোই গ্যাং।
ডি কোম্পানির দাপট
বিগত দিনে মুম্বই কাঁপিয়েছিল বেশ কয়েকজন গ্যাংস্টার। তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হাজি মস্তান। হাজি মস্তান ছিল তত্কালিন বম্বে ভিত্তিক এক তামিল গ্যাংস্টার। হাজি মস্তান ছিল আর এক গ্যাংস্টার করিম লালার সহযোগী। ছাটের দশকের এক দাপুটে মফিয়া ছিল হাজি মস্তান।
বরদরাজন মুদালিয়ার একসময় মুম্বই কাপাত। নিক নেম ছিল 'বরধা ভাই'। সে ছিল এক তামিল গ্যাংস্টার। ১৯৬০ থেকে ২০ বছর সে মুম্বই কাঁপিয়েছে।
মুম্বইয়ের সবচেয়ে বড় নাম দাউদ ইব্রাহিম। ১৯৮০-র দশকে উত্থান। 'ডি-কোম্পানি' নামে তার গ্যাং একটা সময় গোটা মুম্বই কাঁপাত। বলিউডের অনেককিছুই নিয়ন্ত্রণ করত ডি কোম্পানি। সেই জায়গা কি এবার নিতে চলেছে বিষ্ণোই গ্যাং?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)