'ইংরেজি বলতে পারো না?' ওয়েটারকে কষিয়ে থাপ্পড় গেস্টের! শুনে ভয়ংকর ক্ষুব্ধ হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিকে চিরতরে...
Guest Slapped Waiter at Taj Agra: গেস্টের হাতে চড় খেলেন এক ওয়েটার। হ্যাঁ, একেবারে চড়! যেখানে-সেখানে নয়, তাজ আগ্রায় ঘটেছে এই ঘটনা। ফাইভ-স্টার তাজ আগ্রায় ওয়েটার ও কাস্টমারের মধ্যে সার্ভিস সংক্রান্ত এই ভুলবোঝাবুঝির ঘটনা নিয়ে চলছে তীব্র চর্চা। ওয়েটারের এই অপমানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: একেবারে চড়! গেস্টের হাতে চড় খেলেন এক ওয়েটার। যেখানে-সেখানে নয়, তাজ আগ্রায় ঘটেছে এই ঘটনা। ফাইভ-স্টার তাজ আগ্রায় ওয়েটার ও কাস্টমারের মধ্যে সার্ভিস সংক্রান্ত এই ভুলবোঝাবুঝির ঘটনা নিয়ে চলছে তীব্র চর্চা। ওয়েটারের এই অপমানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ। তারা ওই অতিথিকে চিরতরে ব্যান করে দিল। সমবেদনা জানিয়ে তারা তাদের কর্মীর পাশেই দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: 'অর্ণব'কে ধাক্কা মেরে পূর্বে সরানোর জন্য জম্মু কাশ্মীর-
কষিয়ে চড়
হোটেলটির ব্যবস্থাপনা সংস্থার যুগ্ম ম্যানেজিং ডিরেক্টর পরিতোষ লধানি লিংকডিনে একটি পোস্টের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগ্রার তাজ হোটেলের রেস্তোরাঁয় অতিথিদের খাবার পরিবেশন করছিলেন কান্তি নামের এক তরুণ কর্মী। সে সময় এক অতিথির সঙ্গে কথাবার্তার ক্ষেত্রে তাঁর একটু ভুল বোঝাবুঝি ঘটে। কান্তি ইংরেজিতে খুব একটা দক্ষ না হওয়ায় কথোপকথনে কিছু শূন্যস্থান তৈরি হয়ে যাচ্ছিল। আর এতেই বিরক্ত হয়ে অতিথিটি কান্তিকে থাপ্পড় মেরে বসেন।
আরও পড়ুন: রাতে হোটেলে ভয়ংকর শুট-আউট, এলোপাথাড়ি গুলিতে
ক্ষমতাহীনের লাঞ্ছনা
গর্বিত ধনীর রাগ প্রকাশ। সে তো চেনা ছবি। দুর্বলকে বা ক্ষমতাহীনকে লাঞ্ছনা করার এই ট্রেন্ড আজকের নয়। কিন্তু এই ঘটনার উল্টোদিকটা খুব কষ্টের। সেটা ওই লাঞ্ছনাকে পেটের দায়ে নির্বিবাদে হজম করা। ভরা হোটেলে সকলের সামনে এমন নজিরবিহীন লাঞ্ছনার শিকার হয়েও কান্তি নিজে থেকে কারও কাছে এ নিয়ে কোনও অভিযোগ করেননি।
স্বপ্নের ইতিহাস এবং
পরে বিষয়টি জানতে পেরে পরিতোষ লধানি যখন তাঁকে চুপ থাকার কারণ জিজ্ঞেস করেন, তখন সেই তরুণ যা উত্তর দেন, তাতে অসম্ভব কষ্ট পান তিনি। আগ্রার কাছেরই এক প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান কান্তি। বহু পরিশ্রম আর লড়াইয়ের পর তিনি তাজ হোটেলের মতো নামী জায়গায় চাকরি করছেন। এরকম একটা জায়গায় চাকরি পাওয়াটা তাঁর কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন একটি চড়ের ঘটনায় টোল খাক-- তা চাননি কান্তি। তা ছাড়া তিনি কিছুটা ভয়ও পেয়ে যান। ভয়ে তাই কাউকে কিছু বলেননি। তাঁর মনে হয়েছিল অভিযোগ জানালে যদি চাকরিটাই হাতছাড়া হয়ে যায়!
অনমনীয় লধানি
দরিদ্র এক কর্মীর এই অসহায়তার ভিতরের বিপদটায় চিন্তিত হয়ে পড়ে হোটেল কর্তৃপক্ষও। কান্তির আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়ার ঘটনাটা নাড়িয়ে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষকে। পরিতোষ লধানি জানান, ঘটনার কথা শোনা মাত্রই তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেন, কোনও অবস্থাতেই কর্মীদের উপর এমন শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার বরদাস্ত করা হবে না। পরের দিনই ওই অতিথিকে হোটেলে চিরতরে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করা হয়। সবচেয়ে বড় কথা লধানির মনোভঙ্গি। তিনি যে নৈতিকতার ছাপ রাখেন তাতে মুগ্ধ সকলে। তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে তিনি লেখেন, কারও সামাজিক প্রতিপত্তি বা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা থাকার অর্থ এই নয় যে, তিনি কাউকে অসম্মান করার অধিকার পেয়ে যান! কোনও কর্মী যদি নিজের অসহায়তার কারণে রুখে দাঁড়াতে ভয় পান, তবে তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোই নিয়োগকর্তার আসল দায়িত্ব-- এ কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)