SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

স্টারলিঙ্ক চালু করতে দেরি কেন? আম্বানিকে নিয়ে মাস্কের প্রশ্ন, রাহুলের জবাবে বাড়ল বিতর্ক

স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অনুমতি পেতে দেরি হওয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্পেসএক্স কর্তা ইলন মাস্ক প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের টেলিকম ক্ষেত্রে মুকেশ আম্বানির প্রভাবই কি এত বেশি? তাঁর মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী লেখেন, 'ভারতে স্বাগত, ইলন। অন্য জনের কথা জানলে আরও অবাক হবেন।'

Written By Debasmita Das
Published: Oct 09, 2026, 11:42 AM IST | Updated: Oct 09, 2026, 11:57 AM IST
Join

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা নিয়ে টানাপড়েন এবার প্রকাশ্যে। একদিকে, মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের অভিযোগ, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক মহল নিজেদের একচেটিয়া বাজার ধরে রাখতে স্টারলিঙ্ককে আসতে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সব সংস্থার জন্যই অনুমোদনের নিয়ম একই। এই পরিস্থিতিতে মাস্ক ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সোশ্যাল মিডিয়ায় কথোপকথন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।

আম্বানিকে নিয়ে কী প্রশ্ন তুললেন মাস্ক?

স্টারলিঙ্কের পরিষেবা ভারতে চালু হতে দেরি হওয়া নিয়ে গত বুধবার সামাজিক মাধ্যম X-এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাস্ক। তাঁর দাবি, কয়েকটি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে এই পরিষেবার পথ আটকে দিচ্ছে। তিনি আরও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ভারতে কি মুকেশ আম্বানিই আসল ক্ষমতাশালী ব্যক্তি? এই মন্তব্যে তাঁর ইঙ্গিত ছিল দেশের টেলিকম বাজারে বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির প্রভাবের দিকে। যদিও আম্বানি বা রিলায়্যান্স জিওর বিরুদ্ধে মাস্কের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

রাহুলের জবাব, কী বললেন মাস্ক?

মাস্কের পোস্টের জবাবে রাহুল গান্ধী লেখেন, ভারতে স্বাগত, ইলন। অন্য জনের কথা জানলে আরও অবাক হবেন। রাহুলের এই মন্তব্যে কার কথা বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে অনেকে একে শিল্পপতি গৌতম আদানির প্রসঙ্গ বলে ব্যাখ্যা করছেন। এরপর রাহুলকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাস্ক লেখেন, বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক। ফলে স্টারলিঙ্কের অনুমোদন সংক্রান্ত একটি বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

আরও পড়ুন, রাগী ট্রাম্পের খাঁড়া পড়ছে ভারতেরই উপর: TCS, Infosys, Wipro এবার আমেরিকার কালো 

স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালু হতে দেরি কেন?

মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্ক ইতিমধ্যে বিশ্বের বহু দেশে চালু রয়েছে। কিন্তু ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করতে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। স্টারলিঙ্ক প্রয়োজনীয় প্রাথমিক লাইসেন্স ও কিছু অনুমোদন পেলেও পরিষেবা চালু করার আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাচাই এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। বিদেশি স্যাটেলাইট অপারেটরদের মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ ও নেটওয়ার্কের উপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা নিয়েও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রের বক্তব্য কী?

মাস্কের অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সংস্থার প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে না। সরকারের বক্তব্য, লাইসেন্স পাওয়া সংস্থাগুলিকেই নির্দিষ্ট নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করতে হবে। সেই যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব।

কেন্দ্রের হিসাবে, স্টারলিঙ্ক, রিলায়্যান্স জিওর স্যাটেলাইট পরিষেবা এবং ভারতী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব-এই তিন সংস্থাই আপাতত কাছাকাছি নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু স্টারলিঙ্কের আবেদন আটকে রাখা হয়েছে, এমন অভিযোগ সরকার খারিজ করেছে।

প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল ও যেখানে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। স্টারলিঙ্কের দাবি, তাদের পরিষেবা দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে এমন এলাকাতেও, যেখানে প্রচলিত সংযোগের পরিকাঠামো সীমিত। তবে এই বাজারে স্টারলিঙ্ক একা নয়। জিও এবং ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবও ভারতে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে অনুমোদন, নিরাপত্তা ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের বিষয়গুলি শুধু একটি সংস্থার ভবিষ্যৎ নয়, দেশের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারের প্রতিযোগিতার দিকও নির্ধারণ করতে পারে।

আরও পড়ুন, দিল্লির বিগ ব্রেক: জবাব তৈরি করতে না পেরে ফের স্পিকারের কাছে সময় দরবার NCPI সাংসদের

সব মিলিয়ে, স্টারলিঙ্কের ভারতে পরিষেবা চালুর দেরি নিয়ে মাস্কের অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর পাল্টা মন্তব্য এবং কেন্দ্রের ব্যাখ্যা- তিনটি বিষয় মিলিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। তবে ব্যবসায়িক প্রভাব খাটিয়ে অনুমোদন আটকে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে এখনও প্রকাশ্যে কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ সামনে আসেনি।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

৮ বছর আগে বৈদ্যুতিন মাধ্যমে হাতেখড়ি। ক্যামেরার সামনে অথবা ডেস্ক-- সমান সাবলীল। বিনোদন দুনিয়ায় সাংবাদিকতার শুরু। ক্রমে নিজের আগ্রহের তালিকায় যুক্ত হয়েছে রাজনীতি, ক্রাইম, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। বিশ্বাস, ডিজিটাল সাংবাদিকতা এখন মার্কেটিং ও প্যাকেজিং। 

ZEENEWS TRENDING STORIES