VIDEO: দীপাবলির আগেই DRDO করল ধামাকা! পাকিস্তানের বুক কাঁপিয়ে ভারতের 'প্রলয়'... ৫০০ কিমি প্লাল্লা, ১০০০ কেজি পেলোড
ডিআরডিও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল! এক্স বার্তায় জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও দেখিয়ে দিল ধামাকা কাকে বলে! দীপাবলির আগেই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় সারফেস-টু-সারফেস (ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য) ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা বা ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন করেছে। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে আরও এক উল্লেখযোগ্য অর্জন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক্স বার্তায় লিখেছেন, 'ডিআরডিও আজ সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ওড়িশা উপকূলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফলফ্লাইট টেস্ট করেছে। ব্যবহারকারী মূল্যায়ন পরীক্ষার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হয় এবং বিভিন্ন রেঞ্জ যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, এটি নির্ধারিত সমস্ত লক্ষ্যই সফল ভাবে পূরণ করেছে। এই সফল পরীক্ষা ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন।'
প্রলয় সম্বন্ধে কী কী জানা যায়?
ওড়িশার ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে ওড়া প্রলয়ের পাল্লা ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বলেই জানা যায়। পেলোড ৩৫০ থেকে ১০০০ কেজি মতো। অর্থাত্ যুদ্ধাস্ত্র বা গোলাবারুদ বহন করার ক্ষমতা। টার্মিনাল ফেজ বা চূড়ান্ত পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্র চূড়ান্ত গতিশীল হয়ে ওঠে এবং প্রায় ম্যাক ৫ বা ৬.১ (শব্দের গতির চেয়ে ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি) হাইপারসনিক গতি অর্জন করতে পারে। প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রে অত্যাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম আছে এবং উন্নত দিকনির্দেশনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে টার্গেটে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এর ত্রুটির সম্ভাবনা ১০ মিটারেরও কম। অর্থাৎ, এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে।
হাই-অল্টিটিউড প্ল্যাটফর্ম সিস্টেম
গত মাসেই ডিআরডিও ঘোষণা করেছিল যে, তারা তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হাই-অল্টিটিউড প্ল্যাটফর্ম সিস্টেমের সফল ফ্লাটট টেস্ট করেছে। এই পরীক্ষায় সিস্টেমটি ২১ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার ক্ষমতাও দেখিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট টেস্টে যানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২১ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল এবং নীচে নেমে আসার নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ছিল। পরবর্তীতে প্ল্যাটফর্মটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং মিশনের সময় সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এর কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। 'ফ্লাইট টেস্টে যানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২১ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছয় এবং নীচে নেমে আসার নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান করে। সিস্টেমটিকে সফল ভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং উড্ডয়ন সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।'
কী কী ঠিক করেছে ওই যান
ট্রায়ালে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে—অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের এমন এক স্তরে যেখানে দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি, যোগাযোগ রক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের মতো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়, প্ল্যাটফর্মটির কার্যকর ভাবে কাজ করার সক্ষমতাকে প্রমাণ করেছে। উড়ানের সময়ে, আকাশপথে থাকা প্ল্যাটফর্মটি থেকে রিয়েল-টাইম ভিডিয়ো এবং যানটির কার্যক্ষমতা সংক্রান্ত তথ্য ক্রমাগত গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তারা জানিয়েছেন যে, এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম যুক্ত ছিল; যার মধ্যে রয়েছে ইনার্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট, জিপিএস রিসিভার, অনবোর্ড ক্যামেরা, উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং আরও বেশ কিছু সাব-সিস্টেম। পুরো মিশন জুড়ে এই প্রতিটি উপাদানই প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ করেছে। ভারতীয় বিমান বাহিনী, সেন্টার ফর মিলিটারি এয়ারওয়ার্দিনেস অ্যান্ড সার্টিফিকেশন, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশ, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া এবং অন্যান্য বেসামরিক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এই পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)