'ফ্র্যান্ড ডোনাল্ডের জ্ঞানুকে চাই', ট্রাম্পের হারের পরেই জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে মিমের বন্যা! মহুয়া থেকে অভিজিৎ বাদ নেই কেউ...
CJP Dipke on US midterm Vote: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরের ধাক্কার পরেই ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে মিমের বন্যা। 'Fraand Doland needs Gyanu' লিখে কটাক্ষ মহুয়া মৈত্রের। একই সুরে অভিজিৎ দীপকে, পবন খেরা ও প্রশান্ত ভূষণও।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার পর থেকে ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গ শুরু হয়েছে। এই ব্যঙ্গের কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ট্রাম্পকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন। একই ভঙ্গিতে পোস্ট করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকও।
'Fraand Doland needs Gyanu…'
মার্কিন নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মহুয়া মৈত্র তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'Fraand Doland needs Gyanu…'। এর অর্থ হল বন্ধু ডোনাল্ডের এখন জ্ঞানেশ কুমারের প্রয়োজন। ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কা নিয়ে এই পোস্টের মাধ্যমে তৃণমূল সংসদ সদস্য ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে চলা রাজনৈতিক বিতর্ককে আবার সামনে এনেছেন। তাঁর পোস্টের চারপাশে ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন, EXPLAINER: কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের দাপট, তবুও ট্রাম্পকে আটকানো কঠিন! এক ভেটোতে
'জ্ঞানেশ কুমার থাকলে ট্রাম্পের এই অবস্থা হত না'
মহুয়া মৈত্রের পাশাপাশি কটাক্ষ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, 'জ্ঞানেশ কুমার থাকলে ট্রাম্পের সঙ্গে এমনটা কখনও ঘটত না।' এই মন্তব্যকে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে করা ব্যঙ্গ বলে মনে হচ্ছে। বিশেষত ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের আলোকে এই কটাক্ষকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের পুরনো পোস্টও আবার আলোচনায়
এই বিতর্কে আরেকটি পুরনো ঘটনা সামনে এসেছে। আগস্ট মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশংসা করেছিলেন। সেই সময় তিনি জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে আমেরিকায় ভোটদানের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি ভারতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। আমেরিকাতেও একই ধরনের নিয়ম চালুর পক্ষে তিনি সওয়াল করেছিলেন।
পবন খেরা, প্রশান্ত ভূষণও অংশ নিচ্ছেন
শুধু মহুয়া বা অভিজিৎ নয়, কংগ্রেসের নেতারা এই প্রসঙ্গে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেছেন। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সোশ্যালে লিখেছেন, ট্রাম্প যদি জ্ঞানেশ কুমারকে সঙ্গে নিতেন, তবে আজ এই পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অন্যদিকে, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও একটি ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ট্রাম্পকে একই প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন। তাঁর পোস্টেও জ্ঞানেশ কুমারের নাম উঠে এসেছে।
কেন জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে এই কটাক্ষ?
আসলে ভারতে ভোটার তালিকার SIR নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবিরের একাংশ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও বিরোধী নেতারা তুলেছেন।
আরও পড়ুন, দিওয়ালিতে রাজ্যের এই সব সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন ৩০ দিনের বোনাস, কার অ্যাকাউন্টে
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের পরাজয়কে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচন কমিশন নিয়ে চলা বিতর্ক আবার সমাজমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। মিম, কার্টুন, ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট এবং AI-নির্মিত ভিডিওতে ট্রাম্প ও জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)