দিল্লিতে ধুন্ধুমার: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তায় নামতেই তেরঙা মার্চের আগে আটক CJP প্রধান অভিজিৎ দীপকে
CJP Abhijit Dipke detained: আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যস্ত এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে কড়া অবস্থান নেয় প্রশাসন। কনট প্লেস ও তার সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS Section 163) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজধানী দিল্লিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) কনট প্লেসের (Connaught Place) সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ (Lehra Do Tiranga) মিছিলের ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)। তবে এই কর্মসূচি শুরুর আগেই বড়সড় পদক্ষেপ করল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করতেই সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা সতর্কতামূলক হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রতিবাদের নেপথ্য কারণ কী?
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীতে (SIR) কারচুপির অভিযোগে সরব হয়ে এই তেরঙ্গা মার্চের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা তোলার অভিযোগে সিজেপি-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে গ্রেপ্তার করে তিহার জেলে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের সেই গ্রেপ্তারি এবং পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদেই মূলত আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকের দাবি ছিল, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কোনো অপরাধ নয় এবং সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে দমন করার সামিল।
প্রশাসন কেন কড়া অবস্থান নিল?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যস্ত এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে কড়া অবস্থান নেয় প্রশাসন। কনট প্লেস ও তার সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS Section 163) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এনডিএমসি (NDMC)-এর তরফ থেকে এই তেরঙ্গা যাত্রার কোনো আইনি অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি সম্ভাব্য ঝামেলা এড়াতে মধ্য দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ কর্মী এবং আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়, পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমেও কঠোর নজরদারি চালানো হয়।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব
পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে অনুমতি ছাড়া এই ধরনের জমায়েত বা মিছিল করতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভিজিৎ দীপকে যখন মিছিলের উদ্দেশে রওনা হন, তখন পথেই তাঁকে আটকায় পুলিশ। এই ঘটনার জেরে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানেও সিজিপি-র পক্ষ থেকে অনুরূপ সংহতি মিছিল করার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনী বিতর্ক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথ এখন উত্তপ্ত।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)