রবিবার দিল্লি পুলিসের সঙ্গে CJP-র সেকেন্ড রাউন্ড, ফের যন্তর মন্তর আভিযান ককরোচদের
CJP Protest: প্রায় ৩ হাজার আন্দোলনকারীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিস। তবে এতসবের মধ্যেই রবিবার ফের রাস্তায় সিজেপি
রাজীব চক্রবর্তী: দিল্লি পুলিসের বজ্রআঁটুনি টপকে যন্তমন্তরে পৌঁছতেই পারেনি ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকারীরা। কয়েক হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিস। তাদের মধ্যে ৩০০০ জনকে ছড়েও দেওয়া হয়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তাদের আন্দোলন চলবে। রবিবার ফের তারা যন্তরমন্তরের উদেশে যাত্রা করবেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ঘোষণায় সিজিপির তরফে বলা হয়েছে, মোদী সরকারের আশঙ্কা হল ফের যদি আমরা একজোট হই তাহলে তাদের সিংহাসন বিপদে পড়বে। কিন্তু আমরা পিছব না। আগামিকাল আমরা ফের যন্তমন্তরে যাব। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের দাবি পূরণ হয় ততক্ষণ সেখান থেকে উঠব না।
উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি সিজেপির যন্তরমন্তরে সমাবেশের জেরে আজ প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায় রাজধানী। মেট্রো বন্ধ, জায়গায় জায়গায় পুলিসের ব্যারিকেড, বিমানবন্দর থেকে আশুতোষ রাঙ্কা, অভিজিত্ দীপকদের আটক করে দিল্লি পুলিস।
সূত্রের খবর, প্রায় ৫৯০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে জানা যায় আটকের সংখ্যা ৭০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে সিজেপির দাবি, মোট ১৫ ০০০ জনকে আটক করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সিএএ আন্দোলনে ৫৫০০ জনকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন-অভিজিৎ-সৌরভ-রাঙ্কা আটক হতেই হাতে আন্দোলনের ব্যাটন, কে এই অজিঙ্কা শিন্ডে?
অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করার পর আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায়। শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার রাজধানীতে প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠলেন নেহা বোরা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। যন্তর মন্তরে পৌঁছতে না পেরে জোরবাগ থেকে দিল্লি হাট-আইএনএ (Dilli Haat-INA) পর্যন্ত বিশাল মিছিল বের করেন তাঁরা।
গ্রেফতার হওয়ার আগেই একটি বক্তব্য রেকর্ড করে রেখেছিলেন সিজেপি আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। সেখানে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, শীর্ষ নেতৃত্ব গ্রেফতার হলেও আন্দোলন কোনও পরিস্থিতিতেই থামবে না। দীপকের অবর্তমানে এখন আন্দোলনের রাশ তুলে দেওয়া হয়েছে অজিঙ্কা শিন্ডের হাতে।
সেই ভিডিওতে দীপকে জানান, পুলিস তাঁদের আটক বা গ্রেফতার করলেও যন্তর মন্তরের কর্মসূচি কোনওভাবেই বন্ধ হবে না। যতক্ষণ না শীর্ষ নেতৃত্ব মুক্ত হচ্ছেন, ততক্ষণ গোটা আন্দোলনের মুখ হবেন সিজেপির অন্যতম ভরসা অজিঙ্কা শিন্ডে। একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিক ও তরুণ প্রজন্মকে মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর অম্বেডকরের অহিংস পথ অনুসরণ করে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে দিল্লি। বিমানবন্দর থেকে রাজপথ-- ইতোমধ্যেই সহস্রাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিস। যন্তর মন্তর সিল করে রাখা হলেও অজিঙ্কার নেতৃত্বে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি।