যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, গেট টপকে ঢুকতেই আটক সৌরভ দাস- আশুতোষ রাঙ্কা
Jantar Mantar: যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করায় দিল্লি পুলিসের হাতে আটক হলেন CJP-র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে দলটি। বিক্ষোভস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরের অনুমতি বাতিলের পর এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিক্ষোভের জায়গা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দিল্লির যন্তর মন্তরে ঢোকার চেষ্টা। আর সেই চেষ্টার জেরেই দিল্লি পুলিসের হাতে আটক হলেন ককরোচ জনতা পার্টি-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় পতাকা হাতে কয়েক জন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেন তাঁরা। গেট টপকে ভিতরে ঢোকার পর পুলিস তাঁদের আটক করে। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সমাজমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন।
কেন বিক্ষোভ CJP-র?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে CJP। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি। এই প্রতিবাদের জন্যই যন্তর মন্তরে কর্মসূচি করতে চেয়েছিলেন CJP-র নেতারা। কিন্তু সেখানে বিক্ষোভ করার অনুমতি না মেলায় নতুন করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আরও পড়ুন, প্রেমিকাকে ১,০০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে খুন! সেলফি দুর্ঘটনার গল্প সাজিয়েও শেষরক্ষা হল
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা
দিল্লি পুলিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যন্তর মন্তরকে আর নির্দিষ্ট বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিবর্তে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির জন্য তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে- রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির CBD গ্রাউন্ড। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে CJP। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, প্রতিবাদের অধিকার এভাবে বন্ধ করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা সম্ভব নয়।
এর আগেও আটক হয়েছিলেন CJP নেতারা
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ১০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও আটক করা হয়। পরে ১১ অক্টোবর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখা ও সদাচরণের শর্তে ৫০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়ার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন, শব্দবাজি কম করতে ভারসাম্যের নীতি নিতে হবে, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের
তার পরেও মঙ্গলবার ফের যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেন CJP-র নেতারা। এই ঘটনায় দিল্লিতে বিক্ষোভের অনুমতি, প্রতিবাদের অধিকার এবং পুলিসের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন প্রশ্ন, যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা ঘিরে আটক হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিস পরবর্তী কী পদক্ষেপ করে। এই ঘটনায় FIR দায়ের করা হবে কি না, তা নিয়েও নজর রয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)