জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল স্কুলের ছাদ। মৃত কমপক্ষে ২৭ পড়ুয়া এবং এক শিক্ষক। ৪০ জনেরও বেশি পড়ুয়া আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে। আহতদের ভর্তি করানো হয়েছে লেডি রিডিং হাসপাতালে। সেখানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশুর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।
রেসকিউ ১১২২-এর আঞ্চলিক পরিচালক আরিফ খাত্তাক জানিয়েছেন, বিল্ডিং ধসে পড়ার পর প্রাথমিকভাবে ১৬টি মৃতদের শনাক্ত হয়েছিল। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অভিযান চলে। শেষ পর্যন্ত ২৯ টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্কুলটি তিনতলা। কিন্তু অস্থায়ী কাঠামোর জেরে ঘটনাটি ঘটে। পুলিস ইতোমধ্যেই স্কুলটির মালিককে গ্রেফতার করেছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আহত এবং মৃত শিশুদের বয়স ৬-১২ বছরের মধ্যে। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনাটি বেদনাদায়ক। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, আমাদের সন্তানরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এই ধরনের ক্ষতি গোটা দেশের জন্য বড় ধাক্কা। শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।
স্কুলটি একটি সরু গলিতে অবস্থিত, যেখান দিয়ে একবারে কেবল একটি যানবাহন যেতে পারে। এর ফলে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়ে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা জানান, সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ তাদের কাছে ফোন আসে। জানানো হয় যে স্কুলে ছাদ ধসে পড়েছে। যখন আমাদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তারা দেখতে পায় যে বিল্ডিংয়ের এক অংশের ছাদ অন্য অংশের ওপর ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিকক্ষের শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েছিল। খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর বলেছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে লাহোরের বাগবানপুরা এলাকায় নির্মীয়মান বেসরকারি স্কুল বিল্ডিংয়ের ছাদ ধসে এক শিশু নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছিল। এর আগে জুন মাসে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়। এর দুই মাসেরও কম সময় আগে ডেরা গাজী খানের একটি বেসরকারি স্কুলের ক্লাসরুমের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)