দেউলিয়া ব্যাংক, দেশ জুড়ে বিশাল ব্যাংকিং সংকটে বিক্ষোভ, বিতর্ক; পদত্যাগ করলেন প্রেসিডেন্ট
President Santiago Pena Resigns: রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পদত্যাগ ঘোষণা করলেন। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পর দেশটিতে এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা পদত্যাগ ঘোষণা করলেন। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়ায় সে দেশে এক বড় বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ৪৭ বছর বয়সি সান্তিয়াগো পেনা ২০২৩ সালের আগস্টে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।
আরও পড়ুন: আচমকা বোমাতঙ্কের অ্যালার্ট! ডাইভারশনের নির্দেশ... তারপর যাত্রীসমেত সকলেই সেকেন্ডে
ব্যাংক দেউলিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা এক ভিডিয়ো বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেনা বলেন, কোনো সময় যদি আমি ব্যর্থ হয়ে থাকি, তাহলে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমার উপর যে আস্থা রেখেছিলেন, সেটার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনো ইচ্ছা কখনোই আমার ছিল না।' উয়েনো ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পরে এ সংকট আর বিতর্কের সূত্রপাত। এরই মধ্যে আলোচিত এ ব্যাংকের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
স্বার্থের সংঘাত ও অসদাচরণের অভিযোগ
প্যারাগুয়ের আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট পেনার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন। তিনি গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকটির মালিকানাধীন কোম্পানির অংশীদার ছিলেন। প্রেসিডেন্ট পেনা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যদিও তাঁর পদত্যাগের ঘোষণার আগে প্যারাগুয়ের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইমপিচ প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ভোট পড়ে।
ব্যাংক দেউলিয়া
এক্সে প্রকাশ করা ভিডিয়ো বার্তায় পেনা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষার স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উয়েনো ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যাংকটির গ্রাহক। ব্যাংকটিতে পেনশন-সহ সরকারের বিভিন্ন তহবিলের অর্থও জমা ছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকটি দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর পর থেকে লাখ লাখ গ্রাহক নিজেদের ব্যাংক হিসেবের অর্থ তুলতে পারছেন না।
পদত্যাগ প্রত্যাখ্যান, ইমপিচ
তবে আইনপ্রণেতারা তাঁর পদত্যাগ গ্রহণে রাজি হননি। নিম্নকক্ষে ৭৮-০ ভোটে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচ বা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে সিনেটেও অভিশংসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার শুনানিতে অংশ নিতে পেনাকে তলব করেছে উচ্চকক্ষ। পদত্যাগের প্রস্তাব বিবেচনায় কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু পেনার দল কলোরাডো পার্টির আইনপ্রণেতারা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়নি। পেনার পদত্যাগ গ্রহণ না করায় তাঁর আইনি ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। প্যারাগুয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব ছাড়লে সাধারণত আজীবন সিনেটর হওয়ার সুযোগ পান। আইনসভার সদস্য হিসেবে তিনি কিছু আইনি দায়মুক্তিও ভোগ করেন। তবে অভিশংসন বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে এ সুবিধা পাওয়া যায় না।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)