বিভিন্ন শিল্পের আত্মা জুড়ে-জুড়ে নতুন সাহিত্যমডেল তৈরি করে সাহিত্যে নোবেল জিতলেন কানাডার কবি অ্যান কারসন
Nobel Prize 2026: নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসন কবি অ্যান কারসনের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন করে বলেছেন, কারসনের লেখার মাধ্যমে কবিতা, প্রাচীন সাহিত্য, আধুনিক সাহিত্য ও বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ঘোষিত হয়ে গেল এ বছরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের খবর। কে পেলেন এই মহা পুরস্কার?
২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ তৈরি করেছেন তিনি। এজন্যই তাকে এই পুরস্কার। গত বছর এই পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির কথাকার লাসলো ক্রাজনাহোরকাই। তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছিল 'মাস্টার অফ দ্য অ্যাপোক্যালিপ্স' বলে।
আরও পড়ুন: নোবেল কমিটির খাতায় বাঙালির নাম! সাহিত্যে জগতের সর্বোচ্চ পুরস্কার ঘোষণার আগেই...
শব্দের ব্যুৎপত্তি, অনুবাদ
অ্যান কারসনের জন্ম ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে। তাঁর সাহিত্যজীবনে কবিতা লেখার পাশাপাশি অনুবাদ ও শিক্ষকতার কাজও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর পাশাপাশি তিনি প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। ১৯৮১ সালে তিনি ক্লাসিকস বিষয়ে ডক্টরেটের গবেষণাপত্র ‘Odi et Amo Ergo Sum’ প্রকাশ করেন।
শব্দের উৎপত্তি বা ব্যুৎপত্তি তাঁর লেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে করা তাঁর অনুবাদগুলিও স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
আরও পড়ুন: কণার ভূত খুঁজতে গিয়ে পদার্থবিদ্যায় নোবেল! মেরুবরফের মধ্যেই মহাবিশ্ব-মহাকাশের আলো-
নতুন সাহিত্যরূপ
প্রাচীন গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার খণ্ডাংশ নিয়ে কারসনের উল্লেখযোগ্য কাজ ‘If Not, Winter’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০০২ সালে। সোফোক্লিসের ‘Electra’ ও ‘Antigone’ এবং ইউরিপিদিসের ‘Bakkhai’ও অনুবাদ করেছেন তিনি। যদিও কারসনের কাজ শুধু অনুবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাচীন সাহিত্যকে আধুনিক অভিজ্ঞতা ও ভাষার সঙ্গে মিশিয়ে তিনি তৈরি করেছেন নতুন ধরনের সাহিত্যিক রূপ।
সাহিত্যভাবনা এবং
১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘Eros the Bittersweet’ বইটি কারসনের সাহিত্যভাবনার গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বইটিতে প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও দূরত্বের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন কারসন।
তাঁর ‘Autobiography of Red’ বইটিও বিশেষ আলোচিত। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল 'রক্তিমতার আত্মকথা' নামের এই এই কাব্যোপন্যাস। বিশ্ব জুড়ে কারসনের অন্যতম পরিচিত কাজ এটি। সাহিত্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও। প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাসের একটি পৌরাণিক চরিত্র জেরিয়নকে কেন্দ্র করে বইটি লেখা। গ্রিক পুরাণের ভয়ংকর লাল ডানাওয়ালা দৈত্যকে কারসন আধুনিক এক তরুণ চরিত্রে বদলে নিয়েছেন। ফলে, প্রাচীন পুরাণের সঙ্গে এসে মিশে গিয়েছে আধুনিক সময়ের প্রেম ও মানবিক সম্পর্কের সুর।
ভিন্ন দিগন্তে
কারসনের কাজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, তিনি সাহিত্যের প্রচলিত সীমারেখায় নিজেকে আটকে রাখেননি। ২০১৬ সালের ‘Float’ বইটি ২২টি ছোট বইয়ের সমন্বয়ে তৈরি। এগুলি বিভিন্ন বিষয়ে লেখা এবং ইচ্ছামতো ক্রমে পড়া যায়। ২০২৪ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘Wrong Norma’ বইয়েও বিভিন্ন ধরনের লেখা একসঙ্গে জায়গা পেয়েছিল। চিত্রশিল্পী, কোরিওগ্রাফার, অপেরা ও থিয়েটার নির্মাতাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন কারসন।
২০২৬ সালের অন্য নোবেল
২০২৬ সালের চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডিসেরথ এবং জার্মানির পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে ফ্রান্সিস হালজেনকে এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। রসায়নে নোবেল পেয়েছেন ফ্রান্স ও জাপানের দুই বিজ্ঞানী-- হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই। নোবেল কমিটি জানায়, অ্যাসিমেট্রিক জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার প্রভাব এবং অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য তাদের রসায়নে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)