SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

EXPLAINER: কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের দাপট, তবুও ট্রাম্পকে আটকানো কঠিন! এক ভেটোতেই আটকে দিতে পারেন কংগ্রেসের বিল! কীভাবে?

Donald trump: কী এই ভেটো? কেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে এই বিশেষ অধিকার রয়েছে? ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও কীভাবে ট্রাম্প তাঁদের আনা বিল আটকে দিতে পারবেন?

Written By Debasmita Das
Published: Nov 05, 2026, 09:05 AM IST | Updated: Nov 05, 2026, 09:11 AM IST
Join

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সর্ববৃহৎ সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। এই ক্ষমতা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাস হওয়া যেকোন বিলকে আটকে দিতে পারেন। এই ক্ষমতাকে বলা হয় 'Presidential Veto' বা প্রেসিডেন্টের ভেটো। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ট্রাম্প ব্যাখ্যা করেছেন যে তিনি প্রয়োজনে এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। ফলে আগামী দুই বছরে হোয়াইট হাউস এবং কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা আছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি, যেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে, বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সেনেট, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই এখন ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনেক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলেও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্পূর্ণ খর্ব হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই সাংবিধানিক ক্ষমতা ধরে রেখেছেন।

আরও পড়ুন, ট্রাম্পের এই বিশ্রী পা হড়কানোয় কী ঘটবে ভারতে? ভারতের আদৌ কোনও লাভ হবে? হলে কোন কোন ক্ষেত্রে, কতটা?

প্রেসিডেন্টের ভেটো কী?

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের দুই কক্ষে কোনও বিল পাশ হলে সেটি প্রেসিডেন্টের কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। প্রেসিডেন্ট সেই বিল স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হয়। যদি প্রেসিডেন্ট বিলের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর না করে বিলটি ফেরত পাঠাতে পারেন। এই ক্ষমতাকে প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো বলা হয়।

মার্কিন সংবিধানের Article I, Section 7-এ এই ক্ষমতা উল্লেখ আছে। অর্থাৎ কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই কোনও দল নিজের ইচ্ছামতো আইন তৈরি করতে পারে না। 

প্রেসিডেন্ট কীভাবে ভেটো প্রয়োগ করেন?

কংগ্রেসের দুই কক্ষে কোনও বিল পাশ হলে সেটি প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়। সাধারণত বিল পাওয়ার পর দশ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রেসিডেন্টের সামনে মূলত তিনটি পথ আছে- 

১. বিলে স্বাক্ষর: প্রেসিডেন্ট বিলে স্বাক্ষর করলে সেটি আইনে পরিণত হয়।

২. রেগুলার ভেটো: প্রেসিডেন্ট যদি বিল পছন্দ না করেন, তাহলে প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর না করে বিলটি যে কক্ষ থেকে এসেছিল সেখানে ফেরত পাঠাতে পারেন। সাথে নিজের আপত্তির কারণও জানাতে পারেন। এই প্রক্রিয়া Regular Veto নামে পরিচিত।

৩. পকেট ভেটো: কংগ্রেসের অধিবেশন বন্ধ থাকলে প্রেসিডেন্ট যদি বিলটি আপত্তিসহ ফেরত না পাঠাতে পারেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বাক্ষরও না করেন, তাহলে বিলটি বাতিল হয়ে যায়। একে বলা হয় Pocket Veto। এই ধরনের ভেটোতে কংগ্রেস সাধারণ ভেটোর মতো ভোট দিয়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না।

ডেমোক্র্যাটরা কি প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা খারিজ করতে পারবেন?

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তবেই পারেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে কংগ্রেস সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট করতে পারে। কিন্তু সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট নয়। প্রতিনিধি সভা ও সেনেট, দুটি কক্ষেই উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই‑তৃতীয়াংশ সমর্থন দরকার। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে, যদি দুই‑তৃতীয়াংশ সদস্য উভয় কক্ষে বিলটির পক্ষে ভোট দেন, তাহলে প্রেসিডেন্টের আপত্তি অগ্রাহ্য হয়ে বিলটি আইনে পরিণত হতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Veto Override।

তাই ডেমোক্র্যাটদের দুই‑কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা সহজে অকার্যকর করা সম্ভব নয়। এর জন্য ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকান সদস্যদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন দরকার হবে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর প্রেসিডেন্টের সামনে কী চ্যালেঞ্জ আসছে?

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের পরে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষ নিয়ন্ত্রণে নিলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তদন্তের সুযোগ বাড়বে। ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের কাজকর্ম, নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি চাইতে পারবেন। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও সেনেটের হাতে রয়েছে।

এছাড়াও, ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি, শুল্কনীতি ও বিভিন্ন আইন প্রণয়নের উদ্যোগে কংগ্রেসে বিরোধিতা বাড়তে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কারণে ডেমোক্র্যাটদের আনা কোনও বিল আইনে পরিণত করা সহজ হবে না।

আরও পড়ুন, ট্রাম্প মুখ থুবড়ে পড়তেই কাঁপছে মার্কিন দৈত্য: দিওয়ালির মুখেই ১ মাসের স্যালারি হাতে ধরিয়ে নিঃশব্দে চাকরি খেল গুগল

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটনে আইন প্রণয়নে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। ডেমোক্র্যাট‑নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে মতবিরোধ বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশ করানো কঠিন হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, ভেটো ক্ষমতা থাকলেও প্রেসিডেন্ট সব ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। মার্কিন সংবিধান ও ক্ষমতার ভারসাম্যের নিয়ম প্রেসিডেন্টকেও মেনে চলতে হয়। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের পর, আগামী দুই বছরে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, সেটাই এখন নজরে রাখা হচ্ছে।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

৮ বছর আগে বৈদ্যুতিন মাধ্যমে হাতেখড়ি। ক্যামেরার সামনে অথবা ডেস্ক-- সমান সাবলীল। বিনোদন দুনিয়ায় সাংবাদিকতার শুরু। ক্রমে নিজের আগ্রহের তালিকায় যুক্ত হয়েছে রাজনীতি, ক্রাইম, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। বিশ্বাস, ডিজিটাল সাংবাদিকতা এখন মার্কেটিং ও প্যাকেজিং। 

ZEENEWS TRENDING STORIES