অয়ন ঘোষাল: এ বছর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো করা যাবে কি না তা নিয়ে কলকাতায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন, রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করার অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পরিবেশকর্মীদের মধ্যে আপত্তি উঠেছে। তাঁদের মতে আদালতের নির্দেশে এখানে ছটপুজো বন্ধ রয়েছে। সেখানে আবার অনুমতি দেওয়া কেন?
কয়েক ঘণ্টা পর মন্ত্রী তাঁর মতে বদলে দেন। সকালের সরোবর ভাবনায় বিতর্ক, বিকেলেই সুর বদল অগ্নিমিত্রার। দক্ষিণ কলকাতায় ৫০টি জলাশয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী।
সকালে ছাড়পত্রের ঘোষণা, বিকেল হতে না হতেই সুর বদল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের। এ বছর ছটপুজোর জন্য রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরের দরজা হাট করে দেওয়ার ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। অগ্নিমিত্রার দাবি ছিল, রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়া নিয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাঁর এই ভাবনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের বিচারাধীন বলে সরব হন পরিবেশপ্রেমীরা। তার পরে সন্ধ্যেয় সরোবর ভাবনা নিয়ে সুর বদলান অগ্নিমিত্রা। নেহাতই অনুমতি না মিললে বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রায় ৯ বছর ধরে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ। তবে তারই মধ্যে জোর করে সরোবরে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে অতীতে। তেমনই ছট পুজোর আগে রাতভর জলাশয় পাহারা দেওয়া এবং প্রবেশপথ সিল করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজো-নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বুধবার সকালে প্রশ্ন করা হয় অগ্নিমিত্রাকে। জবাবে তিনি বলেন, ‘ছটপুজো করতে দেওয়া হতো না। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ভাবছি, এ বার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেব। কেন দেব না? ওখানকার মানুষগুলো কোথায় ছটপুজো করবেন!’ তিনি এ-ও বলেছিলেন, ‘গ্রিন ট্রাইবুনালের (ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল বা এনজিটি) সঙ্গে আমরা কথা বলব। আমি নিশ্চিত, কোনও না কোনও পথ বেরিয়ে আসবে। আমরা ওখানে ময়লা করব না, করতেও দেব না।’
সকালে মন্ত্রীর ‘ভাবনা’ প্রকাশ্যে আসতেই এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন পরিবেশকর্মীদের একাংশ। তারা দাবি করেন ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তো। তার পরে আবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কীসের? এই মামলা তো বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সেখানে মন্ত্রী এনজিটি-র সঙ্গে কী কথা বলবেন? এরকম চেষ্টা হলে আদালত অবমাননার মামলা করারও হুঁশিয়ারি দেন কেউ কেউ।
সন্ধ্যেয় সুর বদল করেন মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘আমি পরিবেশকে সম্মান দিতে ভালবাসি। পরিবেশ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দূষণের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।’ বিকেলে যোধপুর পার্কে একটি জলাশয় পরিদর্শন করে করার পর মন্ত্রী বলেন, ‘এই জলাশয়টি রবীন্দ্র সরোবরের একদম কাছে। যদি রবীন্দ্র সরোবরে অনুমতি না-পাওয়া যায়, তা হলে দক্ষিণ কলকাতায় ৫০টি জলাশয়ের আমরা ব্যবস্থা রাখছি ছটপুজোর জন্য।’ ওই ঘাটগুলিকে উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)