SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

আচমকাই চলে গেলেন কিংবদন্তি পরিচালক! 'সিনেমা তাঁর আপসহীন কণ্ঠস্বরকে হারাল...!' ইন্ডাস্ট্রিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল

৯৩ বছরে প্রয়াত কিংবদন্তি ইতালীয় পরিচালক টিন্টো ব্রাস! সিনেমায় ইরোটিক ছিল তাঁর শিল্পের হাতিয়ার। অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রির

Written By Subhapam Saha
Published: Nov 06, 2026, 01:23 PM IST | Updated: Nov 06, 2026, 01:41 PM IST
Join

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রয়াত কিংবদন্তি ইতালিয়ান পরিচালক টিন্টো ব্রাস। সিনেমা শিল্পে 'ইরোটিক' শব্দটাকে তিনি অন্য মানেই দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ইরোটিক এপিক ‘স্যালন কিটি’ এবং ‘ক্যালিগুলা’র জন্য তাঁকে মনে রাখা হবে যুগ যুগ ধরে।মৃত্যুকালে টিন্টোর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্রাসের পরিবার টিন্টোর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। টিন্টো তাঁর স্ত্রী, ক্যাটেরিনা ভার্জি এবং সন্তান বনিফাসিও এবং বিট্রিস ব্রাসকে রেখে গেছেন। টিন্টোর প্রয়াণে অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে শোকপ্রকাশ করে লিখেছেন, 'আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে 365 Days এর মতো সিনেমার উদযাপন করা হয়, অথচ টিন্টো ব্রাসকে প্রায় ভুলেই যাওয়া হয়েছে। তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি আমাদের অনেকের কাছেই ইরোটিকার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেনসুয়ালিটি এবং স্টোরিটেলিংয়ের ওস্তাদ ছিলেন। তাঁর সিনেমাগুলি এই হইচইয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সময়ের সঙ্গে অমর হয়ে থাকবে। রেস্ট ইন পিস। সিনেমা তাঁর অন্যতম স্বতন্ত্র, সাহসী এবং আপসহীন কণ্ঠস্বরকে হারাল।'

আইন থেকে সিনেমা!

১৯৩৩ সালে মিলানে ভেনিসীয় বংশোদ্ভূত এক শিল্পী পরিবারে জন্ম টিন্টোর। সিনেমা বানানোর আগে তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। পরে প্যারিসের ‘সিনেমাথেক ফ্রঁসেজ'-এ আর্কাইভিস্ট হিসেবে কাজ করেন। সেখানেই তাঁর কিংবদন্তি পরিচালক রবার্তো রোসেলিনির সঙ্গে আলাপ হয় এবং তিনি রোসেলিনির ওয়ার ড্রামা ‘জেনারেল দেল্লা রোভেরে’-তে অ্যাসিস্টান্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে ভেনিসের পটভূমিকায় তৈরি ‘ইন কাপো আল মোন্দো’ই ছিল টিন্টোর প্রথম সিনেমা। পরে যদিও সিনেমার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘কি লাভোরা এ পারদুতো’। এই সিনেমা এক বেকার যুবকের গল্প, যাঁর মধ্যে সমাজবিরোধী প্রবণতা রয়েছে। ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। তবে ইতালীয় সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে এই সিনেমা নিয়ে বিস্তর জটিলতায় পড়েছিলেন টিন্টো। দেখতে গেলে যা ছিল সেন্সরশিপ নিয়ে টিন্টোর দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রথম ঘটনা। ষাটের দশকের শেষদিকে এবং সত্তরের দশকের বড় একটি সময় টিন্টো লন্ডনেই কাটিয়েছেন এবং সেখানে বেশ কয়েকটি ইংরেজিতে সিনেমা করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ইরোটিক পপ থ্রিলার ‘ডেডলি সুইট’, যেখানে অভিনয় করেছেন জ্যঁ-লুই ত্রিনতিনিয়াঁ এবং সুইডেনের ইভা আউলিন। ছবিতে ত্রিনতিনিয়াঁ এমন এক যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে আবিষ্কার করে যে তাঁর ব্যবসায়িক পরিচিত এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। পুলিসের কাছে না গিয়ে তিনি অপরাধস্থলে উপস্থিত এক তরুণীকে (ইভা আউলিন অভিনীত) রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রকৃত খুনিদের খুঁজতে শুরু করে—যার ফলে সে লন্ডনের অপরাধ জগতের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের মুখে পড়ে যায়।

আরও পড়ুন: আচমকাই চলে গেলেন সেই কিংবদন্তি! ভারতীয় সিনেমা, টেলিভিশন ও সাহিত্যে অপূরণীয় ক্ষতি, শোকের সাগরে ডুবল ইন্ডাস্ট্রি



‘ডেডলি সুইট' ও ‘ক্যালিগুলা’

১৯৬৭ সালের ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ডেডলি সুইট' প্রতিযোগিতার বাইরেই প্রদর্শিত হয়েছিল। টিন্টোর শ্রদ্ধায় চলতি বছরের শুরুর দিকে ভেনিসে এই সিনেমার একটি পুনরুদ্ধারকৃত সংস্করণ দেখানো হয়েছিল। এরপর মুক্তি পায় ‘অ্যাট্রাকশন’ (১৯৬৯) ও ‘ড্রপআউট’ (১৯৭০)। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এরোটিক যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘স্যালন কিটি’র মাধ্যমে টিন্টো আন্তর্জাতিক আঙিনায় পরিচিতি পান। বার্লিনের এক অভিজাত পতিতালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সিনেমার পটভূমিতে ছিল নাৎজি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকাণ্ড! এতে অভিনয় করেছিলেন হেলমুট বার্গার। তবে ইতালির বাইরে টিন্টোর সবচেয়ে পরিচিত সিনেমা ১৯৭৯ সালের ‘ক্যালিগুলা’, যা ১৯৮৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল—তবে টিন্টোর পরিকল্পিত সংস্করণ থেকে ভিন্ন এক সম্পাদনায়। বিতর্কিত এই সিনেমায় ফিনান্স করেছিলেন পেন্টহাউস পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা বব গুচিয়োন। ব্রাস ও পরিচালক গোর ভিদালের সঙ্গে বিরোধের জেরে গুচিয়োন পুরো প্রকল্পই নিজের হাতে তুলে নেন এবং মূল চিত্রনাট্যটি বাতিল করে দেন। তিনি এতে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী কিছু দৃশ্য যুক্ত করেন, যা শ্যুট করা হয়েছিল মূল অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে, যাঁদের মধ্যে ছিলেন হেলেন মিরেন, ম্যালকম ম্যাকডাওয়েল, জন গিলগুড ও পিটার ও’টুল—কাজ শেষ হওয়ার পরবর্তী সময়ে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাস ও ভিদাল সিনেমা থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে ফেলার দাবিতে আইনি পদক্ষেপ নেন।১৯৮৩ সালে, ব্রাস 'দ্য কি' পরিচালনা করেছিলেন, জাপানি লেখক তানিজাকি জুনিচিরোর এক উপন্যাসের রূপান্তর ছিল এই সিনেমা। স্টেফানিয়া স্যান্ড্রেলি অভিনয় করেছিলেন। মহিলা চরিত্রগুলির যৌন মুক্তির যাত্রার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধই করে টিন্টো অন্যান্য কাজগুলি অনুসরণ করেছিল, যার মধ্যে রয়েছে 'ব্ল্যাক অ্যাঞ্জেল' এবং 'ফ্যালো'। 

আরও পড়ুন: শাহরুখ-গৌরীর হানিমুন দার্জিলিংয়েই! কোন হোটেলে ছিলেন তাঁরা? এক রাতের খরচ কত? যাবেন নাকি!

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

 

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

বলতে বলতে গোওওওল... থেকে বোলারের মাথার উপর দিয়ে তুলে ছয়! মূলত ক্রীড়া সাংবাদিকতায়, তবুও বিনোদন থেকে বিজ়নেস, সর্বত্র কলম-ক্যামেরায় বিচরণ। ২০১১ সালে সাংবাদিকতার বাইশ গজে ডেবিউ। প্রিন্ট-টিভি-ডিজিটাল, তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৪ বছরের চলমান ইনিংস। লিখতে লিখতে কাট যায়ে রাস্তে...এমনই ভাবনা আজীবন শিক্ষানবিশের...

ZEENEWS TRENDING STORIES