মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা আগে শেষ SMS, কাকে কী বলতে চেয়েছিলেন নানা পটেকর? দরদরিয়ে ঘামছিলেন অভিনেতা!
মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা আগে শেষ SMS করেছিলেন নানা পটেকর। কাকে ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন অভিনেতা? কেন দরদরিয়ে ঘামছিলেন অভিনেতা!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পটেকর আর নেই! বলিউডে আচমকাই ঘনিয়েছে শোকের ছায়া। ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত অভিনেতা। নানার প্রয়াণ তাঁর লক্ষ লক্ষ ভক্তের কাছে দুঃস্বপ্নের চেয়ে কম কিছু নয়। গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাসভবনে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে মারা যান নানা। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় সিনেমায় এক আকস্মিক অথচ অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। তবে মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে নানা অসুস্থ বোধ করছিলেন এবং একটি টেক্সট মেসেজ করে তিনি তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন গোয়ার মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার। রাত ২.৩০ মিনিটে সেই টেক্সট করেছিলেন নানা। মৃত্যুর তিন ঘণ্টা আগেই নানা টেক্সটে জানান যে, তিনি খুব একটা ভালো বোধ করছেন না। কিন্তু সেই টেক্সটের কোনও উত্তর পাননি নানা।
আরও পড়ুন: কোহলি আউট হলেই নানার খাওয়া বন্ধ! আবেগি পোস্ট বিরাটের, মন ভালো নেই সচিনেরও...
কী জানা যাচ্ছে
ডক্টর সালকার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানান যে, রাত আড়াইটার দিকে নানা টেক্সট পাঠিয়ে জানান যে তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় তিনি মেসেজটি খেয়াল করেননি। পরে নানাকে তিনি ফোন করেন। সালকার বলেন, রাত আড়াইটার দিকে নানা মেসেজ করে জানিয়েছিল যে, তাঁর শরীর ভালো লাগছে না। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় বন্ধুর মেসেজ দেখতে পাননি তিনি। এরপর চিকিত্সক নানাকে ফোন করেন। উত্তর না পেয়ে তিনি ভোর ৪টার দিকে নানার বাড়িতে যান। তিনি আরও জানান যে, গিয়ে দেখেন নানা দরদর করে ঘামছিলেন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন। নানা গোয়ার মণিপাল হাসপাতালের কাছেই থাকতেন। অ্যাম্বুলেন্স আনার জন্য তাঁর কেয়ারটেকারকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসেন এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দল দ্রুত সাড়া দেয়। নানা কোনও সাড়া দিচ্ছিলেন না বলে তাঁরা কার্ডিয়াক ম্যাসাজ শুরু করেন। ভোর ৪টা ২০ থেকে ৪টা ৩০-এর মধ্যে নানাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতাল যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল, কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। চিকিৎসক নিশ্চিত করেন যে, ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ধরে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দেওয়া সত্ত্বেও নানাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নানাকে তাঁর প্রাইভেট ফার্মহাউজ ডোঞ্জেতেই সত্কার করা হয়। ছেলে মালহার পাটেকর এবং স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক 'গার্ড অফ অনার' দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল মেনেই সবটা হয়।মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ-সহ বিভিন্ন নেতা তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আরও পড়ুন: ‘হিরোর মতো চুল ঠিক করিস না, তুই একজন অভিনেতা’, নানার উপদেশ আজও মেনে চলেন শাহরুখ...
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)