জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১ নভেম্বর থেকে সুরাপ্রেমীদের জন্য বড় নিয়ম বদল কার্যকর করল তামিলনাড়ু সরকার। রাজ্যের একমাত্র সরকারি মদ বণ্টনকারী সংস্থা TASMAC (Tamil Nadu State Marketing Corporation) মদের বোতলের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যে (MRP - Maximum Retail Price) বদল আনার পাশাপাশি কেনাকাটার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। একদিকে পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে রাজস্বে স্বচ্ছতা আনা-- এই দুই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই চালু হয়েছে এই অভিনব পদক্ষেপ।
দাম বাড়লেও পকেটে চাপ নেই কেন? কী এই ‘বাই-ব্যাক’ নিয়ম?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি মদের বোতলের এমআরপি-র (MRP) উপর অতিরিক্ত ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে দাম বাড়ার মতো মনে হলেও, এই বাড়তি টাকা আসলে পুরোপুরি ক্রেতার পকেট থেকে খসবে না।
মদের বোতল খালি হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট দোকানে ফেরত দিলেই সেই বাড়তি ১০ টাকা রিফান্ড (Refund) বা ফেরত হিসেবে পেয়ে যাবেন ক্রেতা। একে আন্তর্জাতিক পরিবেশ নীতির ভাষায় বলা হয় বটল ডিপোজিট অ্যান্ড রিফান্ড সিস্টেম (Bottle Deposit and Refund System)।
আগে এই ১০ টাকা এমআরপি-র বাইরে আলাদা করে খুচরো দোকানে নেওয়া হতো, যা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এবার সেই পরিবেশ সংক্রান্ত চার্জ বা সিকিউরিটি ডিপোজিট সরাসরি বোতলের গায়ে ছাপা দামের (MRP) মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হলো।
কেন এই অভিনব উদ্যোগ?
বনাঞ্চল, চাষের জমি ও প্রকাশ্য রাস্তায় যত্রতত্র কাচের খালি বোতল ফেলে দেওয়ার ফলে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় কাচের টুকরো থেকে বন্যপ্রাণী ও স্থানীয় মানুষের ক্ষতি হচ্ছিল।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে পরিবেশ সুরক্ষায় কাচের বোতল পুনর্ব্যবহার (Recycling) নিশ্চিত করতেই এই বটল বাই-ব্যাক স্কিম (Bottle Buy-Back Scheme) শুরু করেছিল সরকার। বোতল ফেরত দিলে টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকলে মানুষ যত্রতত্র বোতল না ফেলে দোকানে ফিরিয়ে আনবেন-- এটাই মূল লক্ষ্য।
আরও ৫টি জেলায় সম্প্রসারণ ও রিভার্স ভেন্ডিং
প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু পাহাড়ি ও সংবেদনশীল অঞ্চলে এই ব্যবস্থা সফল হওয়ার পর, এবার রাজ্যের আরও ৫টি জেলায় এই খালি বোতল ফেরতের পরিসর বাড়ানো হচ্ছে।
দোকানের কর্মীদের দায়িত্ব: নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় বা আধুনিক রিভার্স ভেন্ডর (Reverse Vendor / Reverse Vending Machine) চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মদের দোকানের কর্মীরাই বোতল সংগ্রহ করে ডিপোতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।
পর্যাপ্ত কয়েন ও খুচরো নোটের ব্যবস্থা: ক্রেতারা বোতল ফেরত দিলে যাতে ১০ টাকার খুচরো নিয়ে কোনও বচসা না হয়, সেজন্য ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পর্যাপ্ত ১০ টাকার কয়েন ও কারেন্সি নোট মজুত রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি আউটলেটে।
১০০০ টাকার বেশি কিনলেই ডিজিটাল পেমেন্ট
মদের দোকানে নগদ লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে TASMAC।
১ নভেম্বর থেকে নিয়ম: একলপ্তে ১,০০০ টাকার বেশি মদ কিনলে নগদ টাকা (Cash) নেওয়া হবে না। ইউপিআই (UPI), কিউআর কোড (QR Code) বা কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট (Digital Payment) বাধ্যতামূলক।
২০২৭-এর রোডম্যাপ: এই নিয়ম এখানেই থামছে না। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই সীমা কমিয়ে আনা হবে ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ, ৫০০ টাকার বেশি বিল হলেই বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইন লেনদেন করতে হবে।
নগদ টাকার অনিয়ম কমানো, ওভারপ্রাইসিং বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করতেই এই ক্যাশলেস বন্দোবস্ত। পরিবেশ সচেতনতা এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা—উভয় ক্ষেত্রেই তামিলনাড়ু সরকারের এই নতুন মডেল দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও পথপ্রদর্শক হতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর বিশেষজ্ঞদের।