অয়ন ঘোষাল: এসে গেল 'মুরাসু'র লাস্ট ও লেটেস্ট আপডেট। কী জানা গেল সেই আপডেট থেকে? জানা গেল, আজই ল্যান্ডফল 'মুরাসু'র। শক্তি বাড়িয়ে 'মুরাসু' এখন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত। আজ, সোমবার মাঝরাতের পরে অন্ধ্রপ্রদেশে এর ল্যান্ডফল। দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের ওঙ্গোলের কাছে ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা। বাংলায় 'মুরাসু' সংক্রান্ত কোনও সতর্কতা নেই।
৯৫-১২০ কিমি প্রতি ঘণ্টা
আজ ভোরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত। ঝড়ের গতিবেগ ৯৫-১০৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়; দমকা ১১৫ কিমি। আজ রাত ১১:৩০ থেকে কাল ভোর ৪:০০-র মধ্যে ল্যান্ডফল। দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যে, ওঙ্গোলের কাছে, ১০০-১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়, দমকা ১২০ কিমি বেগে আছড়ে পড়তে পারে। তবে এই সিস্টেমের জন্য আপাতত বাংলায় কোনও সতর্কতা নেই। তবে নজরদারি চলছে।
বাংলার আবহাওয়া
উত্তরবঙ্গ
আজ উত্তরবঙ্গের সব জেলায় আংশিক মেঘলা আকাশ, কখনো পুরোপুরি মেঘলা আকাশ। বিক্ষিপ্তভাবে ১-২ জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার এবং মঙ্গলবার উপরের পাঁচ জেলায় হালকা বৃষ্টি হবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে ১-২ জায়গায় হালকা বৃষ্টি। নীচের বাকি তিন জেলাতেই শুকনো আবহাওয়া। বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত আবহাওয়া মূলত শুকনোই।
দক্ষিণবঙ্গ
আজ ও আগামীকাল সব জেলায় আংশিক মেঘলা আকাশ কোথাও মেঘলা আকাশ। বিক্ষিপ্তভাবে ১-২ জায়গায় হালকা মাঝারি বৃষ্টি। মঙ্গলবার বেশ কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা। এর মধ্যে কলকাতা-সহ নয় দশ জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি দু-এক পশলা। বাকি জেলায় শুকনো আবহাওয়ার সম্ভাবনা। বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত শুকনো আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই।
মৎস্যজীবীদের সতর্কতা
পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে এ-জাতীয় কোনও সতর্কতা নেই। তবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ২ নভেম্বর সকাল থেকে ৪০-৫০ দমকা, ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত ৫০-৬০ দমকা ও ৭০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থাকবে। মৎস্যজীবীদের জন্য বাংলার উপকূলে কোনও সতর্কতা না থাকলেও ২ থেকে ৪ নভেম্বর পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের।
পিঠোপিঠি দুই ঘূর্ণিঝড়
পিঠোপিঠি দুটি ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আলোচনা চলছে। শুধু 'অর্ণব'-'মুরাসু' নয়, অনেকেরই হয়তো মনে পড়বে, এরকম আগেও হয়েছে। ইয়েমেন এবং সিডর। ২০০৭ সালে পিঠোপিঠি এই দুটি ঘূর্ণিঝড় একই জায়গায় তৈরি হয়ে অনেকটা একই রকম শক্তি নিয়ে প্রায় একই রুট ধরে স্থলভাগে প্রবেশ করেছিল। তার ঠিক ১৩ বছর পরে আবার এই ২০২৬ সালে। অর্ণব এবং মুরাসু পিঠোপিঠি দুটি ঘূর্ণিঝড়। হুবহু এক উৎপত্তিস্থল। যাত্রাপথ প্রায় এক। ল্যান্ডফল লোকেশন সামান্য বদল। প্রসঙ্গত, মুরাসু শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্থাৎ, সিভিয়ার সাইক্লনিক স্টর্ম হিসেবে ল্যান্ডফল করবে। এটি ক্যাটেগরি-৩ হ্যারিকেন পর্যায়ভুক্ত। স্থলভাগে ঢুকে তারপর দুর্বল হবে। সেই অবস্থায় ক্যাটেগরি-২ হ্যারিকেন হিসেবে প্রাথমিকভাবে এটি তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের দিকে যাবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)