RBI-এর জোর ধাক্কা! পুজোর আগেই একলাফে রেপো রেট বাড়ল... মহার্ঘ হচ্ছে গৃহঋণ! কত টাকা বাড়ছে হোম লোনের EMI?
Repo Rate impact on home loan EMI: কেন রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্যাংক? কেন রেপো রেট বাড়তেই বাড়ছে EMI? কত বছরের কত লাখ টাকা লোনে এখন কত বেশি টাকা EMI গুনতে হবে প্রতি মাসে? দেখে নিন হিসেব।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্যাংক। ২৫ বেসিস পয়েন্ট (BPS) রেপো রেট বাড়াল আরবিআই। যার ফলে রেপো রেট ৫.২৫% থেকে বেড়ে হল ৫.৫০%। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর এই প্রথম রেপো রেট বৃদ্ধি করল রিজার্ভ ব্যাংক। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, মুদ্রানীতি কমিটি (MPC) সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে হোম লোন, গাড়ি ঋণ-সহ বিভিন্ন ঋণের ইএমআই (EMI) ব্যয়বহুল হতে চলেছে। মধ্যবিত্তের উপর চাপতে চলেছে অতিরিক্ত সুদের বোঝা। তবে রেপো রেট বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে MPC জিডিপি বৃদ্ধিরও পূর্বাভাস দিয়েছে। GDP বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ৭.১ শতাংশ।
কেন বাড়ছে রেপো রেট?
তিন দিনব্যাপী মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের পর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, কমিটির সমস্ত সদস্য একযোগে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির উর্ধ্বমুখী হার ও আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে রেপো রেট বা সুদের হার কমানোর যে কোনও সুযোগ নেই, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, আগামী দিনে সুদের হার কেমন হবে তা নির্ভর করবে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের সাপ্লাই কী হচ্ছে, তার উপর। প্রসঙ্গত, যে হারে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে টাকা ধার নেয়- তা হল রেপো রেট। ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট বাড়ালে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির আরবিআই থেকে টাকা ধার নেওয়ার খরচ বা মূলধন যোগাড়ের খরচ বেড়ে যায়। যারফলে তখন ব্যাংকগুলি সাধারণ গ্রাহকদের ঋণে সুদের হার বাড়িয়ে দেয়।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা রেপো রেট বৃদ্ধির পেছনে মূলত কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন। যেমন- বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দামের বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও খাদ্যসামগ্রীর ঊর্ধ্বমুখী দাম সারা বিশ্বের অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সেইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির তাদের নীতিও কঠোর করেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উন্নত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি ক্রমাগত তাদের সুদের হার বাড়িয়ে চলেছে। পাশাপাশি, মার্কিন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলেও বিশ্ব বাজারে আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা-ই বিশ্ব অর্থনীতিকে ধীর গতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বাড়ছে হোম লোনের EMI
এখন রিজার্ভ ব্যাংক রেপো রেট বাড়ানোয় তার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ-সহ অন্যান্য ঋণের ক্ষেত্রে। হোম লোনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের উপর চাপতে চলেছে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা। বাড়তে চলেছে EMI। যেসব ব্যাংকের গৃহঋণ এক্সটার্নাল বেঞ্চমার্ক বা রেপো রেটের সঙ্গে যুক্ত, তাদের EMI অচিরেই বাড়তে চলেছে। হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত (PSU) ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ৩০ বছর মেয়াদে ৫০ লাখ টাকার হোম লোনের ক্ষেত্রে মোট প্রায় ৩.০৭ লাখ টাকা বেশি দিতে হবে। আগের ৭.২৫% সুদের হারে EMI দিতে হচ্ছিল ৩৪,১০৯ টাকা। এবার নতুন আনুমানিক ৭.৫০% সুদের হারে EMI বেড়ে দাঁড়াবে ৩৪,৯৬১ টাকা। ফলে EMI বাবদ মাসে খরচ বাড়বে ৮৫২ টাকা।
ওদিকে বেসরকারি ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ৩০ বছর মেয়াদে ৫০ লাখ টাকার হোম লোনের ক্ষেত্রে মোট প্রায় ৩.১২ লাখ টাকা বেশি দিতে হবে। আগের ৭.৭৫% সুদের হারে EMI দিতে হচ্ছিল ৩৫,৮২১ টাকা। এবার নতুন আনুমানিক ৭.৫০% সুদের হারে মাসের EMI বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬,৬৮৮ টাকা। ফলে মাসে EMI বাড়তে চলেছে প্রায় ৮৬৭ টাকা। এখন প্রতি মাসের হিসেবে ৮৫০ থেকে ৮৭০ টাকার বাড়তি EMI আপাতদৃষ্টিতে কম মনে হলেও, ৩০ বছরের মেয়াদে সেটাই ৩ লাখ টাকার বেশি, যা বেশি গুনতে হবে মধ্যবিত্ত সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের।
অন্যদিকে কোনও ব্যক্তি যদি ২০ বছর মেয়াদে ২০ লাখ টাকা হোম লোন নিয়ে থাকেন তবে সুদের হার ৮.৭৫% থেকে বেড়ে ৯.০০% হলে তাঁকে আগের ১৭,৬৭৪ টাকার জায়গায় নতুন EMI দিতে হবে ১৭,৯৯৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে ৩২১ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে। ২০ বছরে মোট সুদ দিতে হবে ২২,৪১,৮১১ টাকার পরিবর্তে ২৩,১৮,৬৮৫ টাকা। অর্থাৎ মোট ৭৬,৮৭৪ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে।
আবার কোনও ব্যক্তি যদি ২০ বছরের মেয়াদে ৩০ লাখ টাকা হোম লোন নিয়ে থাকেন, তবে তাঁকে আগের ২৬,৫১১ টাকার জায়গায় নতুন EMI দিতে হবে ২৬,৯৯২ টাকা। ফলে প্রতি মাসে EMI বাবদ ৪৮১ টাকা খরচ বাড়বে। ২০ বছরে মোট ১,১৫,৩১০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে। কারণ পরিশোধযোগ্য সুদের পরিমাণ ৩৩,৬২,৭১৭ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৩৪,৭৮,০২৭ টাকা।
৭.১% GDP বৃদ্ধিরও পূর্বাভাস MPC-র
যদি রেপো রেট বাড়ালেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আশাবাদী রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। চলতি অর্থবর্ষের জন্য ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৬.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ করা হয়েছে MPC বৈঠকে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে, দেশের অর্থনীতি গতিশীল অবস্থায় আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উৎপাদন ক্ষেত্রে খরচ বাড়া সত্ত্বেও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর ভালো পারফর্ম করছে। পরিষেবা খাতেও টাকা আসছে। স্থায়ী মূলধন বিনিয়োগও ইতিবাচক। পাশাপাশি সামগ্রিক রফতানিও সামগ্রিক জিডিপি বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে।
MPC নির্ধারিত চলতি অর্থবর্ষের বিভিন্ন ত্রৈমাসিকে সম্ভাব্য GDP বৃদ্ধি-
দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Q2), জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর: ৭.২%
তৃতীয় ত্রৈমাসিক (Q3), অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর: ৬.৯ %
চতুর্থ ত্রৈমাসিক (Q4), জানুয়ারি থেকে মার্চ: ৬.৮%
খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার
তবে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি গতিশীল থাকলেও খুচরো মুদ্রাস্ফীতি বা CPI Inflation নিয়ন্ত্রণ করা রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চলতি অর্থবর্ষে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি গড় ৫.২ শতাংশে থাকবে বলে জানিয়েছে মুদ্রানীতি কমিটি।
মুদ্রাস্ফীতির আনুমানিক হার-
দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Q2): ৪.৯ %
তৃতীয় ত্রৈমাসিক (Q3): ৬.০%
চতুর্থ ত্রৈমাসিক (Q4): ৫.৭ %
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
এখন রেপো রেট বাড়ায় গৃহঋণগ্রহীতাদের উপর আর্থিক চাপ তৈরি হবে, এটা যেমন ঠিক, তেমনই জিডিপি বৃদ্ধির ইতিবাচক পূর্বাভাস দেশের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার সময়ের সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চাকা কোনদিকে গড়ায়।
আরও পড়ুন, মাত্র ২.৬ লাখ টাকায় বড় খেলা ঘোরাল টাটা মোটরস! ইলেকট্রিক বাসের বাজারে মেগা মাস্টারস্ট্রোক
আরও পড়ুন, পিন, OTP-র ঝামেলা শেষ! ভারতে এল Apple Pay, প্রথম পার্টনার Axis Bank- কার্ড ছাড়াই হবে সব পেমেন্ট
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)