জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি (Information Technology বা IT) ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও গণছাঁটাইয়ের (Mass Layoffs) আবহ যেন চলছেই। আজ এই কোম্পানি তো কাল অন্য কেউ। রোজই প্রায় বহু লোকের চাকরি চলে যাওয়ার খবর আসছে সামনে। এর মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিটে (Reddit) এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের শেয়ার করা অভিজ্ঞতা নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে প্রযুক্তি মহলে। প্রায় দেড় স্প্রিন্ট (1.5 Agile Sprints)-- অর্থাৎ প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে হাতে কোনও নির্দিষ্ট কাজ নেই তাঁর। উল্টে তাঁর বরাদ্দ কাজ ও দায়িত্বও একে একে তুলে দেওয়া হচ্ছে সম্প্রতি যোগ দেওয়া নতুন কর্মীদের হাতে। এই পরিস্থিতিতে তিনি কি ছাঁটাইয়ের তালিকার মুখে রয়েছেন? প্রশ্ন তুলতেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।
ঠিক কী ঘটেছে ওই কর্মীর সঙ্গে?
রেডিটের একটি টেক ফোরামে নিজের উদ্বেগ উগরে দিয়ে ওই ইঞ্জিনিয়ার জানান, চটজলদি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের পার্ট হিসেবে কাজের সময়সীমাকে সাধারণত 'স্প্রিন্ট' (Sprint) বলা হয়। দেড় স্প্রিন্ট ধরে স্ক্রাম বোর্ডে (Scrum Board) তাঁর নামে কোনও টিকিট বা টাস্ক নেই।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, তিনি কোনো কাজ চাইলেও ম্যানেজার সরাসরি তা এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর স্বাভাবিক সব দায়িত্ব সদ্য সংস্থায় যোগ দেওয়া জুনিয়র কর্মীদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অফিসে নিয়মিত বেতন এলেও কাজহীন বসে থাকা তাঁর কাছে এক চরম মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এটা কি ‘কোয়াইট ফায়ারিং’ বা নিঃশব্দ ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত?
কর্পোরেট মহলে এই ধরনের পরিস্থিতিকে বিশ্লেষকেরা প্রায়ই ‘কোয়াইট ফায়ারিং’ (Quiet Firing) বা পরোক্ষ বরখাস্তের লক্ষণ বলে মনে করেন। কোনও কর্মীকে সরাসরি ছাঁটাই করলে সংস্থাকে হয়তো মোটা অঙ্কের সেভারেন্স প্যাকেজ (Severance Package) বা ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। তাই অনেক সময় কর্মীর দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়, গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থেকে বাদ রাখা হয় কিংবা সম্পূর্ণ অপাংক্তেয় করে তোলা হয়, যাতে তিনি নিজেই মানসিক ক্লান্তিতে পদত্যাগ (Resign) করতে বাধ্য হন।
আবার অন্য একটি যুক্তি হলো কস্ট-কাটিং বা খরচ কমানো। অভিজ্ঞ সিনিয়রের বেতন বেশি হওয়ায়, তাঁদের কাজ কম বেতনের জুনিয়রদের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে সিনিয়র কর্মীদের ছাঁটাই তালিকার শীর্ষে রাখা সাধারণ এক কর্পোরেট প্রবণতা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
এই পোস্টটি ভাইরাল হতেই সহমর্মিতা ও পরামর্শের বন্যা বয়ে গিয়েছে:
রিজিউমে ও পোর্টফোলিও আপডেট: প্রথম পরামর্শই হল সময় নষ্ট না করে লিঙ্কডইন (LinkedIn) ও সিভি আপডেট করা এবং গোপনে নতুন চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়া শুরু করা।
প্রমাণ সংরক্ষণ (Keep Documentation): ম্যানেজারের সঙ্গে কথোপকথন, কাজ চেয়ে পাঠানো ইমেল এবং পূর্ববর্তী পারফরম্যান্সের প্রশংসাপত্র নিজের ব্যক্তিগত ড্রাইভে বা সেভ করে রাখা।
অহেতুক আত্মতুষ্টি বর্জন: অফিসে কাজ না থাকলে স্বস্তি পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ করপোরেট জগতে দৃশ্যমানতার অভাব (Lack of Visibility) প্রায়শই পিঙ্ক স্লিপের (Pink Slip) পূর্বাভাস বহন করে।