SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

সর্বকালের অন্যতম বড় ধস ভারতের শেয়ার বাজারে? কোটি কোটি টাকা নিমেষে জলে তলে গেল, এই ঐতিহাসিক পতনে আপনার কী করা উচিত?

Share Market Crash: শেয়ার বাজারে বড়সড় বিপর্যয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিতে দিশেহারা লগ্নিকারীরা, নেপথ্যে কোন কারণ?

Reported By Nabanita Sarkar Written By Nabanita Sarkar
Published: Oct 08, 2026, 06:00 PM IST | Updated: Oct 08, 2026, 07:12 PM IST
Image Credit: শেয়ার মার্কেটে বড় ধস, এক নিমেষে কোটি কোটি টাকা জলে চলে গেল
Join

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সপ্তাহের চতুর্থদিনে মারাত্মক ধাক্কার মুখোমুখি ভারতীয় শেয়ার বাজার। দালাল স্ট্রিটে একযোগে তীব্র রক্তক্ষরণ। প্রধান দুই বেঞ্চমার্ক সূচক-- বিএসই সেনসেক্স (BSE Sensex) এবং এনএসই নিফটি ৫০ (Nifty 50)- এ পতন। লেনদেন শুরুর পর থেকেই দেশের বাজারে বিক্রির বিপুল চাপ তৈরি হয়, যার জেরে লগ্নিকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকার বাজার মূলধন (Market Cap) নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বৃহৎ সূচকগুলোর পাশাপাশি তীব্র পতনের মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ খাতের শেয়ারগুলিও।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই বড়সড় ধসের পেছনে কোনও একক কারণ নেই। একাধিক বিশ্ব ও অভ্যন্তরীণ প্রভাব যৌথভাবে কাজ করেছে।

কেন রক্তাক্ত দালাল স্ট্রিট? আজকের পতনের শীর্ষ ৫ কারণ

১. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) লাগাতার শেয়ার বিক্রি: 

চিনের ঘোষিত সাম্প্রতিক আর্থিক প্রণোদনা এবং সেখানে তুলনামূলক সস্তা মূল্যায়নের (valuation) সুযোগ থাকায় বিদেশি তহবিলগুলো ভারত থেকে টাকা তুলে চিনা বাজারে সরাচ্ছে। এর ফলে তীব্র বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।

২. অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট: 
 

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে। ভারত তেল আমদানিনির্ভর হওয়ায় তেলের বাড়তি দর দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

৩. রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা: 
 

মূল্যস্ফীতি ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে শীর্ষ ব্যাংক সুদের হার (Repo Rate) কমানোর ব্যাপারে এখনই কোনও ইতিবাচক বার্তা দেবে না-- এমন আশঙ্কায় ব্যাংকিং ও ফিনান্সিয়াল স্টকগুলোতে ধস নেমেছে।

৪. অতিরিক্ত মূল্যায়ন ও মুনাফা তোলার হিড়িক:

ভারতের মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ স্টকগুলো ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় অত্যন্ত চড়া মূল্যে ট্রেড করছিল। কোনও পরিবর্তন আসার আগেই বড় বিনিয়োগকারীরা তড়িঘড়ি মুনাফা তুলে (Profit Booking) নগদ অর্থ হাতে রাখতে শুরু করেছেন।

৫. দ্বিতীয় প্রান্তিকের (Q2) আয়ের শঙ্কা:

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ফলাফল মরশুম সবে শুরু হয়েছে। আইটি, ব্যাংক ও অটোমোবাইল খাতের মুনাফা বৃদ্ধির গতি মন্থর হতে পারে বলে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে।

২০০০ সালের পর থেকে ৬টি বড় ধাক্কা ও ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস
 

শেয়ার বাজারে সাময়িক ধস স্বাভাবিক ঘটনা। গত আড়াই দশকে দালাল স্ট্রিটের মারাত্মক বিপর্যয়ের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রতিটি পতনের পরই বাজার আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে:

১. ডট-কম বাবল ও কেতন পারেখ কেলেঙ্কারি (২০০০–২০০১): 
 

প্রযুক্তি খাতের বুদ্বুদ ফেটে সেনসেক্স প্রায় ৫০% পয়েন্ট হারিয়েছিল। বাজার পূর্বের জায়গায় ফিরতে প্রায় ২ থেকে ৩ বছর সময় নেয় এবং ২০০৩ থেকে নতুন বুল রান শুরু হয়।

২. বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা / লেম্যান ব্রাদার্স সংকট (২০০৮): 
 

আমেরিকার সাবপ্রাইম সংকটের জেরে সেনসেক্স ২১,০০০ থেকে ৮,০০০ পয়েন্টে (প্রায় ৬০–৬২% পতন) নেমে আসে। ধাক্কা কাটিয়ে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে আড়াই বছর।

৩. নোটবন্দি বা ডিমোনিটাইজেশন শক (২০১৬):

৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিলের ঘোষণায় রিয়েল এস্টেট ও কনজিউমার স্টক ভেঙে পড়লে সূচকগুলি ৬%–১০% হ্রাস পায়। এটি কোনো কাঠামোগত মন্দা ছিল না, মাত্র ৩ থেকে ৫ মাসের মধ্যেই বাজার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়।

৪. আইএল অ্যান্ড এফএস (IL&FS) সংকট (২০১৮):

বড় নন-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থার ঋণ খেলাপিতে তীব্র অর্থসংকট তৈরি হয়। বড় সূচকগুলি ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে স্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

৫. কোভিড-১৯ মহামারীকালীন পতন (মার্চ ২০২০):

দেশব্যাপী লকডাউনের আতঙ্কে সেনসেক্স-নিফটি ৩৮%–৪০% ধসে পড়ে। তবে এটি ছিল ইতিহাসের দ্রুততম পতন ও দ্রুততম উত্থান; শক্তিশালী আর্থিক প্রণোদনায় মাত্র ৭ থেকে ৮ মাসেই বাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।

৬. যুদ্ধ ও বিশ্ব মূল্যস্ফীতি সংকট (২০২২–২০২৪/পরবর্তী): 
 

রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অস্থিরতা তৈরি হলেও দেশীয় লগ্নিকারীদের এসআইপি (SIP)-র জোরে বাজার গড়ে ৪ থেকে ৬ মাসের ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল শিক্ষা

প্যানিক সেলিং বন্ধ রাখা: পতনের সময় আতঙ্কিত হয়ে লোকসানে ভালো শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া সবচেয়ে বড় ভুল।

ধারাবাহিক এসআইপি (SIP): বাজারের মন্দার সময় কম দামে বেশি ইউনিট কেনা যায়, যা পরবর্তী রিকভারির সময় বিপুল রিটার্ন এনে দেয়।

ধৈর্য ও সঠিক শেয়ার নির্বাচন: মজবুত ভিত্তিযুক্ত (fundamentally strong)

বড় কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে বিনিয়োগ বজায় রাখলে সাময়িক ধসে বড় ক্ষতি হয় না।

আরও পড়ুন: কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যাবহারকারী চরম বিপদে, যে কোনও মুহূর্তে হ্যাক হতে পারে আপনার সব তথ্য: আপনি নিরাপদ তো? কী ভাবে বাঁচবেন?

আরও পড়ুন: EXPLAINER: পুজোর মাসে আপনি কি হাতে কম টাকা পাবেন? EPFO-র নতুন নিয়ম আপনার পকেটে কী প্রভাব ফেলল?

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)

Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদাতা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। আইন-আদালত থেকে বিনোদন, দেশ থেকে দুনিয়ার হরেক খবরে শেখার চেষ্টা অবিরাম...  

ZEENEWS TRENDING STORIES