নারায়ণ সিংহ রায়: সর্বানন্দ সোনওয়াল তোপ দাগলেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে: 'গণতন্ত্র রক্ষা নয়, কংগ্রেস ও ইন্ডি জোটের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা দখল'
শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস এবং বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী তথা আসামের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। বিজেপির 'গণতন্ত্র বাঁচাও, নৈরাজ্য হটাও' কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের লোকসভা সাংসদ রাজু বিস্তা এবং শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অরুন মণ্ডল। বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই বিরোধীরা নিত্যনতুন চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশের অভিজ্ঞ ও সচেতন জনগণ তাদের আসল উদ্দেশ্য ধরে ফেলেছেন বলেই একের পর এক নির্বাচনে তারা প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা লোকসভা সাংসদ সোনওয়াল বিগত কয়েক দশকে দেশে উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিগত বেশ কিছু বছরে দেশের কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে মুক্ত হয়ে উন্নতির মুখ দেখেছেন। যেখানে স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও কংগ্রেস কেবল "গরীবি হটাও" স্লোগান দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করেছে, সেখানে বর্তমান সরকার কোনো ফাঁকা বুলি না দিয়ে কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন এনেছে। আজ কোটি কোটি পরিবার সুন্দর আবাসন, শৌচাগার, রান্নার গ্যাস, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য এবং বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছে। গ্রামগুলোতে উন্নত মানের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে এবং গুরুতর রোগের চিকিৎসার সুবিধার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষ 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। এটি কোনো সামান্য পরিসংখ্যান নয়, বরং দেশকে স্বাবলম্বী ও দেশের মানুষকে শক্তিশালী করার এক বাস্তব চিত্র।
কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগী দলগুলোর নেতিবাচক রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, তারা নিজেদের মেয়াদকালে দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা এবং সংঘাত ছাড়া দেশকে আর কিছুই দিতে পারেনি। অসমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কংগ্রেস নিজেদের শাসনকালে বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিতে আইএমডিটি-র মতো আইন এনেছিল, যা ভারতের স্বার্থবিরোধী ছিল এবং দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেটিকে অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, কেবল প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নিয়েই একটি সঠিক ভোটার তালিকা গঠন করতে হবে এবং এতে বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকা দেশের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে তৃণমূল সরকার কখনোই কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখায়নি।
নির্বাচনে ক্রমাগত হেরে যাওয়ার পর বিরোধীরা যেভাবে ইভিএম (EVM), নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দায় চাপাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন সোনওয়াল। তিনি মন্তব্য করেন, গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করার এই অপচেষ্টা প্রমাণ করে যে তাদের কোনও রাজনৈতিক মনোবল অবশিষ্ট নেই। রাহুল গান্ধী এবং তাঁদের জোটের দলগুলো দেশের নিরাপত্তা ও জোয়ানদের বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সবসময় সেনাবাহিনীকে অপমান করেছে বলেও তিনি তোপ দাগেন।
ভারতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ‘অমৃত কাল ভিশন’ স্থির করেছেন। এই লক্ষ্য সফল করতে ভারতের যুব সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, দেশকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজ্যের সচেতন নাগরিকেরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। বিরোধীদের নেতিবাচক ও চক্রান্তমূলক রাজনীতি প্রতিহত করে দেশজুড়ে ইতিবাচক শক্তির বিকাশ ঘটবে এবং 'এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত' গঠনে সাধারণ মানুষ সরকারের পাশে থাকবেন বলে তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)