মেয়র হিসেবে কাকে সামনে আনবে বিজেপি? শিলিগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনের আগে তুঙ্গে জল্পনা
Siliguri Municipal Corporation: শিলিগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে বিজেপি। শিলিগুড়ির ভোটার তালিকায় জেলা বিজেপি সভাপতি অরুণ মণ্ডল নাম তোলার আবেদন করেছেন। এর ফলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
নারায়ণ সিংহ রায়: শিলিগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে বিজেপি। শিলিগুড়ির ভোটার তালিকায় জেলা বিজেপি সভাপতি অরুণ মণ্ডল নাম তোলার আবেদন করেছেন। এর ফলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
আগামী শিলিগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা। কোন দল কতগুলি ওয়ার্ডে জয়লাভ করবে, কোন দল দখল করবে শিলিগুড়ি পৌরনিগমের বোর্ড। এবং সবথেকে বড় প্রশ্ন, পরবর্তী মেয়র হিসেবে কাকে সামনে আনবে বিজেপি? এই সমস্ত প্রশ্নের মাঝেই নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডলের নাম।
সূত্রের খবর, ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অরুণ মণ্ডলের আবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তাহলে কি আগামী শিলিগুড়ি পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? আর যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে কি মেয়র পদের দাবিদার হিসেবেও তাঁর নাম উঠে আসতে পারে? আপাতত এই প্রশ্নগুলিই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
অরুণ মণ্ডলের কী বক্তব্য:
বিজেপি নেতা অরুণ মণ্ডল বলেন, 'মেয়রের পদ এভাবে ঠিক হয় না। নিয়ম অনুযায়ী আগে নির্বাচনে দাঁড়াতে হয়। নির্বাচনে জয়ী কাউন্সিলররা একসঙ্গে বসে মেয়রের নাম নির্ধারণ করেন। এছাড়া কে কোথায় প্রার্থী হবেন, তা দলের নির্বাচন মণ্ডলী ঠিক করে।' তাই তাঁর কথায়, 'দিল্লি এখনও বহু দূর'। সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তই দলের উপর নির্ভর করছে।
নির্বাচনে লড়াইয়ের ইচ্ছে প্রসঙ্গে তিনি জানান, একজন রাজনৈতিক নেতার নির্বাচনে লড়াই করার ইচ্ছে থাকাটাই স্বাভাবিক। দল তাঁকে দীর্ঘদিন সংগঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। দল যদি তাঁকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভোটে লড়াইয়ের নির্দেশ দেয়, তবে তিনি তা মাথা পেতে নেবেন। তবে নির্দিষ্ট কোনও পছন্দের ওয়ার্ড নিয়ে তিনি ভাবছেন না। শিলিগুড়ির ৪৭টি ওয়ার্ডই তাঁর কাছে সমান। জেলা সভাপতি হিসেবে সবকটি ওয়ার্ড পার্টিকে উপহার দেওয়া তাঁর দায়িত্ব। যে সমস্ত ওয়ার্ড তুলনামূলক দুর্বল, সেখানে দল বিশেষ নজর দেবে। কিছু ওয়ার্ডে তাঁর যাতায়াত বেশি হলেও আলাদা কোনও ব্যক্তিগত পছন্দ নেই।
পুরভোটের আগে ভোটার তালিকায় নাম পরিবর্তনের আবেদন ঘিরে চলা কানাঘুষো নিয়ে তিনি জানান, কে এই কথা বলেছে তা সময় এলেই স্পষ্ট হবে। সঠিক সময়ে সব তথ্য সামনে আসবে। সময়মতো খবর সামনে আসাই শ্রেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধীদের চ্যালেঞ্জের প্রশ্নে বিজেপি নেতা জানান, শিলিগুড়িতে বিরোধীরা কোনো জায়গা করতে পারবে না। বিরোধীদের সেই সাংগঠনিক শক্তিই নেই। মানুষ সিপিএম, কংগ্রেস ও তৃণমূল—সব দলকেই দেখেছে। প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব মাঝপথে পুরবোর্ড ছেড়ে চলে যাওয়ায় মানুষ তৃণমূলকেও প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি দাবি করেন, শিলিগুড়িতে আগামী বিকল্প বিজেপি। পুজো কমিটিগুলোকে আর্থিক অনুদান, অন্নপূর্ণা যোজনার সহায়তা, কর্মীদের ২০ শতাংশ ডিএ প্রদান এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়নের মতো পদক্ষেপ বিজেপি সরকারের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। এই উন্নয়ন দেখে মানুষ শিলিগুড়িতে বিজেপির বোর্ড গঠন করবে এবং সেখানে 'ট্রিপল ইঞ্জিন' সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, শিলিগুড়ি পৌরনিগমের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে সাংগঠনিক তৎপরতা। শহরের সমস্ত ওয়ার্ড গুলিতে সংগঠনকে শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে স্থানীয় স্তরে জনসংযোগ বৃদ্ধি সহ একাধিক বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। ফলে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনকে ঘিরে তৈরি হওয়া শহর শিলিগুড়িতে রাজনৈতিক জল্পনা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)