বাড়ির মহিলাদের টানা ছুটি, পুরুষদের হাতেই কংসবণিক দুর্গাবাড়ির ৩৫০ বছরের পুজোর সব দায়িত্ব
Malda Traditional Durga Puja:
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এ এক অন্য পুজো! এই পুজোয় মেয়ে বা মহিলারা নন, পুজোর নৈবেদ্য সাজানো থেকে জোগাড়, সব সামলান পুরুষরাই। মহিলাদের টানা ছুটি মালদার এই ঐতিহ্যবাহী পুজোয়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও আয়োজনে অনেক পরিবর্তন এসেছে ঠিকই, কিন্তু প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সাবেকি রীতিনীতিকে আজও সগৌরবে বয়ে নিয়ে চলেছে মালদার আদি কংসবণিক দুর্গাবাড়ি।
এই পুজোয় মণ্ডপ তৈরি থেকে শুরু করে প্রতিমা সাজানো, নৈবেদ্য প্রস্তুত করা, বেলপাতা কাটা- পুজোর সমস্ত যাবতীয় আয়োজন ও কাজ পরিবারের পুরুষ সদস্যরাই করে থাকেন। অন্য নানা পুজোয় যেখানে মহিলারা পুজোর জোগাড়ে ব্যস্ত থাকেন, সেখানে কংসবণিক দুর্গাবাড়িতে পুজোর দিনগুলোতে একেবারে উলটপুরাণ! বাড়ির মহিলাদের একদম ছুটি। তাঁরা নতুন শাড়ি, গয়না পরে মণ্ডপে আসেন শুধু আনন্দ করতে। কাজ থেকে তাদের পুজোর কদিন একদম ছুটি।
কংসবণিক দুর্গাবাড়ির এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে ইতিহাস। কথিত আছে, বহু বছর আগে স্থানীয় মহানন্দা নদীর নিমতলী ঘাটে স্নান করতে গিয়ে এক বৃদ্ধার মাথায় একটি পাথরের চক্র এসে লাগে। তিনি সেই পাথরটি বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর স্বপ্নাদেশে দেবী চণ্ডী তাঁকে আরাধনা করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনার পরই তৎকালীন জমিদার গিরিজা কান্ত দাসের উদ্যোগে এই পুজোর সূচনা হয়। পরবর্তীতে পুজোর সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় কংসবণিক সম্প্রদায়ের হাতে। দুর্গাবাড়ির বর্তমান মন্দিরটি প্রায় ১৭৬ বছর আগে তৈরি।
দুর্গাবাড়ির প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয় রথযাত্রার দিন থেকে। ঐতিহ্য মেনে মহালয়ার দিন মৃৎশিল্পী দেবীর চক্ষুদান করেন। ডাকের সাজ এবং বিশেষ 'হরিণচোখ'-এ দেবী সেজে ওঠেন। প্রথমে দেবী চণ্ডী হিসেবে আরাধনা করা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেবী দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী রূপ পেয়েছেন। সেই রূপেই পূজিত হয়ে আসছেন। সাবেকি একচালার প্রতিমায় দেবীর সঙ্গে স্থান পায় মোট ২২টি মূর্তি। মাথার ওপরে থাকেন শিব। দু' পাশে নন্দী-ভৃঙ্গী। সেইসঙ্গে রাম-লক্ষ্মণ এবং লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। পুরো পরিবারকে এখানে দেখতে পাওয়া যায়।
মহালয়ার দিন সকাল-সন্ধ্যা চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দুর্গাবাড়িতে উৎসবের সূচনা হয়। ষষ্ঠীতে দেবী বোধন ও সপ্তমীতে সাবেকি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এরপর বিজয়া দশমীতে দেবীকে নৌকায় বসিয়ে মহানন্দা নদীর মিশন ঘাটে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। ঐতিহ্য মেনে আজও সব প্রথা অটুট রয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)